কাজের জায়গায় পেশাদারিত্ব জরুরি

প্যারিসকে দূর থেকে দেখলে মনে হয়, এটি রূপকথার কোনো শহর। তবে ফ্রান্সের বাস্তবতায় একজন বাংলাদেশি প্রবাসীর অভিজ্ঞতা আলাদা। কারণ নিজের দেশের স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে ইউরোপে আসার সময় আনন্দের পাশাপাশি অনিশ্চয়তাও কাজ করে।
প্যারিসে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে শহরটির স্থাপত্য। আইফেল টাওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে দেখার অনুভূতি ছবিতে দেখার মতো নয়। শঁ দ্য মার্স-এর বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর থেকে টাওয়ারটির দিকে তাকালে এর বিশালত্ব অনুভব করা যায়। আবার সেঁ নদীর দিক থেকে তাকালে প্যারিসের এই টাওয়ার যেন পুরো শহরের পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। বিকালের আলোয় আইফেল টাওয়ারের চারপাশে মানুষের ভিড়, ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং দূরে শহরের স্থাপত্য মিলে তৈরি করে এক বিশেষ পরিবেশ।
প্যারিসের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা নটর ডেম ক্যাথিড্রাল। ২০১৯ সালের অগ্নিকাণ্ডের পর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পুরো বিশ্বের মানুষের আবেগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। লুভরে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ‘মোনালিসা’ দেখতে দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও এর বিশাল সংগ্রহশালা ইতিহাস ও মানবসভ্যতার দীর্ঘ যাত্রাকে সামনে নিয়ে আসে।
প্যারিসের চেনা জায়গাগুলোর বাইরেও আছে আরেক প্যারিস আছে। সেঁ নদীর তীরে হাঁটা, পুরনো বই ও পোস্টকার্ডের দোকান দেখার অভিজ্ঞতা অনেক সময় বিখ্যাত কোনো পর্যটনস্থল দেখার চেয়েও বেশি স্মরণীয় হয়ে ওঠে। তবে পর্যটকের প্যারিস আর প্রবাসীর বাস্তবতা ভিন্ন। প্রবাসজীবনে কাজ আছে, দায়িত্ব আছে, অর্থনৈতিক হিসাব আছে, কাগজপত্রের চিন্তা আছে, বাসস্থানের সমস্যা আছে এবং নতুন সমাজে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা আছে।
ফ্রান্সে কাজের জায়গায় সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব ও যোগাযোগের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফরাসি ভাষা প্রবাসজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভাষা না জানার কারণে ছোট বিষয়ও বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, সমাজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক তৈরি করার জন্যও এটি প্রয়োজন।
নতুন দেশে নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সংস্কৃতি এবং নিয়মকানুন বুঝে নেওয়া জরুরি। এই দেশের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম সবসময় অর্থনৈতিক নয়। নতুন সমাজে নিজের জায়গা তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই যারা ফ্রান্স বা ইউরোপে আসতে চান, তাদের বলবো— স্বপ্ন দেখুন, কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তব পরিকল্পনাও রাখুন। ফরাসি ভাষা শিখুন। নিজের পেশাগত দক্ষতা বাড়ান। বৈধ পথে আসুন।
লেখক: হসপিটালিটি পেশায় জড়িত



