‘শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ ছিল বাংলাদেশ’ মন্তব্যটি মমতা ব্যানার্জির নয়

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন—‘শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ ছিল বাংলাদেশ’—এমন দাবিতে একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ভিডিওটিতে মমতা ব্যানার্জিকে বলতে দেখা যায়, ‘শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ ছিল। আমরা দুই বছরে তাই দেখলাম বাংলাদেশের অবস্থা অনেক খারাপ এখন। আমাদের এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’ তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য। ভিডিওটি বাস্তব কোনো বক্তব্যের নয়, বরং এটি এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি সম্পাদিত ‘ডিপফেক’ ভিডিও।
ভিডিওর অসঙ্গতি ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ
আলোচিত ভিডিওটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এতে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে দৃশ্যমান মমতা ব্যানার্জির কণ্ঠের ভিন্নতা এবং তাঁর কথা বলার ভঙ্গিতে স্পষ্ট অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা গেছে, যা বাস্তবসম্মত নয়।
এই অসঙ্গতির নেপথ্যে থাকা কারসাজি নিশ্চিত করতে ভিডিওটি এআই শনাক্তকরণ টুলসে পরীক্ষা করা হয়। এআই ডিটেকশন টুল ‘Hive Moderation’ (হাইভ মডারেশন)-এর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে জানানো হয় যে, আলোচিত এই ভিডিওটি এআই দ্বারা সম্পাদিত ও তৈরি।
আসল ছবির উৎস অনুসন্ধান
ভিডিওটির উৎস সন্ধানে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করা হলে, ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-তে একটি স্থিরচিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আনন্দবাজার পত্রিকা এই ছবির স্থিরচিত্রটি তাদের প্রতিবেদনে ‘ফাইল ছবি’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল। এ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর সেই পুরনো স্থিরচিত্র বা ছবিটিকে ব্যবহার করেই ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে এই চলন্ত ডিপফেক ভিডিওটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি নিশ্চিত যে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম ও ভুয়া। একটি পুরনো স্থির ছবিকে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ডিপফেক ভিডিওতে রূপান্তর করে এবং তাঁর মুখে অসত্য বক্তব্য জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।






