যত্নআত্তি
পোষা প্রাণীর লালনপালন

মডেল: ফারজানা কবীর ঐশী ছবি: সোহানুর রহমান
পোষ্যকে ভালো ও সুস্থ রাখার উপায় জানাচ্ছেন ফারিয়া আলম
পোষ্যবান্ধব ঘর: পোষ্যকে ঘরে আনার আগে বাড়িটিকে তার জন্য নিরাপদ করে নেওয়া দরকার। বৈদ্যুতিক কেবল, ছোট কোনো বস্তু, বিষাক্ত গাছ, পরিষ্কার করার রাসায়নিক কিংবা এমন কোনো জিনিস তার নাগালের বাইরে রাখা উচিত, যা ভুল করে খেয়ে বা স্পর্শ করে বিপদে পড়তে পারে। জানালা ও বারান্দার নিরাপত্তার দিকটিও বিশেষভাবে খেয়াল করা দরকার; বিশেষ করে বিড়াল ও ছোট প্রাণীর ক্ষেত্রে। অন্যদিকে বাড়ি যত ছোটই হোক, পোষ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করা ভালো। সেখানে থাকতে পারে তার বিছানা, খেলনা কিংবা খাবারের পাত্র।
খাবার বেছে নেওয়া: সব খাবার পোষ্যের পাতে দেওয়া ঠিক নয়। বরং তাদের খাবার বাছাই করতে হবে সাবধানে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের লেকচারার এবং ভেট অ্যান্ড পেট কেয়ারের কনসালট্যান্ট ডা. মো. খায়রুল ইসলাম বললেন, ‘খাবার নির্ধারণের ক্ষেত্রে পোষ্যের বয়স, ওজন, প্রজাতি এবং শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। মানুষের জন্য নিরাপদ এমন অনেক খাবারই প্রাণীর জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। তাই নতুন কোনো খাবার দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।’
পরিচ্ছন্নতা: পোষ্যের শরীর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি তার থাকার জায়গাটিও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিড়ালের লিটার বক্স নিয়মিত পরিষ্কার করা, কুকুরের বিছানা ও খেলনা ধুয়ে দেওয়া, পাখির খাঁচা পরিষ্কার রাখা— এসব ছোট কাজই তাদের সুস্থ থাকার বড় অংশ। তবে পরিচ্ছন্নতার নামে অতিরিক্ত গোসল করানো বা মানুষের জন্য তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রাণীর ত্বক ও লোমের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করাই নিরাপদ।
মানুষের জন্য নিরাপদ এমন অনেক খাবারই প্রাণীর জন্য উপযোগী নাও হতে পারে
খেলাধুলা ও আদর: পোষ্যদেরও একঘেয়েমি আসে। সারা দিন এক জায়গায় বসিয়ে রেখে শুধু খাবার দিলেই তাদের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয় না। কুকুরকে নিয়মিত হাঁটানো, বিড়ালের সঙ্গে খেলনা দিয়ে খেলা করা কিংবা পাখিকে নিরাপদ পরিবেশে নড়াচড়ার সুযোগ দেওয়া তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর আদর? সেটিও যত্নেরই অংশ। পোষ্যটি হয়তো মানুষের কথা বুঝবে না; কিন্তু আপনার কণ্ঠস্বর, স্পর্শ ও আচরণ থেকে সে নিরাপত্তা অনুভব করবে। কেননা শারীরিক যত্নের পাশাপাশি প্রাণীর মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
খেয়াল রাখা: পোষ্য প্রাণী অসুস্থ হলে তা প্রকাশ করতে পারে না। হঠাৎ খাওয়ার পরিমাণ কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক অলসতা, বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত চুলকানি, আচরণে বড় পরিবর্তন কিংবা শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় টিকা ও পরজীবী নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা পোষ্যের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পোষ্যের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনকে অনেক সময় মনিবরা স্বাভাবিক বিষয় মনে করেন। কিন্তু খাওয়ার অভ্যাস বদলে যাওয়া, অস্বাভাবিক চুপচাপ থাকা, অতিরিক্ত ঘুম, আক্রমণাত্মক আচরণ বা হঠাৎ লুকিয়ে থাকার মতো পরিবর্তন শারীরিক অসুস্থতা বা মানসিক চাপের ইঙ্গিত হতে পারে।
নিরাপত্তা: কুকুরকে বাইরে নিয়ে গেলে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা থাকা উচিত। পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যসহ একটি কলার বা আইডি ট্যাগও কাজে আসে। বিড়াল বা অন্য পোষ্যকে বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিরাপদ ক্যারিয়ার বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবহার করা ভালো। নতুন কোনো জায়গায় নিয়ে গেলে প্রথমেই তাকে ছেড়ে না দিয়ে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া দরকার।
নিজের ঘরে প্রাণী পোষা অনেকের কাছেই শখ। আবার কেউ কেউ একে দায়িত্ব মনে করেন। তবে পোষ্য নেওয়ার আগে শুধু ‘কত সুন্দর’ বা ‘কত মিষ্টি’ তা ভাবলেই হবে না। ভাবতে হবে, তার অসুস্থতার দিনে পাশে থাকতে, প্রতিদিনের যত্ন নিতে, বেড়াতে গেলে তার ব্যবস্থা করতে পারবেন কি না। কেননা একটি প্রাণীকে ঘরে আনা হলে তাকে একটি মানবশিশুর মতোই আগলে রাখা দরকার।







