Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
ভাড়া নয়, ভালোবাসায় তুষ্ট কমলেশ
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় তিনি বললেন

নাচের বাইরে কিছু করতে চাই না

ওমর শাহেদ
agamir somoy
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২
নাচের বাইরে কিছু করতে চাই না

ছবি তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন

অনেক কিছু হওয়ার সুযোগ থাকলেও শুধু নাচেই মনোনিবেশ করেছেন। নৃত্যে অনন্য অবদানের জন্য একুশে পদকও পেয়েছেন। প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপার মুখোমুখি হয়েছেন ওমর শাহেদ।

 

নাচে আপনার শুরু কীভাবে হলো?

একদম ছোটবেলায় নাচ তো না বুঝেই করেছি। শিল্পকলার নানা মাধ্যমে আমার বড় ভাইবোনদের অনেক বেশি আগ্রহ ছিল। সবাই কিছু না কিছু করত। তারাই আমাকে নাচ শিখতে তখনকার কিশোরগঞ্জ আর্টস কাউন্সিলে ভর্তি করল। নাচ তখন আমার আনন্দ ছিল। মনে যে অসম্ভব ক্ষুধা, সেটি ততটা তৈরি হয়নি। কিন্তু নাচ জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছিল। দিনের পর দিন রিহার্সেল ও অনুষ্ঠান করেছি। এভাবেই বেড়ে ওঠা। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আমাকে অসম্ভব উৎসাহ দিতেন। বলতেন, নীপা পারবে। তখন অনেক সিনিয়রকেও নাচ তুলতে সাহায্য করতাম। নিজে তো করতামই। তখনো ভাবিনি যে এটি একটি পেশা হবে। ধীরে ধীরে যখন আমার ওপর সবার আস্থা তৈরি হলো; যখন দেখলাম, সবাই ভালো বলছে; তখন মনের মধ্যে একটি ভাবনা তৈরি হলো— এই জায়গাটিতেই আমাকে আরেকটু মনোনিবেশ করতে হবে, আরেকটু ভালো কিছু করতে হবে।

 

নাচে পার্মানেন্টলি চলে এলেন কীভাবে?

শিল্পকলা একাডেমিতে একটি লোক-উৎসব হতো তখন। উৎসবে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক শিল্পী আসতেন। বোদ্ধা দর্শকরা আসতেন অনুষ্ঠানে দেখতে। আমি এসেছিলাম ময়মনসিংহের গ্রুপ ‘মন পবনের নাও’-এর সঙ্গে। আমরা ‘মহুয়া’ করছিলাম। যা ভীষণ সাড়া ফেলেছিল এবং আমার মনে আছে, আবদুল্লাহ আল মামুন, আলী যাকের থেকে শুরু করে আরও অনেকেই মঞ্চে এসে আমাদের খুব প্রশংসা করছিলেন। বলছিলেন, তোমাদের দলটি ভীষণ ভালো। তখন একটি নিয়ম ছিল— গভর্নমেন্ট ডেলিগেশনে শুধু ঢাকার শিল্পীরাই বাইরে যেত না, ঢাকার বাইরে থেকেও সুযোগ দেওয়া হতো। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সুযোগটি পাই। তখনো বুঝতে পারিনি, এটি এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন ঢাকায় এসে রিহার্সেল শুরু করলাম তখন মনে হলো, এ আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। একেবারেই কিছু না জেনে, না শুনে চর্চার মধ্যেও সেভাবে নেই; কিন্তু একটি বড় সুযোগ পেয়েছি। সেখান থেকেই আমার ভেতরে বীজটি তৈরি হয়েছে— ভালো কিছু করতে চাই। ওখান থেকে ঘুরে এসে আস্তে আস্তে এ অঙ্গনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়লাম। তখন মনে হলো, নাচের বাইরে আর কিছু করতে চাই না। এর মধ্যেই আমি আমাকে খুঁজে পাব। এভাবেই নাচের জগতের ভেতরে ঢুকে পড়লাম পার্মানেন্টলি।

 

এরপরই কি পারফর্মিং আর্টস একাডেমিতে যোগ দিলেন?

