শোবিজ তারকাদের অন্য প্রতিভা
- অনেক সময় নিজের পরিচিতির বাইরেও নেশা বা শখ হিসেবে অনেক বিষয়ে তারকাদের পারদর্শিতা থাকে। এমন কিছু শিল্পীর অন্য প্রতিভার গল্প থাকছে এখানে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আফজাল হোসেন
পর্দায় আফজাল হোসেনের অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন কিংবা চরিত্রকে নিজের মতো করে ধারণ করার ক্ষমতা দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। তবে আফজাল হোসেন শুধু অভিনেতা নন; একই সঙ্গে চিত্রশিল্পী, কবি, লেখক, নির্মাতা, ইলাস্ট্রেটর ও বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা। অভিনয়ের পাশাপাশি আফজাল হোসেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়গুলোর একটি চিত্রশিল্পী হিসেবে। তিনি বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিল। পরে আর্ট কলেজে পড়াশোনা করার ফলে ক্যানভাসে রঙ, রেখা ও মানুষের নানা অনুভূতি নিয়ে একটা আগ্রহ তৈরি হয়। আমার আরেকটি শখের বিষয় ফটোগ্রাফি। আমি এগুলো করে খুবই আনন্দ পাই।’
শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় সিরিজ ছোটকাকুর সঙ্গেও তার নির্মাতাসত্তা জড়িত। মুক্তি প্রতীক্ষিত রয়েছে অনুদানের শিশুতোষ সিনেমা ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’। ১৯৮৪ সাল থেকে বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর এ ক্ষেত্রেও নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
রুমানা রশীদ ঈশিতা
নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঈশিতা একই সঙ্গে নৃত্যশিল্পী, গায়িকা, নির্মাতা, লেখক, উপস্থাপক, শিক্ষক এবং উদ্যোক্তা। শিশুশিল্পী হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে উঠে এসে অভিনয়ে তৈরি করেছেন নিজের শক্ত অবস্থান। ১৯৮৯ সালে তার প্রথম গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। পরে তার একাধিক অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে ‘রুপোর ঝলক’ গান দিয়ে আবারও সংগীতে ফিরেছিলেন তিনি। ঈশিতা বললেন, ‘শৈশব থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মঞ্চে নাচের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ফলে আমার শিল্পীসত্তায় অভিনয়, গান ও নৃত্য— তিনটি মাধ্যমই পাশাপাশি বেড়ে উঠেছে।’ এ ছাড়া ‘এক নিঝুম অরণ্যে’ দিয়ে পরিচালনায় যাত্রা শুরু করে ‘নির্জন আড়ালে’, ‘গোধূলি বেলায়’সহ কয়েকটি নাটক নির্মাণ করেছেন।
মোশাররফ করিম
অভিনয়ের বাইরেও মোশাররফ করিমের সৃজনশীলতার জগৎ বেশ বিস্তৃত। গান করেন, লেখেন, কবিতা ও নাটক লেখেন। তবলা বাজানোয়ও দক্ষ। উনিশ আশির দশকের শেষ দিকে থিয়েটারে যুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় মঞ্চে অভিনয় করেছেন। তিনি বললেন, ‘দীর্ঘদিন থিয়েটার করার কারণে অভিনয়, কবিতা, গান ও নাট্যরচনার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রের প্রতিও আগ্রহ বাড়ে। টেলিভিশনের জন্য দু-একটি নাটক লিখেছি; মঞ্চের জন্যও লিখেছি। স্কুলে কবিতা আবৃত্তি করতে গিয়েই শিল্পী হওয়ার এক ধরনের আনন্দ আবিষ্কার করি। সেই কবিতার সঙ্গে সম্পর্ক পরবর্তী জীবনেও রয়ে গেছে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগ তার লেখা তিনটি মঞ্চনাটক— ‘একলব্য আখ্যান’, ‘সীতায়ন’ ও ‘নমরুদের শকুন’ মঞ্চস্থ করেছে।
জেমস
গানের বাইরেও জেমসের রয়েছে আরও একটি দারুণ সৃজনশীল জগৎ ‘ফটোগ্রাফি’। বিশেষ করে পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফিতে তার আগ্রহ ও দক্ষতার কথা অনেকেরই জানা। অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার বেশ কিছু ছবি তুলেছিলেন জেমস। ক্যামেরায় প্রকৃতি, শহর, পথঘাট, মানুষ কিংবা কোনো একটি মুহূর্তের নান্দনিকতাও তাকে টানে। জেমস বললেন, “ছবি তুলতে হলে ফটোগ্রাফারকে অনেকটা ‘অদৃশ্য’ থাকতে হয়। কিন্তু পরিচিতির কারণে বাংলাদেশে ক্যামেরা হাতে বের হলে মানুষ জড়ো হয়ে যায়, ফলে স্বাভাবিকভাবে ছবি তোলার সুযোগ কমে যায়।” তবে বিদেশে শো করতে গেলে অবসর সময়ে ঘুরতে ঘুরতে ছবি তোলেন। নিজের তোলা ছবি নিয়ে প্রদর্শনী করার সম্ভাবনার কথাও জেমস একসময় বলেছেন।
