আইইউবিতে ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট কর্মশালা
কর্পোরেট দুনিয়ার বাস্তবতার মুখোমুখি শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট কর্মশালা
কেবল সিজিপিএ বা পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফট স্কিল, লাইফ স্কিল এবং কার্যকর নেটওয়ার্কিং-ই সফলতার মূল চাবিকাঠি। সম্প্রতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ‘ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
৯ জুলাই আইইউবি ক্যারিয়ার ক্লাব এবং ‘আগামীর সময়’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্পোরেট জীবনের বাস্তব রূপরেখা এবং আগাম প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা দিতেই এই যুগোপযোগী আয়োজনটি করা হয়।
কর্পোরেট বাস্তবতার মুখোমুখি শিক্ষার্থীরা
কর্মশালায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বনামধন্য কর্পোরেট ট্রেইনার গোলাম সামদানী ডন। তিনি তার চিরচেনা প্রাণবন্ত শৈলীতে শিক্ষার্থীদের সামনে কর্পোরেট জগতের বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে প্রথাগত পড়াশোনার বাইরে গিয়ে নিজের যোগাযোগ দক্ষতা ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশার পরিধি বাড়াতে হবে।’ তার এই দিকনির্দেশনামূলক সেশনটি উপস্থিত তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ও নতুন অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস এবং ফাইন্যান্স বিভাগের ইফা হক জানান, এই আয়োজনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চিত্রটি আগেভাগেই জানতে পেরেছেন। মানসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে মেশা ও নিজের কাজে শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার এই দীক্ষা তাদের মানসিক প্রস্তুতিতে দারুণ সাহায্য করবে।
ভুলের ভয় কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থী আনিসা রহমান বলেন, ‘ভুল হলেও একে ভয় পেয়ো না। ভুল করো, কারণ সেই ভুল থেকে তুমি কিছু শিখবে এবং এটি তোমার জন্য একটি মূল্যবান বিষয় হবে।’
অন্যদিকে, শুধু সিজিপিএ-এর ওপর নির্ভরশীল না হয়ে অ্যাকাউন্টিং ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা নতুন অনুভূতির কথা জানান। তাদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ট্যাগের চেয়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতা, বাস্তব স্কিল এবং এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি প্রধান মানদণ্ড। ইএলটি বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও যোগ করেন যে, ব্যক্তিগত শখ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো (ECA-Educational Credential Assessment) কর্পোরেট জীবনে টিমওয়ার্ক এবং কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দক্ষ জনশক্তি গঠনে আয়োজকদের ভাবনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষম ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আইইউবি-এর ক্যারিয়ার গাইডেন্স, প্লেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস বিভাগের ডিরেক্টর মনজুরুল হক কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার রেডিনেস প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা। জবের মার্কেটের ভবিষ্যৎ ডিমান্ড বা চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের কাজ।’
অন্যদিকে, অ্যাসিস্টেন্ট ক্যারিয়ার কাউন্সিলর মুক্তা রানী নাথ ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি আগে থেকেই কর্পোরেট জগতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ কম পায়। তাই এ ধরনের আয়োজন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়া উচিত, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও ইন্টারভিউ বোর্ডে যাওয়ার আগেই নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিশেষজ্ঞদের বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনায় ‘ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট’ কর্মশালাটি তরুণদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে একটি সফল ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। আয়োজক পক্ষ থেকে আশা করছে, শিক্ষার্থীদের পেশাদার কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে তুলতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।