যখন পারফর্মিং আর্টস একাডেমি হলো, সারা দেশ থেকে শিল্পী বাছাই করতে সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হলো। আমি তো তখন অনেক জুনিয়র। সাতটি মেয়ে ও চারটি ছেলে নিয়ে প্রথম শুরু হয়েছিল। সেখানে যখন সাক্ষাৎকার দিতে যাই, তখন মনে হলো, এখানে আমার টিকে থাকা খুব কঠিন হবে। কারণ, সারা দেশ থেকে এত সিনিয়র নৃত্যশিল্পীরা এখানে অনুশীলন করেছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে নির্বাচিত হলাম। এটি একধরনের চাকরিই ছিল। সেখানে আমরা প্রশিক্ষণ নিতাম। সব রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান করতাম এবং বিদেশে আমরাই প্রতিনিধিত্ব করতাম।


মুস্তাফা মনোয়ার সবসময় আমার জন্য নাচের মধ্যে জায়গা তৈরি করে রাখতেন। আমাকে দিয়ে নাচগুলো কম্পোজিশন করাতেন। আমার মধ্যে যতটুকু ব্যতিক্রম বা একটু আলাদা কিছু যদি থাকে, সবটাই তার জন্য

 

যদি জানতে চাই— আপনাকে গড়েছেন কে, কার কথা বলবেন?

‘মুস্তাফা মনোয়ার’। তিনি তখন পারফর্মিং আর্টস একাডেমির মহাপরিচালক। সবসময় আমার জন্য একটি জায়গা নাচের মধ্যে তৈরি করে রাখতেন। আমাকে দিয়ে নাচগুলো কম্পোজিশন করাতেন। একসময় মনে হলো, নাচের যেকোনো ব্যাপারে তিনি আমার ওপর অসম্ভব নির্ভর করেন। আমার মধ্যে যতটুকু ব্যতিক্রম বা একটু আলাদা কিছু যদি থাকে, সবটাই তার জন্য। আমি তখন কাদামাটি ছিলাম। তিনি শামীম আরা নীপাকে হাতে ধরে মূর্তি গড়ার মতোই গড়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ারশামীম আরা নীপাকে হাতে ধরে মূর্তি গড়ার মতোই গড়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ারআমাকে হাতে ধরে একদম মূর্তি গড়ার মতোই গড়েছিলেন। কীভাবে নাচের মধ্যে সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো দিতে হয়, সহজভাবে নাচগুলো উপস্থাপন করতে হয়, নাচের যে সারল্য, লালিত্য, নান্দনিকবোধ আছে— এসব আমি তার কাছ থেকে শিখেছিলাম। পরে মনে হয়েছে, আমি বোধ হয় এই ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হব যদি সিরিয়াস না হই, যদি কাজটাকে আরও দক্ষতার সঙ্গে না করতে পারি। সেটিই আমাকে অনেক বেশি তাড়িত করেছে এবং এখন পর্যন্ত আমি যখনই যে কাজটিই করি, আমার সেরাটি দেওয়ার চেষ্টা করি। আজ অবধি কখনো নাচকে ফাঁকি দিইনি। কোনো ব্যক্তিগত কারণে জীবনে কখনো নাচকে অবহেলা করিনি। আমার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সময় আমার সেরাটি দিয়ে করার চেষ্টা করি। পারফর্মিং আর্টস একাডেিম একসময় শিল্পকলায় একীভূত হলো। শিল্পকলার সঙ্গেও দীর্ঘদিন কাজ করেছি।

 

পরিচালনায় কীভাবে এলেন?

