শরীফের জীবনের গাড়ি চলছে না

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিঃস্ব অটোরিকশাচালক শরীফ। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন মানবিক সহায়তা— লিখেছেন আখলাকুজ্জামান অনিক ও সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়
ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তেন শরীফ মিয়া। স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে সারা দিন ছুটে বেড়াতেন কিশোরগঞ্জের রাস্তায় রাস্তায়, গন্তব্যে পৌঁছে দিতেন যাত্রীদের। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে ক্লান্ত শরীরে যখন স্ত্রী-সন্তানের মুখের দিকে তাকাতেন, সব ক্লান্তি যেন এক নিমেষে মিলিয়ে যেত। পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা গ্রামের এই সহজ-সরল মানুষটির জীবনে অভাব ছিল; কিন্তু শান্তিও ছিল। সেই শান্তি আজ নিঃশব্দে কেড়ে নিয়েছে একটি রোগ।
দেড় বছর আগের কথা। হঠাৎ পেটে ব্যথা নিয়ে কাতরাতে শুরু করেন শরীফ। প্রথমে ভেবেছিলেন সাধারণ সমস্যা, সময়ে সেরে যাবে। কিন্তু ব্যথা কমেনি; বরং আরও জেঁকে বসেছিল শরীরে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে নিয়ে চোখের সামনে যেন অন্ধকার নেমে আসে গোটা পরিবারে। ধরা পড়ে ব্লাড ক্যানসার। যে মানুষটি প্রতিদিন অন্যকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতেন, নিজের জীবনের গন্তব্যটাই আজ তার কাছে অচেনা, অনিশ্চিত।
এরপর শুরু হয় এক যুদ্ধ। রাজধানীর হাসপাতালের করিডরে করিডরে ঘুরতে হয় তাকে, আর প্রতি সপ্তাহে গুনতে হয় ৪০-৫০ হাজার টাকা। অটোরিকশা চালিয়ে সারাজীবনের সঞ্চয় যা ছিল, তা এক বছরেই নিঃশেষ। এখন হাত পাততে হয় প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজনের কাছে। প্রতিটি ধারের টাকা যেন একটুকরো সময়— যা কিনে দেয় আরেকটু বেঁচে থাকার সুযোগ।
কাঁপা কাঁপা গলায় শরীফ বললেন, ‘যা আয় করেছি, সব চিকিৎসায় শেষ। এখন ধার করে চালাচ্ছি; কিন্তু আর পারছি না। চিকিৎসা বন্ধ হলে বাঁচার আশা নেই।’ এই কথাগুলোর পেছনে লুকিয়ে আছে ভয়, অসহায়ত্ব আর সন্তানদের জন্য বেঁচে থাকার তীব্র আকুতি।
‘আমরা আর পারছি না। যাদের সামর্থ্য আছে, একটু দয়া করুন, আমার সন্তান দুটোর মুখের দিকে তাকিয়ে।’
ঘরে অপেক্ষায় আছে দুটি নিষ্পাপ মুখ— সাড়ে ১০ বছরের তোয়া মনি আর পাঁচ বছরের সাফওয়ান। বাবার অসুখের ভারী নাম তারা এখনো বুঝে উঠতে পারে না; কিন্তু মায়ের ঘুমহীন চোখ, বাবার শয্যাশায়ী দিনগুলো, ঘরের ভেতর জমে থাকা নীরব উৎকণ্ঠা— এসব ঠিকই তাদের ছোট্ট মনে ছাপ ফেলে যাচ্ছে প্রতিদিন।
স্ত্রী তাহমিনার কণ্ঠে যেন ভেঙে পড়ার শব্দ। সংসারের একমাত্র ভরসা যখন হাসপাতালের বিছানায়, তখন সন্তানের মুখে খাবার আর স্বামীর ওষুধ, দুইয়ের মাঝে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয় তাকে। তিনি বললেন, ‘চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলেই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন উনি। আমরা আর পারছি না। যাদের সামর্থ্য আছে, আমার সন্তান দুটোর মুখের দিকে তাকিয়ে একটু দয়া করুন।’
প্রতিবেশীরাও বলছেন, পরিশ্রমী এই মানুষটি একসময় নিজের হাতেই সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন, আজ সেই হাতই কাঁপে দুর্বলতায়। তবু আশা ফুরিয়ে যায়নি— সময়মতো চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে বলেই বিশ্বাস তাদের।
জীবন আর মৃত্যুর মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির চোখে এখনো একটাই স্বপ্ন— সন্তানদের মুখে আবার হাসি ফোটানো। ভাঙা গলায় শরীফ বললেন, ‘আপনাদের সামান্য সাহায্যই আমাকে বাঁচার আরেকটা সুযোগ দিতে পারে।’
অটোরিকশাচালক শরীফ। আপনাদের সামান্য সহযোগিতা তাকে দিতে পারে স্বস্তি, ফিরিয়ে আনতে পারে মৃত্যুর দুয়ার থেকে।
সাহায্যের জন্য
বিকাশ, নগদ
০১৬১২-৫৮৫৮৯৫



