খিঁচুনি কেন হয়
- লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আমাদের সমাজে খিঁচুনি নিয়ে নানা ধরনের ভুল ধারণা ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণ একটি শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে (nerve cells) হঠাৎ অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সিগন্যাল বা কার্যকলাপ তৈরি হলে খিঁচুনির সৃষ্টি হয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হাত-পা কাঁপা, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখ উল্টে যাওয়া অথবা কিছুক্ষণের জন্য অস্বাভাবিক আচরণ বা শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারেন।
খিঁচুনির প্রধান কারণগুলো হলো
• সবচেয়ে সাধারণ কারণ মৃগী রোগ
• বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জ্বরজনিত খিঁচুনি হতে পারে
• বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক হলে
• দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর মস্তিষ্কের সংক্রমণ মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিস
• মস্তিষ্কে টিউমার
• রক্তে শর্করা খুব কম বা খুব বেশি হওয়া
• সোডিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি
• অ্যালকোহল বা মাদক সেবন ও তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে
• কিছু ওষুধ বা বিষক্রিয়া
• কখনো সব পরীক্ষার পরও নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে সেটি প্রাথমিক এপিলেপসি হতে পারে
প্রথমবার খিঁচুনি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা, মস্তিষ্কের সিটি/এমআরআই এবং ইসিজি করে নিন।
খিঁচুনি হলে করণীয়
• রোগীকে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিন
• আশপাশের বিপজ্জনক জিনিস সরিয়ে দিন
• মুখে কিছু দেবেন না এবং জোর করে ধরে রাখবেন না
• খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে তা লক্ষ করুন
জরুরি হাসপাতালে নিতে হবে যদি
• খিঁচুনি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়
• পরপর খিঁচুনি হলে
• প্রথমবার খিঁচুনি হয়
• খিঁচুনির সময় যদি আঘাত লাগে
• গর্ভাবস্থা থাকে বা শ্বাসকষ্ট হয়
খিঁচুনি প্রতিরোধের উপায় নির্ভর করে এর কারণের ওপর। তবে সাধারণভাবে নিচের বিষয়গুলো মেনে চললে খিঁচুনির ঝুঁকি কমানো যায়:
• যদি এপিলেপসি (মৃগী) থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়মিত খান। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করবেন না
• পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
• অ্যালকোহল ও মাদক এড়িয়ে চলুন
• সময়মতো খাবার খান এবং রক্তে শর্করা খুব কমে যেতে দেবেন না
• জ্বর হলে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, দ্রুত চিকিৎসা নিন
• মাথায় আঘাত এড়াতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করুন
যদি কোনো নির্দিষ্ট কারণে (যেমন ঝলমলে আলো, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মানসিক চাপ) খিঁচুনি হয়, সেগুলো এড়ানোর চেষ্টা করুন।
লেখক: এমবিবিএস (ডিএমসি) এফসিপিএস (মেডিসিন), এমএসিপি (ইউএসএ) সহযোগী কনসালট্যান্ট, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটাল




