আসামি ছিনতাইয়ের ভিডিওকে ‘যুবলীগ-এনসিপি সংঘর্ষের’ অপপ্রচার

ছবি: আগামীর সময়
আওয়ামী যুবলীগের এক নেতাকে আটক করে ‘মব’ করতে গিয়ে এনসিপির এক নেতা সাধারণ মানুষের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন—এমন একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সহকারে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে নানা ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য ও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবির সাথে শেয়ার করা ভিডিওটির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সাম্প্রতিক কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা ‘মব’ করার ঘটনা নয়, বরং গত এপ্রিল মাসে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ঘটে যাওয়া একটি ভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার পুরোনো দৃশ্য।
প্রেক্ষাপট ও ভাইরাল দাবি
সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, যুবলীগ নেতাকে হেনস্থা করতে গিয়ে উল্টো জনরোষের মুখে পড়েছেন এক এনসিপি নেতা এবং সেখানে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটিতে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এবং ধস্তাধস্তির দৃশ্য দেখা যায়।
অনুসন্ধান ও আসল ঘটনা
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা ও উৎস যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চের সহায়তা নেওয়া হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের কোনো রাজনৈতিক ঘটনার নয়। এটি মূলত ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার ভিডিও।
অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান থেকে রিপন নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে একদল লোক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে মূলত সেই বিশৃঙ্খল মুহূর্তগুলোই ধারণ করা হয়েছিল।
ঘটনার প্রকৃত বিবরণ
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে গিয়ে ‘BelkuchiNews24.com’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ২০ এপ্রিল প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার দৃশ্য ও ঘটনার সাথে বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। ওই পেজের পোস্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছিল যে, বেলকুচিতে একদল ব্যবসায়ী পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে প্রিজন ভ্যান থেকে রিপন নামের ওই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিয়েছিল।
এছাড়া, একই ঘটনার আরেকটি ভিডিও ‘Sangbader Alo’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলেও প্রচারিত হতে দেখা যায়, যা ভিডিওটির প্রকৃত ও মূল প্রেক্ষাপটকে শতভাগ নিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, ভাইরাল হওয়া দাবির পক্ষে—অর্থাৎ যুবলীগের কোনো নেতাকে আটক করতে গিয়ে এনসিপির কোনো নেতার গণধোলাই খাওয়ার মতো ঘটনার কোনো সত্যতা বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেশের কোনো মূলধারার গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া যায়নি।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি স্পষ্ট যে, গত এপ্রিল মাসে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের একটি পুরোনো ও সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে নতুন রাজনৈতিক রঙ দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। সুতরাং, যুবলীগ নেতাকে ‘মব’ করতে গিয়ে এনসিপি নেতার মার খাওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর।






