‘আমিই বনলতা সেন কি না বলে দিলে মজা থাকবে না’

মাসুমা রহমান নাবিলা
ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘বনলতা সেন’। জীবনানন্দ দাশের জীবন অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। এ প্রসঙ্গে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান
‘বনলতা সেন’ কি আপনিই?
এখনই এটা খোলাসা করা যাবে না। আমার চরিত্রে একটা রহস্য আছে। সেটি থাকুক। বনলতা সেন আদৌ সত্যি কেউ ছিলেন কি না— সেটি কিন্তু আমরা জানতে পারিনি। তার চরিত্র নিয়ে নানা তত্ত্ব প্রচলিত আছে। তাকে নিয়ে অনেকে হরেক রকম কল্পনা করেছেন। নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নিজের কল্পনায় কী ভেবেছেন, সেটাই রয়েছে এই গল্পে। আমরা অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ফলে আমার চরিত্র কী, সেটা এখন বলে দিলে আর মজা থাকবে না। আমার এই পরিচয় সিনেমা হলে দেখলেই ভালো।
সিনেমাটির প্রস্তাব আপনার কাছে কীভাবে আসে? তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
আমার কাছে শুরুতে অন্য আরেকটি চরিত্রের প্রস্তাব আসে। তখন বলেছি, পুরো স্ক্রিপ্ট পেলে বুঝব চরিত্রটির স্থাপন কীভাবে হবে। স্ক্রিপ্ট পুরোপুরি পড়ে আমার অসাধারণ লেগেছে। বলতে পারেন একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেলাম। ‘তুফান’ সিনেমার আগের কথা বলছি। অনেক দিনের বিরতিতে ছিলাম। তখন আমার কাছে মনে হয়েছে, বিরতির পর ওই চরিত্রের মাধ্যমে পর্দায় ফিরলে টাইপকাস্ট হয়ে যাব। আমার কাছে তেমন প্রস্তাবই হয়তো আসবে। ফলে প্রধান চরিত্রে আমাকে ভাবতে ইচ্ছা নাও হতে পারে অন্যদের। তাই তখন সবিনয়ে না করে দিই। শেষমেশ যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, সেটি নিয়েই আমার আগ্রহের কথা জানালাম। সেটি পেলে অবশ্যই কাজ করব, বললাম। নির্মাতা সময় নিলেন। অনেক দিন পর তিনি আবার যোগাযোগ করলেন। আমার অডিশন নেওয়া হয় তিনবার। এরপর সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারলাম।
চরিত্রটির জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
আমার প্রস্তুতি ছিল মূলত নির্মাতারই প্রস্তুতি। তিনিই আমাদের প্রস্তুত করেছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে এ প্রকল্পে যুক্ত হই। ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি থেকে আমরা নিয়মিত মহড়া শুরু করি। টানা দুই মাস প্রতিদিন চরিত্রের সাজে মহড়া করেছি আমরা। এটি জরুরি ছিল। কারণ এত কঠিন চিত্রনাট্য ও সংলাপ-মহড়া না করে গেলে যথাযথভাবে কাজ করা সম্ভব হতো না। নির্মাতা আমাকে অনেক ধরনের এক্সারসাইজও দিয়েছিলেন এবং রেফারেন্স পাঠিয়েছিলেন। বিশেষ করে আমার কণ্ঠের। তার চাওয়া ছিল, আমার কণ্ঠ যেন আরেকটু ভারী হয়। ঘরেই প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টা মহড়া করেছি।
শুটিং চলাকালে অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
অনেক চাপের ছিল শুটিং। আমরা এত চাপে ছিলাম যে, একজন আরেকজনের সঙ্গে আড্ডাও দিতে পারিনি। কয়েক দিন আগে মনে হলো, শুটিংয়ে আমাদের একটা ছবি পর্যন্ত তোলা হয়নি!
সিনেমাটি মুক্তি দিতে বিলম্ব হলো কেন?
যতদূর জানি, সিনেমাটি ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই পোস্ট-প্রোডাকশনের কিছু কাজ ভারতে শুরু করেছিলেন নির্মাতা। এরই মধ্যে জুলাই আন্দোলনের পর ভিসা জটিলতা শুরু হলো। সেসব জটিলতা কাটিয়ে কিছুদিন আগে তিনি ভারতে গিয়ে পোস্টের কাজ শেষ করতে পেরেছেন।
আপনারা সিনেমাটি দেখে পরিচালককে নাকি মুক্তি দিতে চাপে ফেলেছেন?
খুব বেশিদিন হয়নি সিনেমাটি দেখেছি। এরপর আমরা পরিচালককে বলেছি, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এটি মুক্তি দেওয়া উচিত। তিনিও সম্মতি জানালেন। নির্মাতা পোস্টার থেকে শুরু করে মুভির সব উপকরণ প্রস্তুত করেই রেখেছিলেন।
শুটিং শেষ হওয়ার অনেক দিন পর সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। দর্শকরা এটি দেখতে আগ্রহী হবেন তো?
আমার মনে হয়, যা হয় ভালোর জন্য হয়। সঠিক সময়েই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাচ্ছে। ‘বনলতা সেন’-এর মতো নতুন ধরনের সিনেমা কখনো আগে হয়নি। বাংলাদেশে এমন কাজ এটাই প্রথম এবং এই সিনেমা দেখার জন্য দর্শকরাও এখন প্রস্তুত। আমরাও পুরোদস্তুর প্রমোশন নিয়ে কাজ শুরু করছি।




