বিউটি
বৃষ্টিভেজা চুলের খেয়াল

মডেল: রাজিয়া কান্দাহারী। ছবি: রিফাত
বৃষ্টিতে কেউ শখে ভেজেন, কেউ বাধ্য হয়ে। বৃষ্টির স্পর্শ প্রাণ জুড়ালেও চুলের জন্য ডেকে আনতে পারে অঘোষিত দুর্ভোগ। যত্নের উপায় জানাচ্ছেন অলকানন্দা রায়
এ ঋতুতে চলতি পথে হুট করেই বৃষ্টিতে ভিজতে হয় বলে চুল তুলনামূলকভাবে বেশিক্ষণ ধরে ভেজা থাকে। ভেজা চুলের যত্নে প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতা, সঠিক অভ্যাস আর পুষ্টির।
চুলের শত্রু
বর্ষায় বাতাসে বেশ আর্দ্রতা থাকে। অনেকের ধারণা, এ সময় চুলও যথেষ্ট আর্দ্র থাকে, যা ভালো ব্যাপার। অথচ বাস্তবতা উল্টো। রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা জানালেন, অতিরিক্ত আর্দ্রতায় চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকল ফুলে ওঠে, স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়। ফলে চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও নিষ্প্রভ। কেঁাকড়ানো চুলে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। আবার পাতলা চুল সহজেই চুপসে গিয়ে ঘনত্ব হারায়।
বাইরে থাকাকালে আচমকা শুরু হওয়া বর্ষণে চুলকে রক্ষা করা মুশকিল। তাই বৃষ্টিভেজা চুল দুর্বল হয়ে সহজেই ভেঙে বা ঝরে যেতে পারে
চুল পড়া
বর্ষা এলেই চিরুনিতে বা বালিশে চুলের সংখ্যা যেন একটু বেশি চোখে পড়ে। ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেরই স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি চুল ঝরে। এর সঙ্গে যোগ হয় ঘাম, আর্দ্রতা, দূষণ আর অপরিষ্কার মাথার ত্বক। পাশাপাশি বৃষ্টির বিড়ম্বনা তো আছেই! বাইরে থাকাকালে আচমকা শুরু হওয়া বর্ষণে চুলকে রক্ষা করা মুশকিল। তাই বৃষ্টিভেজা চুল দুর্বল হয়ে সহজেই ভেঙে বা ঝরে যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাথার ত্বকের যত্ন
সুস্থ চুলের শুরু হয় সুস্থ স্ক্যাল্প থেকে। স্ক্যাল্প পরিষ্কার না থাকলে যত ভালো শ্যাম্পু বা সিরামই ব্যবহার করুন না কেন, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। বৃষ্টিভেজা মাথার ত্বকে সহজেই ময়লা জমে। তাই চুলের পাশাপাশি স্ক্যাল্পও ভালোভাবে পরিষ্কার রাখুন।
ভেজা চুল বাঁধতে বারণ
ক্লাসে বা অফিসে যাওয়ার পথে ভিজে গেছেন? গন্তব্যস্থলে পৌঁছেই ভেজা চুল খোঁপা করে ফেলেন? এটি বর্ষার সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোর অন্যতম। ভেজা মাথার ত্বকে বাতাস চলাচল কমে যায়। দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা থাকলে ছত্রাকের সংক্রমণ, খুশকি কিংবা চুলকানির ঝুঁকি বাড়তে পারে। সম্ভব হলে চুল স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে নিন। প্রয়োজনে কম তাপমাত্রায় ব্লো-ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
বৃষ্টির পানির দুশমনি
বৃষ্টির পানিতে শহরের বাতাসে থাকা ধুলো, ধোঁয়া ও নানারকম দূষণীয় পদার্থ মিশে থাকে। চুল ভিজে গেলে সেসব আটকে যায় চুলেও। ভেজার পর সম্ভব হলে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নেওয়া ভালো। প্রতিবার শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই; তবে দূষিত পানি চুলে শুকাতে দেওয়া উচিত নয়।
বুঝেশুনে শ্যাম্পু
বর্ষায় প্রতিদিন ভারী শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আবার অনেক দিন শ্যাম্পু না করলে চুলের গোড়ায় জমে তেল, ঘাম ও ময়লা। তাই নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।
নিয়ম মেনে তেলচর্চা
রাতে হালকা তেল দিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলার অভ্যাস বর্ষায় উপকারী। তবে তেল মেখে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকবেন না। এতে ধুলো ও দূষণ আরও সহজে চুলে আটকে যায়। নারিকেল তেল, বাদাম তেল বা হালকা হেয়ার অয়েল অল্প পরিমাণে ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
প্রতিবার শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই; তবে দূষিত পানি চুলে শুকাতে দেওয়া উচিত নয়
সব চুলের যত্ন এক নয়
কোঁকড়ানো চুলে ময়েশ্চারাইজিং কন্ডিশনার ভালো কাজ করে। পাতলা চুলে ভারী তেল বা অতিরিক্ত স্টাইলিং পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো। আর রঙ করা বা কেমিক্যাল ট্রিটেড চুলে সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু ও নিয়মিত কন্ডিশনিং প্রয়োজন।
চুলে গন্ধ
বর্ষাকালে অনেকের চুলেই এক ধরনের গন্ধ হয়। বৃষ্টিতে ভেজা চুলে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর কারণ শুধু ঘাম নয়। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় স্ক্যাল্পে ব্যাকটেরিয়া ও ইস্টজাতীয় অণুজীব দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখলে বা ঠিকমতো না শুকালে এ সমস্যা প্রকট হয়ে যায়। তাই চুল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মাথার ত্বকও ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি।
হিট স্টাইলিং
বৃষ্টিভেজা চুলের ফ্রিজি ভাব কমাতে অনেকেই বারবার স্ট্রেইটনার, কার্লার বা ব্লো-ড্রায়ার ব্যবহার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে কিউটিকলকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে চুল ভাঙা, ডগা ফাটা ও রুক্ষ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ প্রয়োজন না হলে চুলকে স্বাভাবিকভাবেই শুকাতে দিন আর হিট স্টাইলিং করতে হলে অবশ্যই হিট-প্রটেক্ট্যান্ট ব্যবহার করুন।
চিরুনি পরিষ্কার
চিরুনিতে জমে থাকা তেল, ধুলো, মৃত কোষ ও স্টাইলিং পণ্যের অবশিষ্টাংশ আবার চুলেই ফিরে আসে। সপ্তাহে অন্তত একবার হালকা শ্যাম্পু বা সাবান দিয়ে চিরুনি ধুয়ে শুকিয়ে নিন। হেয়ার ব্রাশ ব্যবহার করলে সেটিও নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
বালিশের খেয়াল
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বালিশের কভার সহজেই ঘাম, তেল ও আর্দ্রতা শুষে নেয়। বৃষ্টিভেজা চুল নিয়ে বালিশে মাথা রাখলে এমন সমস্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। প্রতিদিন সেই একই কভারে ঘুমালে ময়লা আবার চুল ও স্ক্যাল্পে ফিরে আসে। তাই এ সময়ে সপ্তাহে অন্তত দুবার বালিশের কভার বদলানো ভালো। তুলার বদলে সাটিন বা সিল্কের কভার ব্যবহার করলে ঘর্ষণ কম হয়, ফলে চুল ভাঙাও কিছুটা কমে। তা ছাড়া বৃষ্টিভেজা চুল নিয়ে বালিশে হেলান দেওয়া একদম মানা!





