চট্টগ্রামের এক্সপ্রেসওয়ে ও জিইসি মোড় বন্যায় ডোবার ছবিটি এআই

ছবি: আগামীর সময়
টানা ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ জনপদ এখন বিপর্যস্ত। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম জেলায় ১২ জন মারা গেছেন এবং পুরো বিভাগে নিহতের সংখ্যা ৪৪ জনে পৌঁছেছে। অগণিত মানুষের ঘরবাড়ি ও স্বপ্ন এখনও পানির নিচে নিমজ্জিত। উপদ্রুত এলাকার এই বাস্তব ও বুকফাটা হাহাকারের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে কৃত্রিম এক বিভ্রান্তি। ‘চট্টগ্রাম শহর ও এক্সপ্রেসওয়ে ডুবে গেছে’ দাবি করে আকাশ থেকে তোলা (এরিয়াল ভিউ) কিছু চোখধাঁধানো ছবি এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল।
আগামীর সময়ের তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত ছবিগুলো বাস্তব কোনো ঘটনার নয়; বরং এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করা হয়েছে।
আকাশ থেকে ধারণকৃত ছবির দাবি ও অসঙ্গতি
প্রচারিত পোস্টগুলোর মধ্যে, আকাশ থেকে দেখানো (Aerial View) চট্টগ্রাম শহরের দুটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়াতে দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে—‘ডুবে গেছে দেশের বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রামের বাঁশখালী।’ এই ধরনের ক্যাপশনে প্রচারিত ছবিটিতে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (যা বর্তমানে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়ক’ নামে পরিচিত)-এর শুধুমাত্র জিইসি অংশ দেখা যাচ্ছে। ছবিটিতে এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশ বাদে বাকি পুরো অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এমন দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ছড়িয়ে পড়া দ্বিতীয় আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে আশেপাশের ভবনগুলো ডুবে গেলেও ফ্লাইওভার বা এক্সপ্রেসওয়েটি অক্ষত অবস্থায় আছে।
এআই শনাক্তকরণ টুলসের প্রমাণ
বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে নিশ্চিত করতে ছবিগুলো একাধিক নির্ভরযোগ্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুলসে আপলোড করে পরীক্ষা করা হয়। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি এবং ডিজিটালি সম্পাদিত।
এর মধ্যে দ্বিতীয় ছবিটি ‘Hive Detect’ (হাইভ ডিটেক্ট)সহ অন্যান্য সাইটেই পরীক্ষা করা হলে এটি ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ প্রায় এআই সম্পাদিত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম ছবিটি গুগলের জেমিনি (Gemini)-সহ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুলসে আপলোড করা হলে, সেটিতেও এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় সম্পাদিত বলে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবিকভাবে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও, ‘চট্টগ্রাম শহর ও এক্সপ্রেসওয়ে ডুবে গেছে’ দাবিতে প্রচারিত ছবি দুটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এক্সপ্রেসওয়ে ও শহর ডুবিয়ে দেওয়ার এই দৃশ্যগুলো এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।






