প্যারিসের ডাস্টবিন এবং ...

প্যারিস শহরের একটি ডাস্টবিন। দেখতে আর দশটা সাধারণ ডাস্টবিনের মতোই। প্রতিদিন মানুষ এখানে নিয়ম করে ময়লা ফেলে। যখন এ ডাস্টবিনটির দিকে একটু গভীরভাবে তাকালাম, তখন বুঝলাম এর ম্যাজিক লুকিয়ে আছে মাটির নিচে। ডাস্টবিনের মূল অংশটি মাটির ওপর নয়, মাটির নিচে।
মাটির ওপরে যে অংশটি দেখা যায়, সেটি শুধু মুখ। বিশাল ধারণক্ষমতার কনটেইনারটি মাটির নিচে স্থাপন করা। ফলে একই জায়গায় অনেক বেশি বর্জ্য জমা রাখা সম্ভব হয়। রাস্তায় দুর্গন্ধ ছড়ায় না, আশপাশ নোংরা দেখায় না আর বারবার ময়লা বহনকারী গাড়ি পাঠানোরও প্রয়োজন পড়ে না।
নির্দিষ্ট সময়ে একটি বিশেষ ট্রাক আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো কনটেইনারটি ওপরে তুলে খালি করে আবার আগের জায়গায় বসিয়ে দেয়। নেই কোনো বিশৃঙ্খলা, নেই কোনো ময়লা ছড়ানো বা মানুষের ভোগান্তি।
আমাদের বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়। শহর বড় হচ্ছে, মানুষ বাড়ছে, কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাস্তার পাশে উপচে পড়া ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধ, ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব যেন অনেকটাই পরিচিত দৃশ্য।
বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়। শহর বড় হচ্ছে, মানুষ বাড়ছে, কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি এ সমস্যার সমাধান খুঁজতে পারি না? ফ্রান্সের এ প্রযুক্তি হয়তো আগামীকাল থেকেই বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তবে এর মূল শিক্ষা আমরা গ্রহণ করতে পারি। পরিকল্পিত নগরায়ণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা— এ চারটি বিষয়ই একটি পরিচ্ছন্ন শহরের ভিত্তি।
ফ্রান্সের রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ আধুনিক ডাস্টবিনটি দেখে আমার মনে হলো, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু তার অর্থনীতি বা বড় বড় প্রকল্পে নয়, বরং তার নাগরিক জীবনের ক্ষুদ্রতম ব্যবস্থাপনাতেও প্রকাশ পায়। হয়তো একদিন বাংলাদেশের কোনো শহরের পথচারীও এমন একটি ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে স্বস্তিতে পথ চলতে পারবে।


