কেন্দুয়ায় ইয়াবাসহ আটক নারী উপজেলা জামায়াত নেতার স্ত্রী নন

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বাসে তল্লাশির ভিডিও যুক্ত করে ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে— ‘নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাসে তল্লাশি, ২৮ লাখ টাকার ৭ হাজার ইয়াবাসহ উপজেলা জামায়াত আমিরের স্ত্রী গ্রেপ্তার। মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকুক।’ আবার অন্য বেশ কিছু পেজ ও আইডিতে প্রচার করা হচ্ছে— ‘ইয়াবা সহকারে জামাতের আমিরের স্ত্রী মহিলা আমির কট...নাউজুবিল্লাহ।’ তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ইয়াবাসহ আটক হওয়া নারী কেন্দুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের স্ত্রী নন; বরং তিনি স্থানীয় এক মাদক কারবারির স্ত্রী।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও আটক নারীর আসল পরিচয়
প্রচারিত ভিডিওটির কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত ভিডিও ও খবর পাওয়া যায়।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ মরিয়ম বেগম (৩৬) নামের এক নারীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আটক মরিয়ম বেগম কেন্দুয়া উপজেলার রয়েলবাড়ী ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি স্থানীয় মাদক কারবারি জুয়েল মিয়ার স্ত্রী। অন্যদিকে, কেন্দুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নাম ছাদেকুর রহমান। আটক নারীর সঙ্গে জামায়াত আমিরের কোনো সম্পর্ক নেই।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও গুজবের উৎস
বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার ওসি মো. তারিকুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি লেখেন— ‘সাত হাজার পিছ ইয়াবাসহ কেন্দুয়া উপজেলা আমিরের স্ত্রী গ্রেফতারের তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। দশের লাঠি নামক Facebook আইডি হতে ভূয়া তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে।’
সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘কেন্দুয়ায় ৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ উপজেলা জামায়াত আমিরের স্ত্রী গ্রেপ্তার’ দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও মনগড়া। গত ১৫ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক মরিয়ম বেগম মূলত স্থানীয় মাদক কারবারি জুয়েল মিয়ার স্ত্রী। ‘দশের লাঠি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জামায়াত আমিরের নাম জুড়ে দিয়ে এই মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছে।








