ডালাসে বাংলাদেশ

ডালাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বিনোদন হলো সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া করা
ডালাসের বাংলাদেশি কমিউনিটি অনেক বড় এবং বৈচিত্র্যে ভরপুর। সারা বছর উৎসব লেগেই আছে। ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন তো আছেই; এমনকি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে এখানে উদযাপিত হয়। যখন দেখি, যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছে এবং এখানেই বড় হয়েছে, তারাও পহেলা বৈশাখ বা একুশে ফেব্রুয়ারির মতো অনুষ্ঠান আন্তরিকভাবে আয়োজন আর উদযাপন করছে, তখন অবাকই হতে হয়।
এসব অনুষ্ঠানে থাকে দেশীয় খাবারের স্টল, জামা-কাপড়, গয়না ও অন্যান্য কেনাকাটার স্টল। সঙ্গে থাকে স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনেক সময় প্রধান আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠান মাতায় বাংলাদেশ থেকে আসা কোনো জনপ্রিয় শিল্পী বা ব্যান্ড দল। মানুষজন তখন রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়ে এসব আয়োজনে। খাবারের স্টলগুলোতে তখন বিরিয়ানি, তেহারি, খিচুড়ি, হাঁসের মাংস, চটপটি, ফুচকা, মিষ্টি, দইসহ নানা রকম দেশীয় খাবারের জন্য লম্বা লাইন পড়ে যায়। মঞ্চে হয়তো গান-বাজনা
চলছে; কিন্তু সেদিকে খেয়ালই থাকে না অনেকের। মজার মজার খাবার টেস্ট করে আর পরিচিত মানুষজনের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই সময় কেটে যায়।
দেশে
শেষ কবে মঞ্চনাটক দেখেছি
মনে নেই। অথচ ডালাসে
প্রায়ই মঞ্চনাটকের আয়োজন হয়। এসব নাটকের
পারফর্মাররা সবাই স্থানীয় বাংলাদেশি।
তাদের অভিনয় দেখলে সত্যিই মুগ্ধ হতে হয়। প্রবাসে
থেকেও তারা যেভাবে বাংলা
সংলাপ আর আমাদের চেনা
চরিত্রদের মঞ্চে তুলে ধরেন, তা
দেখলে মনে হয় আমরা
যেন দেশের কোনো অডিটরিয়ামে বসে
নাটক দেখছি।
আজকাল বাংলাদেশের সিনেমাও পুরো আমেরিকায় মুক্তি পায়। ডালাসও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা দল বেঁধে শাকিব খান, নিশো কিংবা অন্য জনপ্রিয় অভিনেতাদের সিনেমা দেখতে যাই। হলে বসে হইচই, চিৎকার আর উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সিনেমাগুলো উপভোগ করি। সেই মুহূর্তে মনে হয়, আমরা যেন ঢাকার বলাকা বা বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে বসেই সিনেমা দেখছি।
ডালাসে অনেক বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি আছে। এত বছর আমেরিকায় থাকলেও বিদেশি খাবারের সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত হতে পারিনি। গ্রোসারিতে গেলে দেশি মাছ, দেশি শাকসবজি, দেশি মসলা— যা পাই, তাই কিনে আনি। ভারতীয় ও পাকিস্তানি রেস্টুরেন্টের তুলনায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট হয়তো কিছুটা কম; কিন্তু তারপরও আমরা খুঁজে খুঁজে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টেই যাই। দেশি বিরিয়ানির স্বাদ তো আর ইন্ডিয়ান বিরিয়ানিতে পাওয়া যায় না। সঙ্গে চা, মিষ্টি, দই— সবকিছুই চাই একদম দেশি স্বাদের।
দেশ থেকে অনেক দূরে থাকি, এটা সত্যি। কিন্তু বাংলাদেশকে বুকে নিয়েই আমরা বেঁচে থাকি। তবু বুকের ভেতর কোথাও একটা চিনচিনে ব্যথা থেকে যায় দেশের জন্য। কবে আবার পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা হবে? কবে আবার টঙের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেব?






