গর্ভাবস্থায় যেসব সতর্কতা মেনে চলবেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গর্ভাবস্থা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল অবস্থা। গর্ভে শিশু বেড়ে ওঠার প্রতিটি পর্যায়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মুহূর্তেই মাকে সতর্ক থাকতে হয়, তবু কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রয়েছে বাড়তি সতর্কতা।
প্রথম ট্রাইমেস্টার
প্রথম ১২ সপ্তাহ বা প্রথম তিন মাসকে প্রথম ট্রাইমেস্টার ধরা হয়। এ সময় অন্তত একবার চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চেকআপ করা বাধ্যতামূলক। এ সময় থেকে প্রতিদিন তিন-চার লিটার পানি পান করতে বলা হয়। প্রথম তিন মাস ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক। তারপরও রয়েছে কিছু বাড়তি সতর্কতা—
- এ সময় বমি হওয়া স্বাভাবিক, তবে অতিরিক্ত বমি হেল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
- রক্তপাত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
- ১২-১৩ সপ্তাহের মধ্যে এনটি স্ক্যান আলট্রাসাউন্ড করে বাচ্চার সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার
গর্ভাবস্থার ১৩ থেকে ২৭ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে সেকেন্ড ট্রাইমেস্টার বলা হয়। তখন প্রতি মাসে একবার নির্দিষ্ট চিকিৎসকের অধীনে চেকআপ করতে হবে। এ সময় বাচ্চার নড়াচড়া টের পাওয়া যায়, নড়াচড়া কম মনে হলে অবশ্যই সেটি পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। ১৮-২৪ সপ্তাহের ভেতরে অ্যানোমালি স্ক্যান আলট্রাসাউন্ড করে দেখতে হবে বাচ্চার বৃদ্ধিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। এ ছাড়া নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—
- পেট শক্ত ও অসহনীয় ব্যথা হলে।
- মাথা ঘোরানো, প্রচণ্ড বমি ও পুরো পেট বা পেটের ওপরের অংশ শক্ত হয়ে গেলে।
তৃতীয় ট্রাইমেস্টার
গর্ভাবস্থার ২৮তম সপ্তাহ থেকে শুরু করে সন্তান প্রসব পর্যন্ত সময়কে তৃতীয় ট্রাইমেস্টার বলা হয়। এটি গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস। এ সময়টি শিশুর চূড়ান্ত বৃদ্ধি এবং প্রসবের প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অন্তত তিনবার চেকআপ করা দরকার। ২৮-৩০ সপ্তাহের ভেতরেই গ্রোথ স্ক্যান আলট্রাসাউন্ড করে দেখতে হবে, শিশুর ওজন ঠিক আছে কি না। এ ছাড়া কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—
- পায়ে অতিরিক্ত পানি জমা হলে।
- উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিলে।
- রক্তস্রাব ও তীব্র ব্যথা দেখা দিলে।
- অল্প অল্প করে পানি ভাঙলে।
লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট, অবস অ্যান্ড গাইনি, ওজিএসবি হাসপাতাল অ্যান্ড আইআরসিএইচ




