ফিটনেস
চর্বি কমানোর ব্যায়াম

মডেল: সুরাইয়া নিতু, স্থান: আহিমসা জেড স্টুডিও, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
কোরবানির ঈদে লোভনীয় খাবারে উদরপূর্তি করায় শরীরে জমে বাড়তি চর্বি। মেদ ঝরানোর উপায় জানালেন সার্টিফায়েড ইয়োগা, অ্যারোবিকস ও জুম্বা ট্রেইনার সুরাইয়া নিতু
অতিরিক্ত চর্বি দৈহিক সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়। এমনকি সুস্থ থাকাকেও করে বাধাগ্রস্ত। ওজন বেড়ে গেলে অনেকেরই আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে নিজেকে ফিট রাখা দরকার। অনেকে মনে করেন, না খেয়ে থাকলেই ওজন কমে যাবে। কিন্তু ডায়েট করে স্থায়ীভাবে মেদ কমানো মুশকিল। দেহ সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় শরীরচর্চার জন্য ব্যয় করলে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন পাওয়া সম্ভব।
চর্বি কমানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় কার্ডিও এক্সারসাইজ। যেমন— দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা স্কিপিং। এ ধরনের ব্যায়াম শরীরের ক্যালরি দ্রুত বার্ন করে এবং হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে। দ্রুত হাঁটা সবচেয়ে সহজ ব্যায়ামের একটি। সকালে বা বিকেলে টানা ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে শরীরের মেদ কমতে শুরু করে। আবার স্কিপিং করলে পুরো শরীর একসঙ্গে কাজ করে। ফলে অল্প সময়েই বেশি ক্যালরি বার্ন হয়। ব্যায়ামে যারা নতুন, তারা শুরুতে কম সময় নিয়ে ধীরে ধীরে শরীরচর্চার সময়সীমা বাড়াতে পারেন।
কার্ডিওর পাশাপাশি স্ট্রেন্থ ট্রেনিংও গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের মাংসপেশি শক্ত করে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সহায়ক। ফলে বিশ্রামের সময়ও শরীর ক্যালরি পোড়াতে থাকে।
সবচেয়ে পরিচিত ব্যায়ামের একটি হলো স্কোয়াট। এই ব্যায়ামে হাঁটু ভাঁজ করে চেয়ারে বসার মতো ভঙ্গিতে নিচে নেমে তারপর আবার উঠে দাঁড়াতে হয়। এটি ঊরু, কোমর ও পায়ের মাংসপেশির শক্ত এবং নিচের অংশের মেদ কমাতে সাহায্য করে। পুশআপও বেশ কার্যকর। এই ব্যায়ামের ফলে বুক, হাত ও কাঁধের মাংসপেশি সক্রিয় থাকে। এর চর্চা শুরুতে দেয়ালের সাহায্যে বা হাঁটু ভাঁজ করে সহজভাবে শুরু করা যেতে পারে।
আরেকটি জনপ্রিয় ব্যায়াম প্ল্যাঙ্ক। এতে শরীরকে সোজা রেখে কনুই ও পায়ের ওপর ভর দিয়ে কিছুক্ষণ থাকতে হয়। দেখতে সহজ মনে হলেও অনুশীলনে বেশ কষ্টসাধ্য এই ব্যায়াম পেটের মাংসপেশি শক্ত করতে এবং শরীরের ভারসাম্য বাড়াতে উপকারী।
পেটের মেদ কমানোর জন্য কেউ কেউ শুধু ক্রাঞ্চেস বা অ্যাবডোমিনাল এক্সারসাইজের ওপর নির্ভর করেন। ক্রাঞ্চেসে চিৎ হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে শরীরের ওপরের অংশ তুলতে হয়। আবার লেগ রেইজে শুয়ে দুই পা একসঙ্গে ওপরে তোলা প্রয়োজন। এই দেহচর্চাগুলো পেটের মাংসপেশি টোনআপ করতে সহায়ক। তবে মনে রাখা ভালো, শরীরের শুধু একটি অংশের মেদ আলাদাভাবে কমানো যায় না। পুরো শরীরের ফ্যাট কমলে তবেই পেটের মেদ কমবে।
বাড়তি মেদ ঝরাতে খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন হওয়া চাই। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত মিষ্টি গ্রহণ কমিয়ে দেওয়া জরুরি। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডিম, মাছ, মুরগি ও পর্যাপ্ত পানি রাখার অভ্যাস উত্তম; একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুমও। কারণ, কম ঘুম শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ওজন বাড়াতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারাবাহিকতা। দুয়েক দিন ব্যায়াম করে হঠাৎ ফল আশা করা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়; বরং ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলা চাই। শরীরচর্চাকে কষ্ট নয়; নিজের যত্নের অংশ গণ্য করা উত্তম। তাহলেই মেদ কমানোর পথ সহজ হয়ে উঠতে পারে।






