বাবা দিবসে দেখা যেতে পারে যে তিনটি ক্লাসিক সিনেমা

টু কিল আ মকিংবার্ড (১৯৬২)
বাবা দিবসকে ঘিরে সাধারণত উপহার, শুভেচ্ছা আর ছোটখাটো আয়োজনেই থেমে যায় আলোচনা। কিন্তু প্রায় সব উপলক্ষেই সিনেমাপ্রেমীরা ভাবেন সিনেমা নিয়ে দিবসটি উদযাপন করার কথা। সিনেমা অনেকসময়ই উদযাপনের পরিচিত সীমাকে ছাড়িয়ে গিয়ে সম্পর্ক, দায়িত্ব আর নীরব অনুভূতিগুলোকে নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে শেখায়। কিছু চলচ্চিত্র আছে, যেগুলো সরাসরি কোনো “বাবা দিবসের গল্প” বা বাবাকে নিয়ে স্তুতি করে না, কিন্তু ভেতরের চরিত্র, সিদ্ধান্ত, গল্প আর অন্তর্নিহিত আবেগ বাবা-সন্তানের সম্পর্ককে খানিকটা নতুনভাবে দেখতে বাধ্য করে। এমনই তিনটি চলচ্চিত্র নিয়ে এই আয়োজন। যেগুলো আলাদা সময়, আলাদা বাস্তবতা থেকে এলেও এক ধরনের মানবিক সংযোগের সূত্রে একত্রে বাঁধা। বাবা দিবসকে ঘিরে কিছু সিনেমা আছে, যেগুলো আলাদা আলাদা গল্প বললেও বাবা-সন্তানের সম্পর্ক আর জীবনের নানা অনুভূতিকে তুলে ধরে খুব সুন্দরভাবে। আজকে আমরা জানবো এমন তিনটি সিনেমার কথা।
১। টু কিল আ মকিংবার্ড (১৯৬২)
এই চলচ্চিত্রটি একটি ছোট শহরের গল্পকে ঘিরে আবর্তিত হয়। যেখানে একটি আদালতের মামলা পুরো সমাজের বাস্তবতাকে উন্মোচন করতে থাকে ধীরে ধীরে। চলচ্চিত্রের মূল চরিত্র অ্যাটিকাস ফিঞ্চ একজন আইনজীবী। যিনি এমন একটি মামলায় দাঁড়ান যেখানে সমাজের অধিকাংশই একদিকে, আর সত্য অন্যদিকে। গল্পের মূল ফোকাস শুধু আদালত নয়, বরং তার দুই সন্তান স্কাউট ও জেমের চোখে এই ঘটনাগুলো কীভাবে ধীরে ধীরে দুনিয়াকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এই সিনেমার গল্পে। সিনেমাটি জুড়ে আছে শান্ত, সংযত আবহ। নেই বড় কোনো অতিরঞ্জন। কিন্তু প্রতিটি দৃশ্য ধীরে ধীরে গভীর হয়ে ওঠে।
২। বাইসাইকেল থিভস (১৯৪৮)
একেবারেই ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দেয় এই চলচ্চিত্রটি। যুদ্ধ পরবর্তী রোমে নতুন কাজ পায় একজন মানুষ। কিন্তু সেই কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় শহরের রাস্তায় তার দীর্ঘ এক খোঁজ। ছেলের হাত ধরে, কখনও ক্লান্ত, কখনও হতাশাকে নিয়ে চলতে থাকে এই যাত্রা। যদিও বড় কোনো নাটকীয় ঘটনার গল্প নয় এটি। বরং ছোট ছোট মুহূর্তের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা মানসিক চাপ, অস্থিরতা আর বাস্তব জীবনের সংগ্রামের গল্প এটি। প্রতিটি সাধারণ দৃশ্যই ধীরে ধীরে ভারী হয়ে ওঠে যেখানে।
৩। লাইফ ইজ বিউটিফুল (১৯৯৭)
এই সিনেমাটি একদিকে হাস্যরসাত্বক, অন্যদিকে গভীর ট্র্যাজেডির মিশ্রণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক পরিবারকে বন্দী শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক ব্যক্তি চেষ্টা করেন পুরো পরিস্থিতিকে নিজের সন্তানের জন্য একটি “খেলা” হিসেবে উপস্থাপন করতে। যাতে সে ভয় না পায় এবং তার নিষ্পাপবোধ বজায় থাকে। ছবিটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর টোনের দ্বৈততা। একই সঙ্গে হালকা, হাস্যকর আবার ভয়াবহভাবে আবেগঘন। এককথায় ভয়াবহতাকে হালকা চালে তুলে ধরেন পরিচালক।






