মনের খেয়াল
সব ঠিকঠাক তবু ক্লান্তি কেন

সব কাজ ঠিকঠাক করেও অনেকে তীব্র মানসিক চাপে ভোগেন, যার নাম হাই-ফাংশনিং বার্নআউট। এ বিষয়ে সমাধান দিলেন নাহিদ ইসলাম
অনেকেই আছেন, যারা প্রতিদিনের কাজ ঠিকই করে যাচ্ছেন; কিন্তু সেই কাজের মূল্য হিসেবে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছেন মানসিক শক্তি, আনন্দ ও স্বস্তি। বাইরে থেকে এদের জীবনযাপন নিখুঁত ও গোছানো মনে হলেও আড়ালে যদি সবসময় গভীর ক্লান্তি, শূন্যতা আর অবসাদ কলকাঠি নাড়ে, তবে বুঝতে হবে তিনি এক নীরব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ইদানীং মনস্তত্ত্বের ভাষায় একেই বলা হচ্ছে হাই-ফাংশনিং বার্নআউট।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কাউন্সেলিং ইউনিটের সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর ও লেকচারার অ্যানি অ্যান্তোনিয়া বাড়ৈ জানান, অনেক পরিবারে শৈশবে সন্তানকে ভালোবাসা বা বাহবা দেওয়া হয় শুধুই তার ভালো ফল বা আচরণের ভিত্তিতে। ফলে সবসময় সেরা হতে না পারলে কেউ তাকে ভালোবাসবে না— এ ধারণা তার মনে গেঁথে যায়। বড় হয়েও এ অবচেতন ভয় তাকে তাড়া করে। নিজের সক্ষমতার সীমানা ভুলে একটানা কাজ করে করে যাওয়া এবং কোনো কিছুতেই ‘না’ বলতে না পারা তাকে পেয়ে বসে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষের ভেতরের সহজাত আনন্দগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। যে কাজ একসময় ভালো লাগত, সেটিকে তিনি নিষ্প্রাণ ও বাধ্যবাধকতা মনে করেন। এভাবে তার ভেতর গেঁড়ে বসে হাই-ফাংশনিং বার্নআউট। এর প্রভাবে মন যখন ক্লান্তি প্রকাশ করতে পারে না, শরীর তখন নিজের মতো করে সংকেত পাঠায়। কোনো কারণ ছাড়াই হরদম মাথাব্যথা হওয়া, পেশিতে টান লাগা কিংবা রাতে চরম ক্লান্তি অনুভবের পরও সহজে ঘুম না আসা এর অন্যতম লক্ষণ। আরেকটি বড় সমস্যা হলো মনোযোগের অভাব এবং ছোট ছোট বিষয় ভুলে যাওয়া, যাকে বলে ব্রেন ফগ। চারপাশের মানুষ তাদের খুব নির্ভরযোগ্য মনে করে বলে এ নীরব কষ্ট সহজে কারও চোখে পড়ে না। আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন, আরেকটু চেষ্টা করলেই হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তার ভেতরটা আরও বেশি ক্ষয়ে যেতে থাকে।
এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুব জটিল কিছু নয়। আমাদের শুধু একটু থামতে শিখতে হবে। প্রতিদিন কিছু সময় একান্ত নিজের জন্য রাখা দরকার। বই পড়া, হাঁটাহাঁটি, গান শোনা, গাছের যত্ন নেওয়া কিংবা নিছক কিছু না করা— এসবও মানসিক সুস্থতার অংশ। যেখানে নিখুঁত হওয়ার কোনো তাড়া নেই। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিশ্রাম এবং কাজের বাইরে সময় কাটানোকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাতেও যদি না কাটে হাই-ফাংশনিং বার্নআউট, নিতে হবে কোনো বিশেষজ্ঞের সাহায্য।




