ত্রিপুরা সীমান্তে
বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের দাবিটি সত্য নয়

ছবি: আগামীর সময়
ত্রিপুরা সীমান্তে অনুপ্রবেশের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গুলি করেছে—দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এবং ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি একেবারেই সঠিক নয়। ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো সীমান্তের বা কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের ঘটনার নয়। এটি মূলত ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় যৌথ বাহিনীর একটি পুরোনো অভিযানের দৃশ্য, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবিতে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
আসল ঘটনা ও গণমাধ্যমের প্রমাণ
ভিডিওটির প্রকৃত উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক ভাস্কর’-এর ২ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সংযুক্ত রয়েছে। “Encounter continues for the fourth consecutive day in Kulgam: 2 terrorists killed, 4 soldiers injured” শিরোনামের ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ২০২৫ সালের আগস্টের শুরুর দিকে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগাম জেলার আখাল এলাকার। সেখানে ঘন জঙ্গলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্দুকযুদ্ধ চলে। ওই সময় নিহত এক সন্ত্রাসীর মরদেহের দৃশ্যই মূলত সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে।
‘অপারেশন আখাল’ ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য
পরবর্তীতে ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’সহ একাধিক গণমাধ্যমেও এই একই অভিযান নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেসব প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে কাশ্মীরের কুলগামে “অপারেশন আখাল” নামের এই বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানটি শুরু হয়েছিল। এলাকাটি দুর্গম এবং ঘন জঙ্গল হওয়ায় প্রায় ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এই টানা অভিযান ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। অভিযানে দুজন সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং চারজন ভারতীয় সেনা সদস্য আহত হন।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ভাইরাল হওয়া দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিহত হওয়ার ঘটনার সাথে এই ভিডিওর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে “অপারেশন আখাল” চলাকালে নিহত এক সন্ত্রাসীর মরদেহের পুরোনো দৃশ্য, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতিকে উসকে দিতে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হওয়ার একটি বাস্তব ঘটনা ঘটেছিল। সীমান্তে এমন বিদ্যমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি ভিন্ন দেশের পুরোনো ভিডিওকে বর্তমানে অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।








