‘জঘন্য’ চাইনিজ অ্যানিমেশন দেখতে ভিড়, টেক্কা দিচ্ছে স্পাইডার-ম্যানকে

‘নিউ লাই’ সিনেমার অংশ
সিনেমা যদি দেখতে হয়, তবে ভালো স্ক্রিপ্ট, আধুনিক গ্রাফিক্স আর নামী-দামি তারকাদের উপস্থিতিই তো দেখার কথা! কিন্তু কেবল ‘কতটা বাজে হতে পারে একটি সিনেমা’— তা স্বচক্ষে দেখতেই সিনেমা হলে টিকিট কাটার হিড়িক পড়েছে দর্শকদের।
আর সেই সুবাদেই বক্স অফিসে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এবং ‘দ্য ওডিসি’-র মতো হলিউডের মেগা বাজেট সিনেমাগুলোকে টেক্কা দিচ্ছে একটি অ্যানিমেটেড ছবি!
চীনের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ৮৬ মিনিটের এই অ্যানিমেটেড সিনেমার নাম ‘নিউ লাই’। যার বাংলা ‘গরু আসছে’। গল্পটি একটি সদ্যজাত বাছুর ও একটি পাখির বিমূর্ত স্বপ্নের ভ্রমণ নিয়ে তৈরি।
গত ৫ আগস্ট চীনে কোনো রকম ট্রেলার বা প্রচারণা ছাড়াই মুক্তি পায় সিনেমাটি। প্রথম ১০ দিনে পুরো চীনে মাত্র ৩০০ জন দর্শক টিকিট কেটেছিলেন, যার মোট আয় ছিল মাত্র ৭,৭০০ ইউয়ান, বাংলা টাকায় প্রায় ১ লাখ টাকা। ফ্লপ হিসেবে ইতিহাস গড়ার পথেই ছিল এটি।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমাটির কিছু ক্লিপ ভাইরাল হয়। বিশ্রী কম্পিউটার গ্রাফিক্স, আড়ষ্ট চরিত্র আর বিভ্রান্তিকর গল্প দেখে নেটিজেনরা ট্রল করা শুরু করেন। কেউ কেউ এটিকে এআইয়ের চেয়েও জঘন্য এবং ২০২৬ সালের সবচেয়ে বাজে সিনেমা বলে অভিহিত করেন।
তবে এই ট্রল ও উপহাসই সিনেমাটির জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়! সিনেমাটি ট্রল হতে হতে একটি জনপ্রিয় ‘মিমে’ পরিণত হয়। এর ফলে আসলেই সিনেমাটি কতটা জঘন্য বানানো হয়েছে, তা নিজের চোখে দেখতে দর্শকরা থিয়েটারে ভিড় জমাতে শুরু করেন!
চীনা বক্স অফিস প্ল্যাটফর্ম ‘মাওইয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, হু হু করে টিকিট বিক্রি বেড়ে সিনেমাটির আয় ইতোমধ্যে ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান অর্থাৎ প্রায় ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে!
সবচেয়ে তাজ্জব করা বিষয় হলো— পুরো সিনেমাটি কোনো বড় অ্যানিমেশন স্টুডিও বানায়নি। সিন ইউমেং ও সুন লিফাং নামের মাত্র দুজন মানুষ টানা ৫ বছর ধরে ঘরে বসে এটি তৈরি করেছেন। সম্পর্কে তারা মা-ছেলে। সিনেমাটির স্ক্রিপ্ট, পরিচালনা, প্রযোজনা থেকে শুরু করে ডাবিং— সব কাজ করেছেন তারা দুজনই।
সিনেমার পরিবেশক জানান, ছবিটির কোয়ালিটি অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় অনেকে তাকে এটি হলে না চালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিচালকের সাথে বন্ধুত্ব থাকায় তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন। আর সেই ঝুঁকিই এখন ইতিহাস গড়ে ফেলেছে।
বর্তমানে পুরো চীনজুড়ে হলে হলে দর্শকরা সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন কোনো ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্য নয়; বরং ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা নিতে! উল্টো নিয়মে বক্স অফিস কাঁপানো এই ঘটনা এখন বিশ্ব বিনোদন জগতের অন্যতম চর্চিত বিষয়।







