মুক্তির দোরগোড়ায় ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’

‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ সিনেমার পোস্টার, (ডানে) নুসরাত ফারিয়া ও আরিফিন শুভ। ছবি: এস. হোসেন
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের গৌরবগাথা নিয়ে বড় পর্দার জন্য তৈরি হলো ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’। করোনা মহামারী, অর্থসংকট, ধাপে ধাপে শুটিং এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনসহ নানা বাধা পেরিয়ে মুক্তির দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে সিনেমাটি। অনম বিশ্বাসের পরিচালনায় এতে প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়া। এর আগে তারা ‘প্রেমী ও প্রেমী’ (২০১৭), ‘ধ্যাততেরিকি’ (২০১৭) এবং ‘মুজিব: দ্য মেকিং অব অ্যা নেশন’ (২০২৩) সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন।
গত শনিবার ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’-এর প্রথম পোস্টার প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর স্টেডিয়ামে নদীয়া একাদশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। পরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ম্যাচ খেলে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ করে। পোস্টারে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের আবহ, পানিতে ডুবে থাকা জনপদ, ফুটবলারের ভাস্কর্য, যুদ্ধবিমান ও লাল-সবুজের পতাকার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে সেই সময়ের প্রতীকী আবহ।
২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটির গল্প শুধু স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের মাঠের লড়াইকে ঘিরে নয়; এতে উঠে আসবে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিজীবন, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, মানুষের ভেতরের টানাপড়েন এবং দেশপ্রেম।
‘দেবী’ মুক্তির আট বছর পর ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ হতে যাচ্ছে অনম বিশ্বাস পরিচালিত দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে কেন্দ্র করেই সিনেমাটির গল্প। তবে এখানে একই সঙ্গে প্রাধান্য পেয়েছে ওই দলের ফুটবলারদের ফেলে আসা জীবনের গল্পও।’
‘আয়নাবাজি’ সিনেমার চিত্রনাট্যকার হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন অনম বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের আগে অভিনয়শিল্পীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তার দৃষ্টিতে, ‘শিল্পীদের মধ্যে সত্যিকারের একটি ফুটবল দলের মতো বন্ধন তৈরি হয়েছিল।’
‘ঠিকানা বাংলাদেশ’-এ আরও অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, শতাব্দী ওয়াদুদ, খায়রুল বাসার, আজাদ আবুল কালাম, রেজওয়ান পারভেজসহ অনেকে।
করোনার কারণে নির্মাণকাজ পিছিয়ে যাওয়ার পর অর্থসংকটের কারণে স্ব-অর্থায়নে ধাপে ধাপে সিনেমাটির কাজ এগিয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এর শুটিং হয়েছে ঈশ্বরদী, ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমানে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। পরিচালকের হিসাবে আরও এক-দুই মাসের কাজ বাকি। এরপরই সিনেমাটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই মুক্তি পাবে এই সিনেমা। পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে গান, টিজারসহ অন্যান্য প্রচারণামূলক উপাদান। ইমন চৌধুরীর কণ্ঠে তৈরি হয়েছে টাইটেল ট্র্যাক ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’। এর কথা লিখেছেন অনম বিশ্বাস।




