মানবিক আবেদন
স্বপ্নের দুবাই থেকে মরণফাঁদে রাফেল বাঁচতে চান

রেজোয়ান চৌধুরী রাফেল, ছবি: রাফেলের সৌজন্যে
বাবা হিসাব মেলান। কত টাকা ধার, কত বাকি। মা জায়নামাজে বসে কাঁদেন; ঠোঁট নড়ে, কিন্তু শব্দ বেরোয় না। ছোট দুই ভাই আর এক বোন বুঝতে পারে, কিছু একটা হচ্ছে। কিন্তু কী হচ্ছে, তা বোঝার বয়স তাদের হয়নি। আর এভারকেয়ার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রেজোয়ান চৌধুরী রাফেল— তিন ভাই ও এক বোনের সংসারের বড় ছেলে— লড়াই করছেন বাঁচার জন্য। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সংসারে টানাটানি নিত্যসঙ্গী। কিন্তু স্বপ্ন ছিল— বড় ছেলে বিদেশ যাবে, সংসারের হাল ধরবে, মা-বাবার মুখে হাসি ফুটবে। সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ধারদেনা করে, কষ্টের পয়সা জোগাড় শেষে রাফেলকে পাঠানো হলো দুবাইয়ে। সেখানে পৌঁছেই দালালের ফাঁদে পড়েন রাফেল। কী যন্ত্রণা সেই দুই বছরে, তা ভাষায় বলার নয়! তারপর একদিন চাকরি জুটল। বদলাতে শুরু করল সময়। রাফেল স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন— বেতন পাবেন, টাকা পাঠাবেন, বাবার ঋণ শোধ হবে, মায়ের কষ্টের দিন ফুরোবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বেশিদিন টিকল না। অসুস্থতা এলো চুপিসারে। ফুসফুসে সংক্রমণ। কর্তৃপক্ষ আর রাখতে পারল না— ফোর্স ব্যাক। ক্রিটিক্যাল অবস্থায় দুবাই থেকে ঢাকায় ফিরলেন রাফেল। ঢাকা এয়ারপোর্টে নামার পর সরাসরি মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে। শুয়ে থাকা যাচ্ছে না— বসে ঘুমাতে হচ্ছে। ১১ দিন এভাবেই কাটল। অবস্থার উন্নতি নেই। নির্বাক মা-বাবা লোক ধরে ধরে ছেলেকে স্থানান্তর করলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু দু-তিন দিনে আরও অবনতি। প্রয়োজন ইমার্জেন্সি আইসিইউ। দেশের সরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে আসনের সংকট পুরনো সমস্যা। মুমূর্ষু রাফেলকে নিয়ে গভীর রাতে এক আত্মীয় ছুটলেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। ভর্তি হলেন। তিন দিনে উন্নতি দেখা গেল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই এলো আরেকটি আঘাত। রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ল— লিম্ফোমা; ব্লাড ক্যানসার। তবে চিকিৎসকরা জানালেন, সঠিক চিকিৎসায় এটি নিরাময়যোগ্য। মানে রাফেল বাঁচতে পারেন; ফিরে আসতে পারেন পরিবারের কাছে। কিন্তু সেই চিকিৎসার জন্য চাই অনেক টাকা। যার জোগান দেওয়া এই পরিবারের সাধ্যের বাইরে।




