সাউরেস পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়েছে

শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ
নানা প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তাহিরুল হাসান ফাহিম
শেকৃবির সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে করেন?
সবচেয়ে বড় অর্জন কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় তৈরি করা। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু কৃষিবিদ তৈরি করছে না; কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান ও গবেষণা তৈরি করছে। আমি আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি— শেকৃবির গবেষণা এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ৯০০ গবেষণা প্রবন্ধ Scopus-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো কিউএস এশিয়া ও টাইমস হায়ার এডুকেশনের মতো আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে। রিসার্চ ডটকম র্যাংকিং ২০২৫-২৬-এ বাংলাদেশে শেকৃবি প্রথম হওয়াও আমাদের গবেষণা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পর আপনার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনটি?
একটি নির্দিষ্ট অর্জনের কথা বললে বলব, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিত, স্বচ্ছ এবং গবেষণাভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। ৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক এমওইউ, গবেষকদের প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃতির মাধ্যমে গবেষণার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় অপ্রয়োজনীয় কোটা কমিয়ে মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; পোষ্য কোটা বাতিলসহ মোট কোটা ১১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। কোটা পূরণ না হলে শূন্য আসন মেধাতালিকা থেকে পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এই সংকট নিরসনে আপনার প্রশাসনের পরিকল্পনা?
বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হলেও শিক্ষক পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের বিষয় রয়েছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃজন ও শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন?
ভেটেরিনারি শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর টিচিং হাসপাতাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জায়গা নয়; শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং ক্লিনিক্যাল গবেষণারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বর্তমানে জনবল সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদ ও জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করে অনুমোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবা কার্যক্রম ধাপে ধাপে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এটি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও সেবাদানের একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠে।
শেকৃবির গবেষণাকে এগিয়ে নিতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
প্রথমবারের মতো সাউরেস পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়েছে, যেখানে গবেষণার মৌলিকত্ব, জার্নালের মান, গবেষণার প্রভাব ও নৈতিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৫০ থেকে ৩০০ শিক্ষককে বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা প্রশিক্ষণ এবং প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে ডেটা অ্যানালাইসিস ও গবেষণা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।



