‘অক্সফোর্ডের’ সেই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কী?

ছবি: আগামীর সময়
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাদিক কায়েম এবং নাবিলা ইদ্রিস অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ডিবেটিং চেম্বারে বক্তব্য দিয়েছেন— দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। একই দাবি সাদিক কায়েম নিজেও তার একটি ভিডিও বক্তব্যে তুলে ধরেন।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি পুরোপুরি সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে নয়, বরং অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির আমন্ত্রণে ওই প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানটির প্রকৃত ধরন ও ভেন্যু বিতর্ক
ছদ্মনাম ব্যবহারকারী লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, এই অনুষ্ঠানটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অফিসিয়াল কোনো আয়োজন ছিল না। তার দাবি অনুযায়ী, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ ই-মেইলে নিশ্চিত করেছে, অনুষ্ঠানটি প্রাইভেট বা বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হয়েছে এবং এর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ডিবেটিং চেম্বারটি শুধু ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, আয়োজন বা অতিথি আমন্ত্রণের সঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত ছিল না।
আসল আয়োজক ও অনুষ্ঠানের বিবরণ
বাস্তব তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির ভেন্যুতে ‘The July Revolution and the Return of Democracy in Bangladesh’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এটি মূলত আয়োজন করেছিল ‘অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি’। তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজের পোস্ট অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাবিলা ইদ্রিস, সাদিক কায়েম ও আলিয়ার রহমানের নাম উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও ইভেন্টটি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট পাওয়া যায়। সেখানে নিবন্ধনের জন্য একটি গুগল ফর্ম যুক্ত ছিল, যার শিরোনাম ছিল ‘Oxford Union–Bangla Society Bangladesh Panel: Meet and Greet’।
প্রতিবেদন ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অবস্থান
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্রসংবাদমাধ্যম ‘চেরওয়েল’ (Cherwell)-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি ‘The Student-Led Uprising and the Future of Post-Revolutionary Bangladesh’ শীর্ষক একটি আলোচনা আয়োজন করে। সেখানে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েম অংশ নেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন এই আলোচনাকে একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ওয়েবসাইট থেকে স্পষ্ট জানা যায়, এটি একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন বিতর্ক সংগঠন, যা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অংশ বা বিভাগ নয়।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে এটি পরিষ্কার যে, ভাইরাল হওয়া দাবিটি আংশিক সত্য ও আংশিক বিভ্রান্তিকর। হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাদিক কায়েম ও নাবিলা ইদ্রিসরা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ভেন্যুতে বক্তব্য দিয়েছেন— এই তথ্যটি সত্য। তবে তারা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সেখানে যাননি; তারা মূলত অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটির আমন্ত্রণে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।










