ব্যাঙ্গলে বাঙালিয়ানা

মডেল: অ্যাঞ্জেলা ডি’কস্টা; শাড়ি: লা রিভ; সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ; ছবি: অপূর্বা
বাঙালি নারীর হাতের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে ব্যাঙ্গলে। কখনো সরু ধাতব রেখায়, কখনো একাধিক বালা জড়িয়ে, কখনো প্যাঁচানো স্পাইরাল গড়নে। এমন অনুষঙ্গ নিয়ে লিখেছেন ভাবনা রহমান
শাড়ি, টিপ, কাজল বাঙালি নারীর সাজের অনুষঙ্গ। তবে হাতভরা চুড়ির শব্দে যে আলাদা একটা বাঙালিয়ানা মিশে থাকে, তার তুলনা নেই। কাচের চুড়ির টুংটাং, ধাতব বালার মৃদু ঝনঝন কিংবা সোনার চুড়ির স্নিগ্ধ ঝিলিক— হাতের এ ছোট্ট অলংকারই কখনো কখনো সাজে আনে ভিন্নমাত্রা। তবে চুড়ি বা বালা এখন আর শুধু সেই চেনা গোলাকার নকশায় আটকে নেই। তাতে এসেছে নানা নতুনত্ব। সরু ধাতব রেখা পেঁচিয়ে তৈরি বালা, একটির ওপর আরেকটি পাক খাওয়া নকশা কিংবা হাতে জড়িয়ে থাকা স্পাইরাল আকৃতি চেনা ব্যাঙ্গলকেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে নতুনভাবে।
সাজের জুড়ি
একসময় শাড়ির সঙ্গে হাতে কাচের চুড়ি পরাই ছিল সহজ সাজসজ্জার অংশ। লাল, সবুজ, নীল কিংবা সাদা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চুড়ি পরার চল ছিল। উৎসবের দিনে বাড়ত চুড়ির সংখ্যা, সঙ্গে যোগ হতো বালা। হাত নড়লেই তার শব্দ জানান দিত সাজের উপস্থিতি। এখন সেই চেনা অনুষঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন নকশা। কখনো সরু বালা, কখনো মোটা কাফ, কখনো একাধিক রেখা জড়িয়ে তৈরি হচ্ছে একটি ব্যাঙ্গল। আবার কোথাও ধাতব তারের মতো সরু রেখা পেঁচিয়ে তৈরি হচ্ছে এমন নকশা, যা একসঙ্গে চুড়ি ও অলংকার দুয়ের সৌন্দর্যই ধরে রাখে।
প্যাঁচে প্যাঁচে নতুনত্ব
ব্যাঙ্গলের এই প্যাঁচানো নকশা, বিশেষ করে নজর কাড়ে তার গড়নের জন্য। প্রচলিত বালার মতো একেবারে সমতল বা একরেখা নয়; বরং সরু ধাতব রেখা পাক খেতে খেতে হাতে বসে থাকে। ফলে হাত নড়লেই আলো ছায়ার খেলায় নকশাটিও বদলে যায়। এ ধরনের বালা খুব ভারী না হয়েও সাজে আলাদা উপস্থিতি তৈরি করতে পারে। শাড়ির সঙ্গে পরলে আসে দেশি আবহ, আবার এর আধুনিক গড়নের কারণে পুরো লুক হয়ে ওঠে সমকালীন। একই সঙ্গে একাধিক প্যাঁচানো বালা পরা যায়। আবার চাইলে একটি বড় নকশার ব্যাঙ্গলই হতে পারে পুরো হাতসাজের কেন্দ্র। পোশাক ও গয়নার ধরন বুঝে এখানেই তৈরি করা যায় নিজের স্টাইল।
কোন হাতে কয়টা
হাতের অলংকারে এখন আর নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। এক হাতে কয়েকটি সরু ব্যাঙ্গল পরা যেতে পারে, অন্য হাত রাখা যেতে পারে প্রায় খালি। আবার দুই হাতেই একই ধরনের বালা পরলে তৈরি হবে একটু বেশি ঐতিহ্যবাহী আবহ। প্যাঁচানো নকশার বালার ক্ষেত্রে অবশ্য অতিরিক্ত গয়না না পরাই ভালো। কারণ এর নকশাই বেশ চোখে পড়ার মতো। সঙ্গে বড় আংটি বা বেশি চুড়ি যোগ করলে হাতের সৌন্দর্য আড়াল হয়ে যেতে পারে। শাড়ি যদি উজ্জ্বল বা নকশাদার হয়, তাহলে সরু ধাতব ব্যাঙ্গলই যথেষ্ট। আর পোশাক যদি একরঙা ও সাদামাটা হয়, তখন একটু মোটা বা বেশি নকশার বালা দিয়ে হাতকে স্টাইলের কেন্দ্রে জায়গা করে দেওয়া সম্ভব ।
শাড়ির সঙ্গে চুড়ি
বাঙালিয়ানার সঙ্গে শাড়ির সম্পর্ক যেমন পুরনো, তেমনি শাড়ির সঙ্গে চুড়ি বালার সম্পর্কও। তবে সেই চেনা জুটিকে নতুন করে সাজানোর এখন অনেক সুযোগ। তাঁত বা জামদানির সঙ্গে প্যাঁচানো ধাতব বালা এনে দিতে পারে আধুনিক দেশি আবহ। সিল্ক বা গরদের সঙ্গে সোনালি টোনের ব্যাঙ্গল হতে পারে আরও পরিশীলিত। আবার একেবারে সাধারণ সুতির শাড়ির সঙ্গেও কয়েকটি সরু ধাতব বালা সাজসজ্জাকে করে তুলতে পারে একটু আলাদা। রঙের ক্ষেত্রেও রয়েছে ফ্যাশনের সুযোগ। শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বালা পরলে সাজ হয় পরিপাটি। বিপরীত ধাতব টোন বা ভিন্ন রঙের চুড়ি যোগ করলে তৈরি হবে আরও প্রাণবন্ত বৈপরীত্য। তবে বাঙালিয়ানার এ হাতের সাজকে শুধু শাড়ির সঙ্গে আটকে রাখারও প্রয়োজন নেই। কুর্তা, লং ড্রেস, টপ বা ফিউশন পোশাকের সঙ্গেও কয়েকটি সরু ব্যাঙ্গল পরা যায়। বরং আধুনিক পোশাকের সঙ্গে এমন দেশি অনুষঙ্গের মিশেলেই তৈরি হতে পারে সুন্দর ফিউশন লুক। পোশাকটি আধুনিক আর হাতে বাঙালিয়ানার চেনা ছেঁায়া— যেন একদম পারফেক্ট!