নুসরাত ফারিয়া
মডেলিং, অভিনয়, উপস্থাপনা, গান, নাচ, রেডিও জকি এবং বিতর্কচর্চা— বিনোদন অঙ্গনে আসার আগেই এসবের সঙ্গে নুসরাত ফারিয়ার সখ্য গড়ে ওঠে। ফারিয়ার শোবিজে প্রবেশই হয়েছিল উপস্থাপনার মাধ্যমে। রেডিওতেও কাজ করেছেন। তার আরেকটি বড় পরিচয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে। ফারিয়া বললেন, ‘একসময় ক্লাসিক্যাল নৃত্য করতাম। আর ছোটবেলা থেকেই গান করি। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গান শিখিনি।’ ২০১৮ সালে ‘পটাকা’ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গানের জগতে আত্মপ্রকাশ ফারিয়ার। ২০২৬ সালে দীর্ঘ বিরতির পর প্রকাশ করেছেন ‘লোকে বলে’। এ ছাড়া তিনি জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
চঞ্চল চৌধুরী
চঞ্চল চৌধুরীর শিল্পীসত্তা শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ নয়। গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো— শৈশব থেকেই বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। বিভিন্ন সময় তার গাওয়া গান শ্রোতাদের প্রশংসাও পেয়েছে। চঞ্চল বললেন, ‘গান গাইতে ভালোবাসি। তবে গান আমার জীবনে অনেক কিছু দিয়েছে, আবার অনেক কিছু কেড়েও নিয়েছে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এই সাবেক শিক্ষার্থীর ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ছিল প্রবল ঝোঁক। গ্রামের বিয়েবাড়িতে লেখা, আঁকা কিংবা আলপনার প্রয়োজন হলেও সেই দায়িত্ব নিতেন তিনি।
তাসনিয়া ফারিণ
অভিনয়ের পাশাপাশি ভালো গাইতে পারেন। তাহসানের সঙ্গে গেয়েছেন ‘রঙে রঙে রঙিন হব’ গানটি। পরে ২০২৫ সালে ইমরান মাহমুদুলের সঙ্গে ‘মন গলবে না’ গানেও কণ্ঠ দেন। গানটি প্রকাশ করে তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ফড়িং ফিল্মস’। বেশ কিছু বাংলা ও ইংরেজি গান কাভারও করেছেন। যশোরে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে গান করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
কাজী নওশাবা
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন পাপেটিয়ার। সিসিমপুরের ইকরি মিকরি চরিত্রে কণ্ঠদান ও পাপেটটি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিসিমপুরের ভূতো পাপেট চরিত্রেও অভিনয় করেন।
আরও যারা
মডেল, অভিনেত্রী, নির্মাতা, প্রযোজক লাক্স সুন্দরী কুসুম শিকদার লেখালেখি, আবৃত্তি ও গান করেন। ফজলুর রহমান বাবু গায়ক হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয়। মেহের আফরোজ শাওন হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি গান করেছেন। তিনি উপস্থাপিকা এবং নৃত্যশিল্পীও। জয়া ‘বিনিসুতোয়’ রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন। লেখালেখি-আবৃত্তিতেও সপ্রতিভ।
তাহসান একই সঙ্গে মডেল, অভিনেতা, উপস্থাপক, গীতিকার, সুরকার, লেখক এবং গায়ক। গিটারও ভালো বাজান। অপি করিম পেশায় স্থপতি। অভিনয়, উপস্থাপনা, নৃত্য, গান গাওয়া— সব ক্ষেত্রেই দ্যুতি ছড়িয়েছেন। সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি ভালো গানও গাইতে পারেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। অভিনেতা-নির্দেশক টনি ডায়েসের ভরাট কণ্ঠের আবৃত্তি সবাইকে মুগ্ধ করে। পূজা চেরী শুধু অভিনয়ে নন, নাচেও পারদর্শী। মিমিক্রি করতে পারেন। গায়িকা, উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী মিথিলা। তার একক ও তাহসানের সঙ্গে গাওয়া অনেক গান তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এফ এস নাঈম বেশ কিছু মৌলিক গান করেছেন ও লিখেছেন। অন্যদিকে নৃত্যশিল্পী-অভিনয় দুই পরিচয়েই পরিচিত তারিন, মম, নাদিয়া, মৌ, বিজরী, চাঁদনি, মিম, ভাবনা, শখ।