নাচ করতে করতেই। আমাদের যারা গুরু ছিলেন, তারা আমাদের একরকম শিখিয়েছিলেন। তার বাইরে থেকে একটু নতুন কিছু দেওয়ার, একটু বর্তমান যুগের সঙ্গে মিলিয়ে কিছু করার চেষ্টা করেছি তখন থেকে। যেহেতু অনেক দেশ-বিদেশ ঘুরেছি, আমার একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। বিদেশে তারা তাদের কাজকে কীভাবে উপস্থাপন করছে, কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য দিচ্ছে লক্ষ করতাম। আমার দেশের সংস্কৃতি, লোকসংস্কৃতিকে আমার কম্পোজিশনে যোগ করে অন্য একটা ধারা তৈরি করার চেষ্টা করতাম। আমি চেয়েছি, আমাদের ফোক বা দেশীয় নাচ যেন বিদেশে খুব আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। এ কাজটি আমি খুব নিষ্ঠার সঙ্গে করেছি এবং এখন পর্যন্ত করে যাচ্ছি।

 

শিবলী মোহাম্মদের সঙ্গে আপনার জুটি কীভাবে তৈরি হলো?

যখন নাচে ক্যারিয়ার করি, তখন আমার সমসাময়িক ছেলে শিল্পী কম ছিল। দীর্ঘদিন একাই কাজ করেছি। নৃত্যগুরু পণ্ডিত বিরজু মহারাজের সঙ্গেনৃত্যগুরু পণ্ডিত বিরজু মহারাজের সঙ্গেশিবলী এলো ’৮০-এর মাঝামাঝিতে। আমার সঙ্গে কাজ শুরু করল। আমরা এক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে কত্থক তারানা করেছিলাম। সেখানে দেখলাম, সবাই খুব সাদরে গ্রহণ করছে। তখন আমিই কিছু কিছু জায়গায় বলতাম, একটি নতুন ছেলে এসেছে, আমরা একসঙ্গে কাজ করি। নতুনদের প্রতি সবাই অত আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু একটি-দুটি কাজের পর দেখেছি, আমার আর কিছু বলার প্রয়োজন হয়নি। শিবলী নিজেই নিজের জায়গাটি তৈরি করেছে। একসঙ্গে কাজ করার কথাটি আমরা নিজেরা বলার চেয়ে অন্যরাই বলছে বেশি। তখন তো একটাই টিভি ছিল— বিটিভি। সেখানে সবসময় আমরা একসঙ্গে কাজ করার অফার পেতাম। যখন মঞ্চে অনুষ্ঠান করতাম, তখনো বলত, আপনারা একসঙ্গে কাজ করেন। এভাবেই আসলে শুরু।

 

আপনাদের জুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে।

জুটির ব্যাপারটি আমি যদি বলি তাহলে বলব, এটি দর্শকের চাহিদা এবং যারা আমাদের ভালোবাসেন তাদের জন্যই হয়েছে। আমি মনে করি, এটি আমাদের জন্য খুবই প্লাস পয়েন্ট। আমরা একে অপরের সম্পূরক হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছি। এতে ভালোর দিকটাই বেশি। আমরা দর্শকের কাছে খুব কৃতজ্ঞ যে, আমাদের এই জুটিকে তারা এখন পর্যন্ত সমানভাবে ভালোবেসে যাচ্ছেন।

 

আপনারা দুজনে তো নাচের স্কুল করলেন?

২০০০ সালে ‘নৃত্যাঞ্চল’ করলাম। তার পর থেকে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের সঙ্গে মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরও ছিলেন। তিনি এখন প্রয়াত।

 

‘নৃত্যাঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা কেন করেছেন?

নিজেকে, নিজের অস্তিত্বটাকে ধরে রাখার জন্য; নিজেকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এবং নাচের শিল্পীদের একটি পথ প্রশস্ত করে দেওয়ার জন্য। কারণ আমরা মনে করি, আমাদের হাত ধরে যারা আসছে, তাদেরও একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া দরকার। আমরা ভীষণভাবে আনন্দিত এবং তৃপ্ত যে, আমাদের হাত ধরে অনেক ছেলেমেয়ে তৈরি হচ্ছে, অনেকেই নাচ নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, অনেকেই নাচের অঙ্গনটাকে সমৃদ্ধ করছে। অনেক ভালো ভালো ছেলেমেয়ে আমরা এখান থেকে পাচ্ছি। আমি মনে করি, এটি আমাদের একটা বড় সার্থকতা।

 

স্কুলটি তো রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে আছে?

