বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বমঞ্চে

ইতালির রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন বাসান্ত সাউদ
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরাও নানা ধরনের গবেষণায় যুক্ত আছেন। কৃষি ফসল ও গবাদি পশুর বিভিন্ন রোগবালাই নির্মূলে তারা কাজ করে চলেছেন; উল্লেখযোগ্য সাফল্যও লাভ করছেন। তাদেরই একজন গবেষক বাসান্ত সাউদ। তিনি অবশ্য বাংলাদেশি নন; নেপালি ছাত্র। জন্মভূমি নেপাল থেকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য এসেছেন। এখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগে মাস্টার্সে পড়ালেখা করছেন। পাশাপাশি গবেষণায় যুক্ত থেকে প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তিনি। এ জন্য গবেষণামূলক কাজ করে চলেছেন। প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আমেনা খাতুনের অধীনে বিভিন্ন গবেষণায় যুক্ত হয়ে মাঠ পর্যায়ের প্রাণীর রোগ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বললেন, ‘গবেষণাকাজে আমার সুপারভাইজার যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। এই গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান আমার দেশ নেপালের গবাদি পশুর ওপর প্রয়োগ করতে পারব। এ ছাড়া ভবিষ্যতে একজন গবেষক হিসেবে পরিিচতি পাওয়ারও সম্ভাবনা আছে।’ গবেষণার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে বাসান্ত বললেন, ‘বাংলাদেশে গবাদি পশুর মধ্যে পিপিআর বা পেস্টি ডে পেটিটস রুমিন্যান্টস রোগ আছে। এটি ছাগল ও ভেড়ার অত্যন্ত সংক্রামক ও জীবনঘাতী একটি ভাইরাসজনিত রোগ। গোট প্লেগ নামেও রোগটি পরিচিত। এ ছাড়া গবাদি পশুর ক্ষুরা রোগ ও ভাইরাসজনিত সংক্রামক লাম্পি স্কিন ডিজিজ হয়। এসব রোগের কারণে গরু, ছাগল ও মহিষের উৎপাদন কমে যায়, তারা মারা যায়। পাশাপাশি খামারিরাও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এসব রোগের প্রাদুর্ভাব, বিস্তারের ধরন এবং কীভাবে রোগগুলো নিয়ন্ত্রণ ও কমিয়ে আনা যায়— তা নিয়ে গবেষণা করছি।’ এই গবেষণার জন্য এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন বাসান্ত সাউদ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহযোগিতায় ইতালির রোমে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তিনি। সেখানে পিপিআর নির্মূলকরণ বিষয়ক ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার এমন স্বীকৃতি শুধু শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরই নয়; নিজ দেশ নেপালেরও মুখ উজ্জ্বল করেছে। এই স্বীকৃতিকে তার গবেষণাকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরাও। ভবিষ্যতে প্রাণীর রোগ নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা করে পশুস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে বাসান্তের। তার গবেষণার সুপারভাইজার ড. আমেনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের গবেষণার সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা নমুনা সংগ্রহ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, তথ্য বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ধাপে অংশ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা হাতে-কলমে গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং ভবিষ্যতে প্রাণিস্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।’



