বিউটি
কাজলের আলতো স্পর্শ

মডেল: আশনা হাবিব ভাবনা, সাজ: শামীম, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
চোখের পাতায় কিংবা ল্যাশলাইনে কাজলের আলতো স্পর্শও বদলে দিতে পারে পুরো লুকের আবহ। কৌশল জানাচ্ছেন স্বর্ণা রায়
মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও চোখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারে একটুখানি কাজল। তবে কাজল মানেই চোখজোড়া গাঢ় করে আঁকা নয়। বরং আলতো হাতে, চোখের আকৃতি বুঝে ব্যবহার করলে তৈরি হতে পারে পরিপাটি, স্বাভাবিক ও আধুনিক লুক।
আবহে আধুনিকা
অফিস, ক্লাস বা দিনের অনুষ্ঠানের জন্য হালকা কাজলের সঙ্গে ন্যুড বা পিচ টোনের মেকআপ ভালো মানায়। গালে হালকা ব্লাশ, ঠোঁটে ন্যুড বা রোজ শেডের লিপস্টিক এবং সামান্য মাসকারা থাকলেই সাজ সম্পূর্ণ। অন্যদিকে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা কুর্তির সঙ্গেও আলতো কাজলে জমে দারুণ জোট। সবুজ, অলিভ, মাটিরঙ, হালকা ধূসরাভ বাদামি কিংবা প্যাস্টেল পোশাকের সঙ্গে কালো কাজলের কনট্রাস্টে ব্যবহারকারীকে লাগে অপরূপা। সন্ধ্যার অনুষ্ঠান বা পার্টিতে হালকা কাজলের সঙ্গে চোখের পাতায় ব্রোঞ্জ, টোপ বা শ্যাম্পেন টোনের আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে।
গড়ন বুঝে
ছোট চোখ হলে নিচের ওয়াটারলাইন জুড়ে মোটা করে কালো কাজল না দেওয়াই ভালো। বরং চোখের বাইরের দিকে কাজল বাড়িয়ে সামান্য উইং করতে পারেন। নিচের ল্যাশলাইনের বাইরের অংশে কাজল দিয়ে হালকা স্মাজ করলে চোখ অপেক্ষাকৃত বড় দেখাবে। ওয়াটারলাইনে চাইলে সাদা বা ন্যুড কাজল ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে, বড় চোখে কাজল নিয়ে নিরীক্ষার সুযোগ বেশি। পুরো ওয়াটারলাইনে হালকা থেকে মাঝারি গাঢ় কাজল দিলে চোখের আকৃতি সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। তবে দিনের সাজে মোটা কাজল এড়ানো দরকার।
সাজ কৌশল
প্রথমে চোখের পাতা পরিষ্কার করে হালকা কনসিলার বা নিউট্রাল আইশ্যাডো দিন। এরপর চোখের নিচের ওয়াটারলাইনের পুরোটা জুড়ে মোটা করে কাজল না দিয়ে বাইরের এক-তৃতীয়াংশ থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত হালকা টানুন। চোখের বাইরের কোনায় সামান্য কাজল দিয়ে ছোট ব্রাশ বা কটন বাড দিয়ে ছড়িয়ে দিলে তৈরি হবে সফট, স্মাজড লুক। অন্যদিকে, ওপরের ল্যাশলাইনে কাজল দিতে চাইলে একেবারে মোটা রেখা না টেনে ল্যাশের গোড়ার কাছাকাছি চিকন করে দেওয়া ভালো। এতে পাপড়ি ঘন দেখাবে, কিন্তু মেকআপ ভারী লাগবে না। ছবির মতো চোখের বাইরের কোনায় সামান্য টেনে দিলে চোখের আকৃতি আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে।
মেকআপে পরিমিতি
হালকা কাজলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে মুখের বাকি অংশের মেকআপ খুব ভারী না করাই ভালো। ছবির মতো কোমল ব্লাশ, হালকা কনট্যুর, প্রাকৃতিকভাবে সাজানো ভ্রু এবং নিউড-রোজ লিপস্টিক চোখের সাজকে প্রাধান্য দেয়। চুলে বড় বড় ওয়েভ বা নরম কার্ল থাকলে পুরো লুক দেখাবে আরও ফেমিনিন ও পরিশীলিত।
টেকসই তত্ত্ব
- কাজল দীর্ঘক্ষণ ঠিক রাখতে চোখের চারপাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা জরুরি
- গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী কাজল বেছে নেওয়া যেতে পারে
- চোখে জ্বালাপোড়া হলে কাজল ব্যবহার বন্ধ করুন
- মনে রাখুন, কাজলের সৌন্দর্য তার গাঢ়ত্বে নয়; বরং চোখের আকৃতি ও সাজের ধরন বুঝে সঠিক ব্যবহারে



