হিথ্রো থেকে কার্ডিফ
শিক্ষার্থীদের জন্য গাইডলাইন

ইউকে এসেই প্রথমে মনজো অ্যাকাউন্ট, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স নম্বর করে ফেলতে হবে। আর হ্যাঁ অবশ্যই জিপি রেজিস্ট্রেশন
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন জিনিয়া ফেরদৌস। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসের এমবিএ গ্লোবাল শিক্ষার্থী
১৪ সেপ্টেম্বর যখন হিথ্রো বিমানবন্দরে প্লেন থেকে নামলাম, দেখি সবাই দৌড়াচ্ছে, মানে দ্রুত হাঁটছে! বুক ভরে বাতাস নিলাম, তারপর ইমিগ্রেশনের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। নানান বৈচিত্র্যের মানুষ দেখে খুবই ভালো লাগল। লাইন খুঁজে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বুকের ভেতর ধড়ফড়ানির শব্দে নিজেই ভয় পেয়ে গেলাম।
উচ্চ শিক্ষার্থে এখানে (ইংল্যান্ডের বিমানবন্দরে) এলে সবাই ভেবে নেয় যে (আমিও এরকম ভেবেছিলাম) অনেক পেপার, যেমন— ই-ভিসা কপি, বাসার কনফার্মেশন কপি, ক্যাশ কপি, এনরোল্ড কপি, সার্টিফিকেট সবই লাগে; কিন্তু আমার কাছে শুধু ক্যাশের কপিটাই চেয়েছিল। এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাথা ঠান্ডা রাখাটা খুব কষ্টের। তারপরও যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকাই ভালো। কপিতে সিল দেওয়ার পর যখন বিপরীত দিকে গেলাম, খুশিতে কেঁদে ফেলেছিলাম।
এর পর গেলাম লাগেজ নিতে। যেহেতু অন্য আরেকটা শহরে যাব, তাই আমাকে বাস ধরতে হবে। এখানে একটু বলে নিই, আমরা অনেকেই ভাবতে পারি এয়ারপোর্ট থেকেই বাসের টিকিট কাটা যাবে। কিন্তু এটি সঠিক সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। আমি এখানে আসার এক সপ্তাহ আগেই দেশে বসে অনলাইনে টিকিট কেটে নিয়েছিলাম। এতে অবশ্য ১০ পাউন্ড বেশি খরচ হয়েছিল। আরও আগে কাটলে আরও কমেই পেয়ে যাবেন। লাগেজ কয়টা নিতে পারবেন, আগেই দেখে নেবেন। আমার সামনেই একটা পরিবারের চারটা লাগেজ বেশি ছিল। কিন্তু সেগুলো বুকিং দেওয়া ছিল না। এতেই বাধে বিপত্তি। ড্রাইভার পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, তাদের নিতে পারবে না। কারণ ওই লাগেজগুলো রাখার জায়গা বাসে নেই!
মাসটা ছিল সেপ্টেম্বর। সঙ্গে একটা জ্যাকেট রেখেছিলাম। শীতের কাপড় এখানকার টিকে ম্যাক্স বা মাউনটেইন বা যেকোনো চ্যারিটি দোকান থেকেই কেনা উচিত। সেপ্টেম্বরে এলে অবশ্যই ছাতা নিয়ে আসতে হবে। সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি আর ঠান্ডা দুটোই থাকে।
প্রথম যে বাসায় উঠলাম, ঘরে গিয়েই দেখি রুমে েকানো লক নেই এবং ফ্যানও নেই! আজও ফ্যান ছাড়াই আছি। খাবার নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি, কারণ ইউকেতে সব পাওয়া যায়। হালাল শপ সব জায়গায় আছে।
এখানে রাত ২টা অথবা ৩টা যা-ই বাজুক, রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করা যায়। যে শহরে থাকি, শহরটা খুব সুন্দর। এটা সাউথ ওয়েলসের কার্ডিফ শহর। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ওয়েলস এর এমবিএ গ্লোবাল এ পড়ার সুবাদে আমি এ শহরেই থাকছি। দেশ থেকে যারা ইউকে আসবেন, এসেই প্রথমে মনজো অ্যাকাউন্ট, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স নম্বর করে ফেলতে হবে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই জিপি রেজিস্ট্রেশন। কাজের জন্য গ্লাসডোর বা ইন্ডিড-এ অ্যাকাউন্ট করেই অ্যাপ্লাই করা শুরু করতে হবে; ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স নম্বর ছাড়া কোথাও জব হবে না। আরেকটা ব্যাপার, যেকোনো সমস্যায় নির্দিষ্ট কাস্টমার কেয়ার লাইনে ফোন দিয়ে কথা বললে সমাধান পাওয়া যায়। সেপ্টেম্বরে যেহেতু বাসা বা কাজ পেতে অনেক চাপ থাকে, তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখতে হবে। রেস্টুরেন্ট বা ওয়্যার হাউজগুলোতে কাজের সুযোগ অনেক বেশি। ফলে সেভাবে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করাটাই ভালো। এসব জায়গায় কাজের ক্ষেত্রে বেশ ভালো রকম শারীরিক ঝক্কি থাকে। তাই নিজের শরীরের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।







