আপুর সঙ্গে আমার তুলনা চলে না

মালাইকা চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর পথে হাঁটছেন ছোট বোন মালাইকা চৌধুরী। দেড় বছরের ছোট্ট ক্যারিয়ারে ছয়টি নাটকে কাজ করেছেন। তাকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান
আবারও কোটির সাফল্য উপভোগ করলেন অভিনয়শিল্পী মালাইকা চৌধুরী। এবার ক্যাপিটাল ড্রামার ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ‘আমার রাজ্যে তুমি’ ১০ দিনে কোটি ভিউ পেয়েছে। এর আগে নিজের আরও চারটি নাটকের সুবাদে এই অভিজ্ঞতা পেয়েছেন তিনি। এজন্য তার দুয়ারে কাজের প্রস্তাব বাড়ছে দিনে দিনে।
‘আমার রাজ্যে তুমি’তে মালাইকার চরিত্রের নাম সাদিয়া জাহান বৃষ্টি। মেয়েটি অনেক চঞ্চল। তার কথায়, ‘এর আগে এ ধরনের চরিত্রে কাজ করিনি। আমার আগের চরিত্রগুলো বেশ শান্ত ধরনের ছিল। তাই এই চরিত্র আমার জন্য একটু কঠিনও ছিল। তবে পরিচালক মাসরিকুল আলম এবং আমার সহশিল্পী তৌসিফ মাহবুব আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন। ডায়লগ ডেলিভারি থেকে শুরু করে অভিব্যক্তি, স্ক্রিপ্ট পড়া— সবকিছুতেই অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। কীভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলব, কীভাবে দৃশ্যগুলো করব— এসব বিষয়ে তারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। শুটিং হয়েছে ভোলায়। এই শুটিংয়ের জন্য প্রথমবার লঞ্চে উঠেছি।’
বিজ্ঞাপন থেকে নাটকে
২০২৪ সালে হিমালয়া
ন্যাচারাল গ্লো রোজ ফেসওয়াশের বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে মালাইকা চৌধুরীর
পথচলা শুরু। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘সন্ধিক্ষণ’
নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়। মালাইকা বলেছেন, “শুরুতে জানতামই না যে, নাটকে অভিনয়
করব। হঠাৎ একদিন আপু বলল, ‘তুমি নাটকে অভিনয় করবে।’ শুটিংয়ের আগের দিন স্ক্রিপ্ট পেয়েছিলাম।
আপুর একটাই
পরামর্শ ছিল, স্ক্রিপ্ট তুমি মুখস্থ
করবে।”
প্রথম কাজ, তারপর সিদ্ধান্ত
অভিনয়ে এসেই মালাইকা ঠিক করে ফেলেননি বিনোদন অঙ্গনেই থাকবেন। আগে দেখতে চেয়েছেন নিজের কাছে কেমন লাগে, দর্শক কীভাবে নেয়। মালাইকা বললেন, ‘ভেবেছিলাম, প্রথম কাজটা দেখি। যদি নিজের কাছে ভালো লাগে, পাশাপাশি দর্শকেরও ভালো লাগে, তাহলে অভিনয় জগতে থাকব। এখন যেহেতু দর্শকের ভালোবাসা পাচ্ছি, তাই ধীরে ধীরে এই পথেই এগিয়ে যেতে চাই।’
‘সন্ধিক্ষণ’-এর পর একে একে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘ক্ষতিপূরণ’ ও ‘দি অভিযান’, কে এম সোহাগ রানার ‘অনুতপ্ত’ এবং সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পির ‘ডিয়ার ফ্যামিলি’তে অভিনয় করেছেন। সবই মুক্তি পেয়েছে সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে।
পড়াশোনার চাপ, বেছে কাজ
অভিনয়ের পাশাপাশি মালাইকা চৌধুরী নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে অষ্টম সেমিস্টারে পড়ছেন। তিনি বলেছেন, ‘পড়াশোনা আর অভিনয় একসঙ্গে সামলানো একটু কঠিন। এখন থার্ড ইয়ারে আছি, সবসময়ই চাপের মধ্যে থাকি। একটা নাটকের শুটিংয়ে পাঁচ-ছয় দিন সময় দিতে হয়। তাই সময় বরাদ্দ রাখা অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। সেমিস্টারের শুরুতে ক্লাসের চাপ কম থাকলে শুটিংয়ের জন্য সময় দিতে পারি। কিন্তু সেমিস্টারের মাঝখানে কোনো কাজের প্রস্তাব এলে ফিরিয়ে দিতে হয়। তখন বলে দিই, আমার সেমিস্টার বিরতির মধ্যে যদি সম্ভব হয়, কাজ করব।’
মালাইকা যোগ করেন, ‘এখন একটু বেছে বেছে কম কাজ করছি। পুরোপুরি সময় দিতে পারছি না বলেই এমন হচ্ছে। ভালো গল্প, মনের মতো চরিত্র এবং পরিচালক আমাকে মাথায় রেখে স্ক্রিপ্ট লিখলে অবশ্যই কাজ করতে চাই। সামনে সেমিস্টার বিরতিতে নতুন কাজ করার সুযোগ এলে দেখব।’
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা নয়
বড় বোনের সঙ্গে তুলনাকে কোনো চাপ হিসেবে দেখতে চান না মালাইকা। তিনি বলেছেন, ‘আপু আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র। অনেক আগে থেকে কাজ করছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গে আমার তুলনা চলে না। আমার মতো করে এগিয়ে যেতে ও শিখতে চাই। চাই না, আপুর সঙ্গে তুলনা করে আমার পথ নির্ধারণ হোক। নিজের জায়গা থেকে নিজেকে তৈরি করতে চাই। আপু আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। নতুন কোনো কাজের প্রস্তাব পেলে তাকে বলি। আমি স্ক্রিপ্ট পড়লে আপু মন দিয়ে শোনে। ছোট ছোট বিষয়ও ধরিয়ে দেয়।’






