নবরাত্রির অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্কে ‘খালাসি’ গায়ক আদিত্য

গুজরাটি লোকসংগীতশিল্পী আদিত্য গাধভি
ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে নবরাত্রির একটি অনুষ্ঠানে অ-হিন্দু ও মুসলিমদের অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ‘খালাসি’খ্যাত গুজরাটি লোকসংগীতশিল্পী আদিত্য গাধভি। তবে পুরো ঘটনার সঙ্গে নিজেকে জড়িত নয় বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আদিত্য জানিয়েছেন, ওই ঘোষণা তার নয় এবং এ বিষয়ে তাকে বা তার দলকেও কিছু জানানো হয়নি।
আহমেদাবাদের সাভানা পার্টি প্লটে ‘রঙ মোরলা’ নামে ওই নবরাত্রির অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সংগীত পরিবেশন করছিলেন আদিত্য গাধভি। এ সময় মঞ্চ থেকে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আকাশ ত্রিবেদী অ-হিন্দু ও মুসলিমদের অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সঞ্চালক ঘোষণা করেন, সনাতন ধর্ম রক্ষার জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি, কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্যও উপস্থিতদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মঞ্চের এ ঘোষণা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা। এরপর বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন আদিত্য গাধভি।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি জানান, তার অজান্তে কয়েকজন মঞ্চ ব্যবহার করে ওই বার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, অনুষ্ঠানস্থলে কী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে বা তার দলকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। আদিত্য বলেছেন, গরবা কখনো কারও পদবি জানতে চায়নি। গুজরাটসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নানা ধর্মের মানুষ একসঙ্গে গরবায় অংশ নিয়ে আসছেন।
নিজের মঞ্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে আদিত্য আরও বলেছেন, আমার মঞ্চ সংগীত ও ভক্তির জন্য।
তিনি জানান, গরবার মতো লোকজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন মানুষের মধ্যে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম। সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করার বিষয়টি তার অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে অনুষ্ঠানে দেওয়া ওই ঘোষণাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। আদিত্য গাধভির বক্তব্যের পর অনেকে তার অবস্থানকে স্বাগত জানালেও, অনুষ্ঠানস্থলে এমন ঘোষণা কীভাবে দেওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।