ঢাকায় আমাদের দুটি শাখা আছে। একটি মগবাজার গার্লস স্কুল, আরেকটি রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে। দুটিই ভাড়া করা। আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাই বলে স্কুলগুলো চালিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। তবে আমাদের ভীষণ চাওয়া, আমাদের নিজস্ব একটা জায়গা যদি থাকত, আমরা এটি রেসিডেনসিয়াল স্কুলের মতো যদি করতে পারতাম, ঢাকার বাইরে থেকে অনেক ছেলেমেয়ে এসে এখানে থেকে আমাদের কাছ থেকে কাজ শিখতে পারত। এমনকি আমাদের ফোক নিয়ে রিসার্চ করার একটি পরিকল্পনাও আছে। কিছু কিছু কাজও আমরা করছি। এগুলোর জন্য নিজস্ব একটা পরিমণ্ডল, একটা নিজস্ব জায়গা দরকার।

 

বিরজু মহারাজের সঙ্গে আপনার অনেক স্মৃতি আছে।

কী বলব, নাচের ঈশ্বরের মতোই সবাই তাকে দেখে। আমি তাকে শুধু নাচের শিক্ষক হিসেবে দেখি না; তার মনন, শৈল্পিকবোধ, চিন্তা— অন্য পর্যায়ের। সেটি চাইলেই কেউ অর্জন করতে পারবে না। ঈশ্বর আমাদের জন্য তাকে একটি উপহার হিসেবে এই নাচের জগতের জন্য দিয়েছেন। আমার জীবনের একটা বড় সার্থকতা যে তার সান্নিধ্যে কিছু কিছু কাজ করতে পেরেছি।

 

কী কী কাজ করেছেন?

তার পরিচালনায় একটি নৃত্যনাট্যে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছি। তিনি যখন আমাদের নৃত্যাঞ্চলের কর্মশালা করাতে এসেছিলেন, এই কাজটি আমি তার সামনে করতে পেরেছি, তার প্রশংসা পেয়েছি। এ আমার জীবনের একটি বড় উপহার।

 

আমাদের দেশে নাচের ক্ষেত্রে সমস্যা কী কী?

কোনো সমস্যা নেই। শুধু পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। ইলেকট্রনিক, প্রিন্টিং মিডিয়া, মঞ্চ— সব জায়গায় নাচকে মনে করা হয় খুব সহজে করা যায়, সহজে পাওয়া যায়। একে যে গুরুত্ব েদওয়া উচিত, সম্মান দেওয়া উচিত; সেটি দেওয়া হয় না। দর্শকের কথা যদি বলি, তারা কিন্তু নাচ বোঝেন, ভালো-মন্দ বুঝতে পারেন এবং সেভাবে রিঅ্যাকশন দেন। কিন্তু ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কথা বলি— টিভি চালাচ্ছেন যারা, নাচকে একটি ভালো জায়গায় রাখার জন্য তাদের যেন কোনো দায় নেই। তারা মনে করেন, নাচ বললেই চলে আসবে। একটি নায়িকাকে বললেই নাচ করে দিচ্ছে। কাজেই যারা ২০ বছর ধরে সাধনা করছে, তাদের আর প্রয়োজন নেই। প্রিন্ট মিডিয়ায়ও একই অবস্থা; যারা মডেলিং করে বা নাটক করে, তাদের নিয়ে বড় বড় ফিচার হচ্ছে। কিন্তু যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে নাচ শিখছে; মা-বাবারাও ধৈর্যসহকারে দিনের পর দিন নাচের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে; সে জায়গাটি আমরা কিন্তু ধরি না। আমরা খুব চটুল বা খুব সহজলভ্য বিষয়গুলো খুঁজে বেড়াই। আমার কাছে মনে হয়, এটাই আমাদের খুব বড় প্রতিবন্ধকতা।

 

স্পন্সরের সংকটও তো আছে।

তা তো আছেই। এ দেশে সবকিছু হয়, শুধু নাচের স্পন্সর মেলে না। স্পন্সরের অভাবে বড় ও ভালো প্রোডাকশনে হাত

 

 

দিতে পারি না। মঞ্চের অভাব আছে, মঞ্চ পাই না। নাচের রিহার্সেলের জায়গার অভাব, রিহার্সেল করতে পারি না। সবকিছু মিলে অনেক কিছুর অভাব আছে। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি, ভালোবাসার অভাব নেই বলে এখনো নাচের শিল্পীরা ভালোভাবে কাজ করতে পারছে, মনের আনন্দে কাজ করে যাচ্ছে।

 

বাংলাদেশে নাচের ভবিষ্যৎ কেমন?

