আমি এখনো বোহেমিয়ান

নাজিয়া হক অর্ষা
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা নিজের একটা আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন পান্থ আফজাল
নতুন কিছু কাজে যুক্ত হয়েছেন। সেগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।
হ্যাঁ, বেশ কিছু নতুন কাজে যুক্ত হয়েছি। তবে কী কী কাজ করছি, এখনই বলা যাবে না। বলা মানা, হা হা হা!
‘রইদ’ তারকা মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের সঙ্গে আপনার প্রায় দুই বছরের সংসার জীবন। কাজ, ব্যক্তিগত জীবন আর সংসার— সব মিলিয়ে কেমন যাচ্ছে?
সংসার খুবই জটিল বিষয়। এটি সবসময় ভালো যায় না; আবার খারাপও যায় না। এটি মিক্সড। এখানে হরেক রকমের বিষয়-আশয় ও পরিস্থিতি থাকে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা চেষ্টা করি সহজে যতটা সমাধান করা যায়। আমি বলব, এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালো যাচ্ছে। ভালো আছি দুজনে।
আপনার কাছে সুখের সংজ্ঞা কী?
কোনো মানুষ শতভাগ সুখী থাকতে পারে না। এটি আপেক্ষিক ব্যাপার। কারণ, ব্যক্তিগত জীবনে কিছুটা অভিনয় না করলে আপনি অনেককেই কষ্ট দিয়ে ফেলবেন। অনেক সময় সবকিছু খুব বিস্বাদ হয়ে যায়। সিচুয়েশন অনেক টাফ থাকে; তখন একটু হলেও অভিনয় করতে হয়। আমি অভিনয়ও করি ব্যক্তিজীবনে। আসলে আমি অনেক সময় সুখী, অনেক সময় একদমই সুখী নই।
একটা সময় নিজেকে বোহেমিয়ান বলেছিলেন, এখন কেমন?
আমি এখনো বোহেমিয়ান। তবে নিজেকে গোছানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার বোহেমিয়ান সত্তাটার বসবাস অনেক গভীরে। মাঝেমধ্যে মনে হয় কয়েক দিনের জন্য কোথাও নিরুদ্দেশ হয়ে যাই। কখনো কখনো এমনটা করিও। পাহাড়-সমুদ্রের সৌন্দর্যে ডুব দিই।
সারিকা আপনার মিডিয়া ক্যারিয়ারের অন্যতম অংশ। সে সম্পর্কে জানতে চাই।
আসলে ছবি আঁকা আর ঘোরাঘুরি ছিল আমার অন্যতম আগ্রহ। খুব অল্প বয়স থেকেই ভাবতাম, আমাকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে। কিছু টাকা যদি অল্প বয়স থেকেই উপার্জন করতে পারি, তাহলে হয়তো নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারব। সেই ভাবনা থেকেই এমন পেশা খুঁজছিলাম, যেখানে প্রবেশের জন্য মাস্টার্স কমপ্লিট করা বাধ্যতামূলক নয়। একটি একাডেমিতে আমার ছোট বোন গান শিখতে যেত। সেখানে সারিকার মায়ের সঙ্গে আমার মায়ের পরিচয় হয়। একদিন সেখানে সারিকার সঙ্গে আলাপ হয় আমারও। তখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তুমি যে মডেলিং বা অভিনয় করো, সেখানে কি এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশন বা সার্টিফিকেট জরুরি?’ সে বলেছিল, ‘মডেলিং ছোট থেকে বৃদ্ধ বয়সেও করা সম্ভব; অভিনয়ও তাই। তোমার যোগ্যতা থাকলে তুমি চেষ্টা করতে পারো।’ এরপর সে আমাকে বেশ কিছু প্রক্রিয়ার কথা জানাল। গ্রুমিং স্কুলের ঠিকানাও দিল। এরপর এভাবেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু হলো আমার।
আপনার প্রিয় তারকা অপি করিম, তাকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?
তার জীবনবোধ ও সিম্পলিসিটির সঙ্গে আমার জীবনের অনেকটাই মিল পাই। এটি আমাকে অনেকটাই অনুপ্রাণিত করে। তিনি এত ভালো একজন পারফরমার, এত ডাউন টু আর্থ; তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি ছবিয়াল ভাই-ব্রাদারদের অনেক কাজ করেছেন, উপন্যাসভিত্তিক কাজও করেছেন। আবার মঞ্চের সেই ‘রক্তকরবী’র নন্দিনীও হয়েছেন তিনি। অনেক ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এত কিছু করার পরও এই মানুষকে যখনই কোথাও দেখি, খুবই আপন লাগে। তার মধ্যে কোনো বাড়াবাড়ি নেই, কোনো কিছু নিয়ে অহমিকা নেই। অনেক আউটস্ট্যান্ডিং লাগে তাকে। আমার মনে হয়, তিনি যতটা না ভালো পারফরমার, তার চেয়েও বেশি ভালো মানুষ।





