গুলশান সোসাইটির আয়োজনে ‘শকুন্তলা’

‘শকুন্তলা’ নৃত্যনাট্যে সামিনা হোসেন প্রেমা। ছবি: গুলশান সোসাইটি
প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতের অন্যতম বিশেষ চরিত্র শকুন্তলা। তপোবনে বেড়ে ওঠা এই আশ্রমকন্যার প্রেম, বেদনা-বিধুর ভাগ্য, স্মৃতি ও বিস্মৃতির এক মনোমুগ্ধকর পৌরাণিক আখ্যান তুলে ধরা হলো ধ্রুপদী নৃত্যনাট্যে। গত শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান সোসাইটির আয়োজনে ঢাকার গুলশান লেক পার্কে এর প্রাণবন্ত মঞ্চায়ন হয়। নৃত্যনাট্যটির নির্দেশনা দিয়েছেন সামিনা হোসেন প্রেমা।
গল্পে দেখা যায়, রাজর্ষি বিশ্বামিত্র ও স্বর্গীয় অপ্সরা মেনকার কন্যা শকুন্তলা। রাজা দুষ্মন্তের সঙ্গে তার প্রেম, বিয়ে এবং সন্তানসম্ভবা হওয়ার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এই আখ্যানে। কিন্তু দুর্বাসার অভিশাপে রাজা দুষ্মন্ত স্মৃতিভ্রমে শকুন্তলাকে ভুলে যান। একসময় তিনি শকুন্তলাকে অস্বীকার করেন। এ অভিশাপ তাদের প্রেমের কঠিন পরীক্ষা নেয়। অবশেষে হারিয়ে যাওয়া রাজকীয় আংটি খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ভাগ্যনির্ধারিত পুনর্মিলনের পথ প্রশস্ত হয়।
মহাকবি কালিদাস নিজের বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’-এর মাধ্যমে কাহিনিটির চমৎকার নাট্যরূপ দেন। নৃত্যদল ভাবনা এটি মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে গুলশান লেকের পাড়ে তৈরি করে এক মোহনীয় আবহ। গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমীরা এ আয়োজন উপভোগ করেন।
গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বললেন, ‘ইট-পাথরের এই শহরে আমরা যানজট, ময়লা-আবর্জনা, যানবাহনের হর্নের শব্দ শুনতেই অভ্যস্ত। কিন্তু এর বাইরেও আমাদের মনে প্রেম-ভালোবাসা কিংবা একটা শিল্পসত্তা রয়েছে। কিন্তু আমরা তার জন্য সময় এবং পরিবেশ খুব একটা পাই না। শকুন্তলা নৃত্যনাট্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারাকে প্রবাহিত করার একটা প্রয়াস চালিয়েছি।’
ব্যারিস্টার ওমর সাদাত আরও বললেন, ‘শকুন্তলা যেমন তার প্রেমিক রাজা দুষ্মন্তের আংটি হারানোর পর অনেক কষ্টে আবার ফিরে পায়, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরাও সেই আংটির মতোই হারিয়ে যেতে বসা শিল্প, সংস্কৃতি এবং জীবনবোধ ফিরে পেতে চাই।’




