বিজয় সেতুপতি যেভাবে সাধারণ চাকরিজীবী থেকে ভারতীয় সুপারস্টার

সংগৃহীত ছবি
অভিনেতা বিজয় সেতুপতিকে ধরা হয় ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বহুমুখী একজন অভিনেতা হিসেবে। দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সীমানা পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন সিনেমাপ্রেমী সকল দর্শকের জন্য আকাঙ্ক্ষার একটি নাম। কিন্তু তার এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না মোটেই।
অভিনয় জগতে প্রবেশ করার আগে বিজয় সেতুপতিকে অনেক মাঝারি মানের চাকরিতেও ঢুকতে হয়েছিল। পার করতে হয়েছে জীবনের বন্ধুর পথ।
কিন্তু বিজয় জানতেন সাফল্য ছুঁতে চাইলে অনেককিছুই সহ্য করতে হবে তাকে। তিনি বুঝেছিলেন যে, নিজেকে গড়ে তুলতে হলে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। নিজের কাজের নৈপুণ্য নিশ্চিত করতে হবে।
শুরুর দিকে তিনি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অভিনয় জীবন শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে বড় চরিত্রগুলোতে কাজ করার সুযোগ পেতে থাকেন তিনি।
তামিল তথা সাউথ ইন্ডিয়ান দর্শকদের মধ্যে পরিচিত হন 'মাক্কাল সেলভান' বা বাংলায় বললে 'জনগণের প্রিয় রত্ন' হিসেবে। নিজের দর্শকদের থেকে ধীরে ধীরে পেতে থাকেন অপরিসীম শ্রদ্ধা। পটু এই অভিনেতার অভিনয় কেরিয়ার তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার মাধ্যমে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তিনি ভারতের বৃহৎ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলিউডে কাজ করতে শুরু করেছেন।
বিভিন্ন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি মিলিয়ে বিজয় সেতুপতির করা কিছু সিনেমার কথা জানা যাক, যেগুলোর মাধ্যমে তিনি দর্শকের মনে আলাদা একটি জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সুধু কভুম(২০১৩)- বিজয় সেতুপতির মতে সুধু কভুম তার ক্যারিয়ারের এমন একটি সিনেমা যার মাধ্যমে তিনি কেবল সমালোচকদের মনে জায়গা করতে পেরেছিলেন এমনই নয়, তার ব্যক্তিগত জীবনেও পড়েছিল এই সিনেমার গভীর ছাপ। সুধু কভুমে তিনি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যেখানে তাকে একজন অপহরণের শিকার মানুষের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল। এই সিনেমার মাধ্যমে বিজয় দেখাতে পেরেছিলেন যে, কোনো নির্দিষ্ট চরিত্রে ভিন্ন মাত্রা ভিন্ন আঙ্গিক দিতে সক্ষম তিনি। এই সিনেমায় মজাদার এবং সৃজনশীল চরিত্রটি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বিজয়।
নানুম রাউডি ধান(২০১৫)- এই সিনেমাটি ছিল তার কেরিয়ারের জন্য আরেকটি মাইল-ফলক। নানুম রাউডি ধান, যেই সিনেমাতে তিনি রাউডি অর্থাৎ গুণ্ডা ঘরানার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। দর্শক এই সিনেমাতে অভিনেত্রী নয়নতারার সাথে বিজয়ের রসায়ন অনেক পছন্দ করেছিলেন। পছন্দ করেছিলেন গল্পের আবেগপূর্ণ স্টোরি লাইনটিও। এই সিনেমাটি ছিল প্রেম, কমেডি আর আবেগপূর্ণ গল্পের এক চমৎকার সংমিশ্রণ।
বিক্রম বেদা(২০১৭)- পুস্কর-গায়ত্রীর পরিচালনায় তৈরি সিনেমা বিক্রম-বেদা বিজয় সেতুপতির সিনেমা ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তা নিয়ে আসতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে। এই সিনেমাতে বিজয় সেতুপতি একটি গ্যাংস্টার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। অভিনেতা আর মাধবন ছিলেন তার বিপরীতে একটি পুলিশ চরিত্রে। এই সিনেমাতে বিজয়ের সংলাপ ছুঁড়ে দেওয়ার ধরণ, নাটকীয় ভঙ্গিমা সবকিছু দর্শকের মনে দাগ কেটেছিল।
মহারাজা (২০২৪)- মহারাজা সিনেমাটি বিজয় সেতুপতির সফল সিনেমার মুকুটে সংযুক্ত আরেকটি সাম্প্রতিক রত্ন বলা যায়। এই সিনেমার গল্পের গভীরতা, আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি দর্শক প্রীতি পেতে সক্ষম হয়েছিল। পেয়েছিল অনেক সিনেমা সমালোচকের বাহবাও।
সুপারডিলাক্স (২০১৯)- সুপার ডিলাক্স সিনেমায় বিজয় সেতুপতি একজন ট্রান্সজেন্ডারের চরিত্রে অসামান্য অভিনয় দেখিয়েছেন। এই সিনেমায় তার পারফর্মেন্স প্রমাণ করেছিল যে, অভিনেতা হিসেবে তিনি খুবই বোল্ড এবং দক্ষ। সমালোচকদের মতে, বিজয় নিজের অন্তর্নিহিত নারীসত্ত্বার সুন্দর প্রস্ফুটন ঘটাতে পেরেছেন এই সিনেমাতে।
এসব ছাড়াও 'সিক্সটি নাইন', 'ধারামাধুরাই', 'মাস্টার', 'ভিদুতালাই' ভিন্নধর্মী সিনেমা বিজয়ের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিটি কাজে দক্ষতার ছাপ তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন এই অভিনেতা। এটলি কুমার পরিচালিত 'জাওয়ান' সিনেমাতে শাহরুখের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করেছেন তিনি। সামাজিক নাটকীয় অনাড়ম্বর কোনো চরিত্রই হোক কিংবা শহরের ভয়ঙ্কর কোনো গ্যাংস্টারের চরিত্র, সব ক্ষেত্রেই একে একে দক্ষতা দেখিয়েছেন সাউথের মাক্কাল সেলভন। এবং সময়ের পরিক্রমায় একসময় হয়ে উঠেছেন প্যান-ইন্ডিয়ান দর্শকের সুপারস্টার।

