শীতলক্ষ্যার তীরে ‘হ্যাপি লিভিং’
- ঢাকার রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে উঠেছে এক ‘এল্ডারলি কেয়ার হোম’। প্রবীণদের সেবায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঘুরে এসে লিখেছেন সৈয়দ ফরহাদ

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ যেন এক ‘ভবিষ্যতের আবাস’। একমুহূর্তের জন্য মনে হলো, টাইম মেশিনে চড়ে কি ২০ বছর সামনে চলে এলাম?
কী বলা যায় একে? বৃদ্ধাশ্রম? নাকি ‘এল্ডারলি কেয়ার হোম’? বৃদ্ধাশ্রমের প্রচলিত ছবির সঙ্গে একে যে ঠিক মেলানো যাচ্ছে না! জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড জেরিয়াট্রিক হসপিটালের বেলায় তাহলে কোনটি খাটবে?
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ডা. সর্দার এ নাইম দ্বিতীয়টির পক্ষেই যুক্তি দিচ্ছেন। কারণ তাদের প্রতিষ্ঠানে
প্রবীণদের জন্য রয়েছে চব্বিশ ঘণ্টার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা।
কবে যাত্রা শুরু করল এ প্রতিষ্ঠান?
ড. সরদার এ নাইম জানান, ২০১২ সালে তারা কোম্পানি গঠন করেন। ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু।
ডা. সরদার এ নাইম, দেশের পাইওনিয়র ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনদের একজন। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন সার্জারি নিয়ে পিএইচডি করছিলেন, সে সময় জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত সেবা ও হেলথ কেয়ার সুবিধা তার চিন্তার জগতে নাড়া দেয়।
জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য হেলথ কেয়ার সুবিধা ডা. নাইমের চিন্তার জগতে নাড়া দেয়
তার ভাষায়, ‘জাপানে এই এল্ডারলি কেয়ারটা দেখেই আমার মনে হয়েছিল যে, জীবনে কখনো সুযোগ পেলেই আমি বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব। আমার তখন বয়স ছিল ৩০-৩২।’
সুরমা ভবনের নিচতলার লাউঞ্জে গিয়ে আমরা বসলাম। আমাদের সঙ্গ দিচ্ছিলেন জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমসের উপপরিচালক রাকিব হোসেন সজল এবং জেনারেল ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম পল্লব।
রাকিব জানালেন, ১০ বিঘা জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে গোটা প্রতিষ্ঠানটি। সাতটি দালানের চারটি — পদ্মা, মেঘনা, সুরমা ও যমুনা আবাসিক। এর মধ্যে শুধু সুরমা পুরোদমে চালু। প্রত্যেকটা বিল্ডিংয়ে থাকবে (সুরমায় এরই মধ্যে সব সুবিধা চালু আছে) লাউঞ্জ, মুভি থিয়েটার, ফিটনেস সেন্টার ও গেমিং রুম।
জেনারেল ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম পল্লব জানালেন ধারণক্ষমতার চেয়ে আবাসিক প্রবীণ সদস্যের সংখ্যা বেশ কম। আপাতত ৫০-এর কাছাকাছি।
জেনারেল ম্যানেজার পল্লবের সঙ্গে যখন আবাসিক ফ্লোরগুলো ঘুরে দেখছিলাম। ঘুরতে ঘুরতে আমরা এসেছি টপ ফ্লোরে হসপিস কেয়ার বিভাগে। এখানে মরণাপন্ন বা জটিল দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষদের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হয়। ১২টি বেডের পাশাপাশি আছে ইসিজি এবং আল্ট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা, তেমনি পোর্টেবল এক্স-রে মেশিনও আছে।
এখানে ৭০০ বর্গফুটের একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে মাসে খরচ পড়বে প্রায় ৮৪ হাজার টাকা।
কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় পরিচয় হলো ডা. কাজী তইমুর রহমানের সঙ্গে। এই কেয়ার হোমের একজন আবাসিক প্রবীণ।
ডা. কাজী তইমুর রহমানের জীবনের বড় অংশটি কেটেছে বিদেশে। ব্যস্ত জীবন শেষে দেশে ফিরে গুলশানে নিজের ৪ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ ছিল। ছেলে ও ছেলের বউ দুজনই প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক, মেয়েরা থাকেন আমেরিকা ও কানাডায়। তবু শেষ বয়সে তিনি বেছে নিয়েছেন নিরিবিলি এক পরিবেশ।
তার ভাষায়, ‘অনেক দিন বিদেশে ছিলাম, হইচইয়ের জীবনে আর অভ্যস্ত নই।’
ডা. নাইম এ সর্দার বলছিলেন ‘আমাদের এটা বয়স্কদের জন্য হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটিজ, যেখানে হেলদি লিভিং, সম্মানজনক ও হ্যাপি লিভিং এর ব্যবস্থা আছে। মানুষ বৃদ্ধ হলে তার বিশেষায়িত কেয়ারের বিষয়ে সোশ্যাল ট্যাবু থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনাকে বুঝতে হবে, বাড়িতে বন্দি ঘরে নার্স দিয়ে যে পরিবেশ দিচ্ছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি কমফোর্টেবল সিচুয়েশন আমাদের এখানে।’