প্রচুর ভালো ছেলেমেয়ে তৈরি হয়েছে, হচ্ছে। সেটি আমাদের একটি আশার দিক। তার পাশাপাশি অনেক নাচ না জানা শিল্পীর দৌরাত্ম্যও অনেক বেশি, যারা নাচ জেনেবুঝে করে না। এটি যদি কাউন্ট না করি, তাহলে বলব প্রচুর সম্ভাবনা আছে। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও অসংখ্য ছেলেমেয়ে তৈরি হচ্ছে। নৃত্যগুরু যারা আছেন, তারা নাচের মৌলিকত্ব, নান্দনিকতাকে ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। সেদিক থেকে আমরা অনেকটাই আশাবাদী।

 

ফোক নাচ নিয়ে গবেষণা করার কথা বলছিলেন।

এটি খুব বড় কাজ। এককথায় বলা যাবে না। আমার সবসময়ের ইচ্ছা— আমাদের মৌলিক, দেশীয় জিনিসগুলো সামনে তুলে ধরব। কারণ, অন্য দেশগুলোতে যখন আমরা যাই, আমার পতাকাই কিন্তু দেখাতে হয়। অন্য দেশের পতাকা হাতে নিয়ে যেতে পারি না। আমার লাল-সবুজ পতাকাই থাকতে হবে। আমার এই লাল-সবুজের ভেতরে যা যা সংস্কৃতি, সেটিকেই তুলে ধরতে হবে। সে ক্ষেত্রে অন্তত আমাদের মৌলিক নাচ, আমাদের লোকনৃত্যকে সারা বিশ্বে তুলে ধরতে আমি সবসময় চেয়েছি। কিন্তু সে জন্য প্রচুর গবেষণা করে বিষয়গুলো তুলে আনতে হয়। এর জন্য টাকা লাগে। সেই জায়গাটি এখনো আমরা পাইনি বলে অনেকটাই পিছিয়ে আছি। তবে ইচ্ছা আছে, ভবিষ্যতে এই কাজগুলো আরও বড় পরিসরে নিয়ে আসব।

 

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে নাচের প্রতি আগ্রহ কেমন?

অবশ্যই ভালো। কারণ, এ পর্যন্ত তো আমরা কিছু না পেয়েই নাচটি করে যাচ্ছি। সে ক্ষেত্রে আমাদের যারা ফলো করছে, যারা আমাদের মতো করে নাচকে ভালোবাসে, তারাও কিন্তু পাওয়ার আশায় করছে না। একেবারে নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েই নাচের অঙ্গনটি ধরে রেখেছে। তাদের প্রাপ্তি একটা জায়গায় আছে, সেটি হচ্ছে দর্শকের ভালোবাসা। যারা নাচ বোঝে, নাচ ভালোবাসে তারা তাদের সম্মান করবে, তাদের বোঝার চেষ্টা করবে— সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য।

 

আপনি বহু দেশে নাচের পারফরম্যান্স করেছেন।

যেখানে যেখানে সরকারের সাংস্কৃতিক চুক্তি আছে, আমার মনে হয় প্রায় সব দেশেই আমার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। যখন পারফর্মিং আর্টস একাডেমিতে জয়েন করেছিলাম, আমাদের কাজই ছিল বিদেশে সফর এবং রাষ্ট্রীয় প্রধানরা যখন আসবেন, তাদের উদ্দেশ্যে পারফর্ম করা মানে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান করা। কাজেই আমরা ভাগ্যবান, যারা সেই সময়ে কাজ করেছি, তারা প্রচুর দেশ দেখার সুযোগ হয়েছে, প্রচুর ভালো ভালো কাজ করার সুযোগ হয়েছে। যেটি এখন হয়তো নেই।

