শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ যেন এক ‘ভবিষ্যতের আবাস’।
শীতলক্ষ্যার তীরে ‘হ্যাপি লিভিং’
- ঢাকার রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে উঠেছে এক ‘এল্ডারলি কেয়ার হোম’। প্রবীণদের সেবায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঘুরে এসে লিখেছেন সৈয়দ ফরহাদ

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ যেন এক ‘ভবিষ্যতের আবাস’। একমুহূর্তের জন্য মনে হলো, টাইম মেশিনে চড়ে কি ২০ বছর সামনে চলে এলাম? কী বলা যায় একে? বৃদ্ধাশ্রম? নাকি ‘এল্ডারলি কেয়ার হোম’?
বৃদ্ধাশ্রমের প্রচলিত ছবির সঙ্গে একে যে ঠিক মেলানো যাচ্ছে না! জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড জেরিয়াট্রিক হসপিটালের বেলায় তাহলে কোনটি খাটবে?
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ডা. সর্দার এ নাইম দ্বিতীয়টির পক্ষেই যুক্তি দিচ্ছেন। তার মতে, বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রম বলতে যে প্রতিষ্ঠানগুলো চালু আছে, সেগুলো ধারণাগতভাবেই সাংঘর্ষিক। কারণ, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো বৃদ্ধকে ‘আশ্রয়’ পেতে হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকতে তো হয়-ই, বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যসেবাও মেলে না। এদিকে তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রবীণদের জন্য রয়েছে চব্বিশ ঘণ্টার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা।
আলাপচারিতায় ডা. নাইম অবশ্য আমাদের বেশ চিন্তার খোরাক জোগালেন, ‘একটা বাচ্চার ডায়াপার চেঞ্জ করা আর একজন বৃদ্ধ মানুষের ডায়াপার চেঞ্জ করা কি এক হতে পারে? গ্রাম থেকে দুজন গৃহকর্মী নিয়ে এসে আপনার মায়ের বা বাবার ডায়াপার চেঞ্জ করা সম্ভব নয়। তাদের জন্য এডুকেটেড একটা জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হবে।’
ডা. সর্দার এ নাইম আরও বললেন, ‘উচ্চবিত্ত বা সচ্ছল জনগোষ্ঠী, যাদের খরচ করার মতো টাকা আছে নিজের জন্য, তাদের জন্য যদি সার্ভিস না থাকে, ৯০ বছর বয়সের একজন বৃদ্ধ, যার ব্যাংকে কোটি টাকা আছে আর ৯০ বছরের একজন বৃদ্ধ, যার এক পয়সাও নেই— এ দুজন মানুষের মধ্যে কিন্তু বেসিক্যালি কোনো তফাত নেই। কারণ, ওই টাকাটা দিয়ে যখন সে সার্ভিসটা কিনতে পারবে না, তখন মানি ইজ জাস্ট আ পেপার।’
কবে যাত্রা শুরু করল এ প্রতিষ্ঠান? জানতে চাইলে ড. সরদার এ নাইম জানান, ২০১২ সালে তারা কোম্পানি গঠন করেন। ২০২২ সালে শুরু হয় নির্মাণকাজ। ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু।
ডা. সরদার এ নাইম, দেশের পাইওনিয়র ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনদের একজন। পড়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন সার্জারি নিয়ে পিএইচডি করছিলেন, সে সময় জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত সেবা ও হেলথ কেয়ার সুবিধা তার চিন্তা জগতে নাড়া দেয়।










