ওটিটির অবস্থা ধীরে ধীরে টেলিভিশনের মতো হয়ে যাচ্ছে

সংগৃহীত ছবি
খিজির হায়াত খান পরিচালিত ‘ওরা সাতজন’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন নাজিয়া হক অর্ষা। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান।
প্রজ্ঞাপন জারির ছয় মাস পরও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার হাতে না পাওয়ায় এবং বিভিন্ন বিভাগ নিয়ে বিতর্ক ওঠায় কি চিন্তিত কিছুটা?
আমি আসলে কখনোই পুরস্কার পাওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করিনি। পাব কি পাব না— এ নিয়ে মাথাব্যথাও ছিল না। তাই বিতর্ক নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্নও ছিলাম না। তবে যদি কোথাও ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সেটার সংশোধন হওয়া অবশ্যই জরুরি। ভুল মানুষের হাতে পুরস্কার যাওয়ার চেয়ে সংশোধন করে সঠিক মানুষের হাতে দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে সেটাই ভালো মনে হয়েছে।
‘ওরা সাতজন’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন। এই সিনেমার সঙ্গে আপনার মায়ের একটি বিশেষ স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে বলবেন?
সত্যি বলতে, এটিই আমার আনন্দটাকে পুরোপুরি অনুভব করতে না পারার অন্যতম কারণ। মায়ের সঙ্গে দেখা শেষ সিনেমা ছিল ‘ওরা সাতজন’। মাঝেমধ্যে মনে হয়, যদি স্বীকৃতিটা একটু আগে আসত, তাহলে মা দেখে যেতে পারতেন। আমার জীবনের সব অর্জন, ব্যর্থতা, পাওয়া-না পাওয়া— সবকিছুর সঙ্গে মা খুব গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন। আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা ছিল যে মানুষটির, তিনি আর নেই। তাই আনন্দের মধ্যেও একটা শূন্যতা কাজ করে।
মায়ের অসুস্থতা-মৃত্যুর মতো ঘটনায় আপনি কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিলেন। নতুনভাবে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে?
আমার বোনদের চাকরি ছিল, তাদের পক্ষে সময় বের করা কঠিন ছিল। কিন্তু আমার পেশার কারণে আমি চাইলে সময় দিতে পারতাম। কাজে ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটা নিয়ে আমি কখনো ভাবিনি। বরং আমার একটা আত্মতৃপ্তি আছে যে, যখন মায়ের পাশে থাকা দরকার ছিল, তখন আমি ছিলাম। সংবাদে প্রায়ই দেখি বাবা-মাকে অবহেলার খবর। বিষয়টা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। যারা ছোটবেলায় নিজেদের সবকিছু ত্যাগ করে আমাদের বড় করেছেন, তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে না থাকা আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না।
বর্তমানে কোন কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
দীপ্ত টিভির ‘খুশবু’ নামে একটি সিরিজে কাজ করছি। মাছরাঙার টিভির ‘মিডল ক্লাস ফ্যামিলি’ নামে আরেকটি সিরিজও চলছে। এ ছাড়া চ্যানেল আইয়ের একটি নতুন প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছি। তবে সেটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
ওটিটিতে অনেক দিন আপনার কাজ নেই…
সত্যি বলতে, আমার মনে হচ্ছে ওটিটির অবস্থা আবার ধীরে ধীরে টেলিভিশনের মতো হয়ে যাচ্ছে। শুরুতে যে বাজেট ছিল, যে ধরনের গল্প ছিল, যে মাল্টিপল কাস্টিং ছিল— এখন আর সেটা দেখা যাচ্ছে না।
বাজেট কমেছে, গল্পে একঘেয়েমি এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের প্রভাবও বেড়েছে। আগে যে পরিবেশে ওটিটির কাজ হতো, এখন সেটা অনেক সংকীর্ণ হয়ে গেছে। আশঙ্কা করছি, বাংলাদেশের ওটিটি আদৌ দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে কি না।
অনেক দর্শক মনে করেন, আপনাকে আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়নি। আপনি নিজে বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
এটা আসলে আমার বলার বিষয় নয়। দর্শক যদি এমনটা মনে করেন, সেটা তাদের ভালোবাসা। কিন্তু শিল্পীদের কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কোন ধরনের কাজ হবে— এসব সিদ্ধান্ত ইন্ডাস্ট্রি, প্ল্যাটফর্ম ও নির্মাতাদের। আমার ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সময়ই এমন হয়েছে যে, কোনো চরিত্র নিয়ে অনেক জায়গায় চেষ্টা করার পর যখন মনে হয়েছে অন্য কেউ সেটা ঠিকভাবে করতে পারবে না, তখন আমার কাছে এসেছে। আমি বরাবরই সে ধরনের চ্যালেঞ্জিং কাজ পেয়েছি।
‘রইদ’ সিনেমার জন্য মোস্তাফিজ নূর ইমরান প্রশংসিত হচ্ছেন। সিনেমাটি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
খুব ভালো লেগেছে। প্রথমবার হলে গিয়ে পুরো অভিজ্ঞতা পাইনি। পরে আবার অন্য হলে গিয়ে দেখেছি। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এটি একেবারে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ও বাস্তবতার গল্প। এখন অনেক সিনেমা বিদেশি ঘরানার প্রভাবে তৈরি হয়। কিন্তু ‘রইদ’ আমাদের মাটির গল্প বলেছে। দর্শকও সেই গল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। এটা বাংলাদেশের সিনেমার জন্য খুব ইতিবাচক বিষয়।
আপনি ও ইমরান— দুজনই অভিনয়ের মানুষ। বাসায় কাজ নিয়ে আলোচনা কতটা হয়?
নতুন কোনো স্ক্রিপ্ট এলে একসঙ্গে বসে পড়ি। গল্প, চরিত্র, নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু অভিনয় কীভাবে করতে হবে বা চরিত্র কীভাবে নির্মাণ করতে হবে— এসব নিয়ে আমরা কাউকে নির্দেশনা দিই না। কারণ, আমাদের দুজনের কাজের ধরন ও দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা।