 

টিভিতে অভিনয় করেছেন, বিজ্ঞাপনেরও মডেল হয়েছেন।

শোনেন, অনেক কাজ করতে হয়, অনেক কাজ করার জন্য করা। আমি যে খুব সিরিয়াসলি নাটকে অভিনয় করেছি তা না। অনেক সময় প্রডিউসাররা অনুরোধ করেছেন, করো এটি। ব্যস করেছি। আমার মূল ফোকাস সবসময় নাচেই ছিল, আমি নাচেই থেকে যেতে চেয়েছি। মডেলিংও দু-একটি যা করেছি, নাচ ওরিয়েন্টেড। লাক্সের মডেল হয়েছি একজন নাচের তারকা হিসেবে। কাজেই আলাদাভাবে মডেলিংটাকে দেখি না। আমি নাচের সুযোগের মধ্যে যে কাজগুলো হয়েছে, সেগুলো করেছি। আর এগুলো সামান্য জিনিস, এগুলো নিয়ে খুব বড় করে কিছু বলার নেই। আমি নাচ নিয়েই থাকতে চেয়েছি, আমি নাচ নিয়েই আছি।

 

আপনি নাচের জন্য একুশে পদক পেয়েছেন।

এটি আনন্দ ও সম্মানের যে রাষ্ট্র আমাকে এই সম্মান দিয়েছে এবং বুঝতে পেরেছে যে আমি শুধু নাচ নিয়ে, নাচের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। এজন্য আমি রাষ্ট্রের কাছে কৃতজ্ঞ।

(৩ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা)

 

প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পীশামীম আরা নীপামনোনিবেশরিহার্সেল
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    Advertisement placeholder
    Advertisement placeholder
    ইরানের বিয়ে বাড়িতে মার্কিন হামলা, শিশুসহ নিহত ৫

    ইরানের বিয়ে বাড়িতে মার্কিন হামলা, শিশুসহ নিহত ৫

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮

    খেলাপিরা হবেন আরও বড় খেলাপি

    খেলাপিরা হবেন আরও বড় খেলাপি

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭

    ১৫০০ কোটি টাকার ধাক্কায় পেছাল এক গ্রেড এক পেনশন

    ১৫০০ কোটি টাকার ধাক্কায় পেছাল এক গ্রেড এক পেনশন

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২

    চার দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

    চার দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭

    এমপিওভুক্তদের জন্য লাগবে বাড়তি সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা

    এমপিওভুক্তদের জন্য লাগবে বাড়তি সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬

    সরকার পেল ২ লাখ, বন কর্তাদের ঘুষ ২৩ লাখ

    সরকার পেল ২ লাখ, বন কর্তাদের ঘুষ ২৩ লাখ

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:০৪

    যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনকে দায়ী করে বন্যার ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল

    যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনকে দায়ী করে বন্যার ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৪

    এনসিপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদত্যাগ

    এনসিপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতির পদত্যাগ

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩২

    জ্বালানি সংকটের কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী, দেখালেন সমাধানের পথ

    জ্বালানি সংকটের কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী, দেখালেন সমাধানের পথ

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৮

    স্কুল থেকে বিয়ে বাড়ি— ইরানে মার্কিন হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না কিছুই

    স্কুল থেকে বিয়ে বাড়ি— ইরানে মার্কিন হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না কিছুই

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪

    কমলাপুরে রেললাইনের পয়েন্টে আটকে গেল কিশোরের পা, আসছিল ট্রেন

    কমলাপুরে রেললাইনের পয়েন্টে আটকে গেল কিশোরের পা, আসছিল ট্রেন

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৮

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে দুদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

    ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে দুদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২০

    সাবেক দুই সেনাসদস্যকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

    সাবেক দুই সেনাসদস্যকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৯

    ঘুষ নেওয়ায় চাকরি হারালেন এনবিআর কর্মকর্তা

    ঘুষ নেওয়ায় চাকরি হারালেন এনবিআর কর্মকর্তা

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৬

    হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা

    হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৩

    advertiseadvertise