আইসিইউতে ‘রোকযানা’ খ্যাত সংগীতশিল্পী শেখ সাহেদ আলী

শেখ সাহেদ আলী
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ডসংগীত শিল্পী এবং ‘গাছ’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ‘রোকযানা’ খ্যাত শেখ সাহেদ আলী বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার এই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতার খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এরশাদুল হক।
এরশাদুল হক জানান, সাহেদ আলী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছেন এবং গত চার বছর ধরে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর থাকতে হচ্ছে। এর মধ্যেই গত ২৪ অক্টোবর তার শরীরে সোডিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। এসময় তিনি স্ট্রোকের শিকার হন, যার ফলে বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না এবং ইশারার মাধ্যমেই মনের ভাব প্রকাশ করতে হচ্ছে। এর পরেই শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে ডেঙ্গু ধরা পড়ে।
ডেঙ্গু ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক জটিলতার কারণে তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে গত ৩১ অক্টোবর তাকে প্রথমে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে এবং পরবর্তীতে রাজধানীর অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
নব্বইয়ের দশক থেকে দেশের সংগীতাঙ্গনে নিয়মিত গান করে আসছেন শেখ সাহেদ। ‘গাছ’ ব্যান্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি শ্রোতামহলে পরিচিতি লাভ করেন। তার কণ্ঠে ‘রোকযানা’ গানটি এতটাই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে পরবর্তীতে তিনি ‘রোকযানা সাহেদ’ নামেই বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেন।
তার জনপ্রিয় অন্যান্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘উপলব্ধি’, ‘ক্লাসরুমে বসে শেখা’, ‘উটপাখির ডিম’, ‘খোলা চুল’, ‘প্রেম আসবেই’।
১৯৯১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘প্রভু’ বাজারে আসার পর তিনি মোট পাঁচটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন।
অসুস্থতার কারণে থমকে গেছে সংগীতশিল্পী শেখ সাহেদের দীর্ঘদিনের একটি গানের আয়োজন ও বহু প্রতীক্ষিত পরিকল্পনা। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে তৈরি করা তার ২৪টি নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন শিল্পী। জি-সিরিজের ব্যানারে গানগুলো প্রকাশের পাশাপাশি সংগ্রহে রাখার জন্য চারটি করে সিডি, ক্যাসেট ও ভিনাইল রেকর্ড প্রকাশেরও পরিকল্পনা ছিল।




