লাতিন আমেরিকার প্রথম তারকা হিসেবে লন্ডনে ব্যাড বানির ইতিহাস

লন্ডনে ইতিহাস গড়লেন ব্যাড বানি
বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে এবার নতুন ইতিহাস লিখলেন পুয়ের্তো রিকোর জনপ্রিয় র্যাপার ব্যাড বানি। গত শনিবার রাতে লন্ডনের টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে এক জমকালো কনসার্টের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার প্রথম কোনো শিল্পী হিসেবে যুক্তরাজ্যের স্টেডিয়ামে হেডলাইনার হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন তিনি।
তীব্র গরম আর আর্দ্র আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে প্রায় ৫০,০০০ দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়াম পরিণত হয়েছিল এক টুকরো লাতিন আমেরিকায়।
৩২ বছর বয়সী এই গায়কের আসল নাম বেনিতো আন্তোনিও মার্তিনেজ ওকাসিও। বর্তমানে তিনি তার ‘দেবি তিরার মাস ফতোস’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। এই অ্যালবামের ‘লা মুদানজা’ ও জনপ্রিয় সিঙ্গেল ‘নুয়েভায়োল’ দিয়ে গান শুরু করে লাতিন র্যাপ এবং ওল্ড-স্কুল সালসার এক অসাধারণ ফিউশন তুলে ধরেন তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম কোনো সম্পূর্ণ স্প্যানিশ ভাষার অ্যালবাম হিসেবে এটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ জিতে ইতিহাস গড়েছিল।
কনসার্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল স্টেডিয়ামের পেছনের অংশে পুয়ের্তো রিকোর ঐতিহ্যবাহী বাড়ির আদলে তৈরি একটি দ্বিতীয় মঞ্চ, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘লা ক্যাসিতা’। কোনো আধুনিক হাই-টেক মেগা রানওয়ের বদলে একদম সাদামাটা ও গ্রামীণ আবহের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ব্যাড বানি দর্শকদের একদম কাছাকাছি চলে যান, যা পুরো স্টেডিয়ামকে একটি বিশাল ‘হাউস পার্টি’-র রূপ দেয়।
ব্যাড বানির এই ইতিহাস গড়ার রাতে গ্যালারিতে বসেছিলেন পপ সম্রাজ্ঞী অ্যাডেল, মডেল মায়া জামা এবং উইম্বলডন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ।
পুরো কনসার্টে দর্শকদের সাথে প্রায় সম্পূর্ণ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বললেও, তার এই ট্যুরটিকে বিশ্বজুড়ে বহুসংস্কৃতিবাদ এবং নিজস্ব পরিচয় রক্ষার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। মজার বিষয় হলো, অভিবাসন কর্মকর্তাদের হয়রানির ভয়ে ব্যাড বানি তার এই ওয়ার্ল্ড ট্যুরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কনসার্ট রাখছেন না। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে গেলেও লন্ডনের মঞ্চ থেকে তিনি অভিবাসী ও লাতিনোদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এক প্রচ্ছন্ন বার্তা দেন।
কনসার্টের অন্যতম আবেগময় মুহূর্তটি আসে যখন ব্যাড বানি গত বুধবার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হওয়া ভেনিজুয়েলার প্রতি সমবেদনা জানান। দিন দিন দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তিনি মঞ্চ থেকে সংহতি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বিশ্বের সমস্ত লাতিনোরা আজ আপনাদের পাশে আছে।’ তার এই মানবিক বার্তা সেখানে উপস্থিত হাজারো লাতিনো ভক্তদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।
‘দেবি তিরার মাস ফতোস’ কথাটির বাংলা অর্থ হলো—‘আমার আরও বেশি ছবি তোলা উচিত ছিল’। তবে টটেনহ্যাম স্টেডিয়াম থেকে ফেরার সময় কোনো ভক্তেরই হয়তো এই আক্ষেপ ছিল না, কারণ হাজার হাজার সেলফি আর ভিডিওতে বন্দি ছিল সেই ঐতিহাসিক রাতের প্রতিটি মুহূর্ত।
আগামী বছরের গ্রীষ্মে কলম্বিয়ান গায়িকা ক্যারল জি-ও এই একই ভেন্যুতে গাইতে আসছেন। স্প্যানিশ ভাষার এই জোয়ার দেখে সংগীত বোদ্ধাদের ধারণা, ভাষা কোনো বাধা নয়, বরং স্প্যানিশ সংগীতের এই জয়যাত্রা কেবল শুরু!





