মায়ের ত্যাগেই আজকের অবস্থান, জানালেন আরশ খান

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আরশ খান জানিয়েছেন, তার আজকের অবস্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মায়ের। সম্প্রতি ‘আগামীর সময়’-এর একটি পডকাস্টে নিজের সংগ্রাম, মায়ের ত্যাগ এবং জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
আরশ খানের ভাষ্য, তার মা কখনো তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে দেননি। বরং সবসময় তাকে ঘিরে রেখেছেন এবং নিজের কষ্ট সহ্য করে পথ তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও তার মা শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই নিয়মিত কাজ করে গেছেন, যাতে ছেলের পড়াশোনা ও সংগ্রাম থেমে না যায়।
অভিনেতা জানালেন, তিনি ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। সেই সময় একদিকে পড়াশোনার চাপ, অন্যদিকে ক্যারিয়ার গড়ার লড়াই চলছিল। তার দাবি, মা সবসময় চেষ্টা করেছেন যেন তিনি কোনোভাবে মনোযোগ হারিয়ে না ফেলেন।
মায়ের শারীরিক কষ্টের প্রসঙ্গ টেনে আরশ খান বলেছেন, অনেক আগে থেকেই তার মায়ের পায়ে ব্যথা ছিল। গত দুই বছর ধরে নিয়মিত থেরাপির ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তবে তার উপলব্ধি, মায়ের দীর্ঘদিনের সেই শারীরিক ক্ষয় আর ত্যাগের ফলেই আজ তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।
পডকাস্টে সাংগঠনিক সহায়তা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। তিনি দাবি করেছেন, মায়ের অসুস্থতার সময়ে অনেক সংগঠন পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো সহায়তা করেনি। কেউ কেউ শুধু ছবি তুলে চলে গেছেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে অনেক মানুষ তাকে সহায়তা করেছেন বলে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
জীবন নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন আরশ খান। তিনি জানালেন, তার কখনো বিলাসবহুল জীবনযাপনের স্বপ্ন ছিল না। বরং প্রয়োজনের সময় সামান্য চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারাই তার কাছে বড় বিষয়।
শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে অভিনেতা বললেন, তিনি একদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা অ্যান্ড ড্রামাটিকস বিভাগে সুযোগ পেয়েছিলেন, অন্যদিকে তিতুমীর কলেজে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়েও ভর্তি হওয়ার সুযোগ আসে। সে সময় আর্থিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করেই তুলনামূলক কম খরচের কারণে তিতুমীর কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।







