ইন্টারন্যাশনাল ট্রেন্ড
মেডুসা মিস্ট্রি

মেডুসা কস্টিউমে সুপারমডেল জিজি হাদিদ। ছবি: ইন্টারনেট
আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব হ্যালোউইন প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর উদযাপিত হয়। এর অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র মেডুসা, যা ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে বারবার ঘুরেফিরে আসে। লিখেছেন মিষ্টি হাসান
পশ্চিমা বিশ্বের জনপ্রিয় উৎসব হ্যালোউইন মানেই ভয়, রহস্য আর বিচিত্র সাজে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার আয়োজন। বাংলাদেশেও বেশ কয়েক বছর ধরে ঘটা করে এই উৎসবে মাতেন অনেকে; বিশেষত তরুণ প্রজন্ম। ভূত-ভ্যাম্পায়ারের ভিড়ে সর্পিল চুলের গ্রিক পৌরাণিক চরিত্র মেডুসা বরাবরই থাকে আকর্ষণীয় অনুপ্রেরণা হয়ে। গত বছর জার্মানি-আমেরিকান সুপারমডেল হেইডি ক্লুমের নজরকাড়া মেডুসা সাজ আলোচনায় এনেছিল ভয়ংকর সৌন্দর্যের অনন্য প্রকাশ হিসেবে। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে এই চরিত্রের প্রভাব বহুদিন আগে শুরু হলেও সবসময় ইন-ট্রেন্ড।
পৌরাণিক রহস্যময়ী
গ্রিক পুরাণের মেডুসা একজন ভয়ানক দানবী, যার মাথায় চুলের বদলে ছিল সাপ। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, তার চোখের দিকে তাকালে মানুষ পাথরে পরিণত হতো। সৌন্দর্য, ভয় ও অভিশাপের এই রহস্যময় চরিত্র চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য ও চলচ্চিত্রে নানা রূপে উঠে এসেছে। ফ্যাশনে এর নিত্য আসা-যাওয়া। এমনকি ইতালীয় বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভারসাচির লোগো তৈরি হয়েছে এই চরিত্রের মুখাবয়বে। হ্যালোউইনের সাজেও মেডুসার আবেদন ভীষণ। তার স্বতন্ত্র চেহারায় সাপের মুকুট, আঁশের মতো ঝলমলে পোশাক, তীক্ষ্ণ চোখ আর নাটকীয় অনুষঙ্গ মিলিয়ে তৈরি হয় ভয়ংকর অথচ আকর্ষণীয় এক অবয়ব।
কেন ফেরে বারবার
মেডুসার সাজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর নাটকীয়তা। সাপের মুকুট, আঁশের নকশা, ধাতব অনুষঙ্গ এবং গাঢ় সবুজ-কালো রঙের সমন্বয়ে সাধারণ পোশাকও হয়ে উঠতে পারে দৃষ্টিনন্দন। একই সঙ্গে চরিত্রটির পৌরাণিক পরিচয়, ভয়ংকর রূপ ও রাজকীয় আবহ সাজে সৃজনশীলতার বিস্তর সুযোগ তৈরি করে। ১৯৮১ সালের ‘ক্ল্যাশ অব দ্য টাইটানস’ চলচ্চিত্রের সর্পিল চুলের মেডুসা জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে চরিত্রটির পরিচিতি বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের হ্যালোউইনে হেইডি ক্লুম নিজের মতো এই চরিত্র উপস্থাপন করেন। তার পোশাকে ছিল সারা শরীরে আঁশের নকশা, নড়াচড়া করতে সক্ষম কৃত্রিম সাপ, বিশেষ মুখাবয়ব ও সাপের লেজ। পোশাকটি তৈরি করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে এবং ১৫ জনের বেশি শিল্পী কাজ করেন।
২০২৬ সালের সাজে যা
এ বছরের হ্যালোউইন কস্টিউমের পূর্বাভাসেও মেডুসা জায়গা করে নিয়েছে। ওমেনস ওয়্যার ডেইলির ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে মেডুসা সাজকে সম্ভাব্য জনপ্রিয় পোশাকের তালিকায় রাখা হয়েছে। সেখানে গুগল ট্রেন্ডসের তথ্য উল্লেখ করে মেডুসা কস্টিউম নিয়ে অনুসন্ধান বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। আসন্ন হ্যালোউইন উৎসবের সাজে অনুপ্রেরণা হতে পারে প্রাচীন গ্রিক পোশাকের ভাঁজ, সাপের আঁশের মতো ঝিলমিল নকশা এবং সোনালি অনুষঙ্গ। সবুজ সাটিনের পোশাক, কোমরে সোনালি বন্ধনী, সাপের মুকুট ও গাঢ় সবুজ চোখের সাজে তৈরি হতে পারে আধুনিক মেডুসা লুক।
বাংলাদেশে কোথায় মিলবে
আমাদের দেশে পূর্ণাঙ্গ মেডুসা কস্টিউম সহজলভ্য না হলেও আলাদা পোশাক ও অনুষঙ্গ দিয়ে সাজটি তৈরি করা সম্ভব। দারাজ কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পণ্য আনা-নেওয়া করা পেজগুলোতে হ্যালোউইনের সময় মেডুসার রেডিমেড স্নেক হেডব্যান্ড ও কস্টিউম জুয়েলারি পাওয়া যায়। ঢাকার বিভিন্ন নাট্যদলের কস্টিউম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অথবা নিউ মার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডের স্টুডিও ড্রেস ভাড়ার দোকান থেকে গ্রিক কাট গাউন বেছে নিতে পারেন। চাইলে সাটিন বা ভেলভেট কাপড় কিনে বিশ্বস্ত কোনো দর্জিকে দিয়েও নিজের মাপে বানিয়ে নেওয়া যায়।
ঘরেই তৈরি
মেডুসা কস্টিউমের জন্য প্রয়োজন সবুজ, কালো কিংবা সোনালি রঙের একটি পোশাক, সাপের নকশার মাথার মুকুট, সোনালি গয়না এবং সবুজ-কালো প্রসাধন। সাধারণ পোশাকের সঙ্গে সোনালি কোমরবন্ধ যোগ করলেই সাজের ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়। পুরনো মাথার বন্ধনীর সঙ্গে হালকা কৃত্রিম সাপ শক্তভাবে আটকে বানানো যায় সাপের মুকুট। পোশাকে আঁশের ছাপ আনতে আঁশের নকশার জাল ব্যবহার করে কাপড়ের উপযোগী রঙ লাগানো যেতে পারে। চোখের চারপাশে সবুজ ও কালো রঙের মিশ্রণ, সোনালি চোখের সাজ এবং গাঢ় ঠোঁট পুরো রূপটিকে আরও নাটকীয় করে তুলবে। তবে ত্বকের জন্য নিরাপদ প্রসাধন ব্যবহার করতে হবে এবং গরম আঠা সরাসরি ত্বকে লাগানো যাবে না। মাথার অনুষঙ্গও হওয়া চাই হালকা ও আরামদায়ক।
মেডুসার সাজের জনপ্রিয়তা শুধু ভয় দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিচিত সৌন্দর্যের ধারণাকে ভেঙে নিজের মতো করে প্রকাশ করার স্বাধীনতাই এর মূল আকর্ষণ। ব্যয়বহুল পোশাক হোক কিংবা ঘরে তৈরি সাপের মুকুট, আঁশের আভা আর রহস্যময় চোখের মায়াতেই ফুটে উঠতে পারে পৌরাণিক এ চরিত্রের অনন্য রূপ।



