নির্দিষ্ট ধারায় আটকে থাকতে পছন্দ করি না: জেফার

জেফার রহমান-ফেসবুক
গান লেখা, সুর করা ও সংগীতায়োজনে জেফার রহমানের রয়েছে নিজস্বতা। নতুন একক অ্যালবামে সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে চান তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
এখন কী নিয়ে বেশি ব্যস্ত?
প্রতি বছরের শেষ দিকে কনসার্ট নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। এবারও একই রকম ব্যস্ততা থাকবে আশা করি। এখন মূলত আমার একক অ্যালবামের কাজ চলছে। অনেক দিন ধরেই এটি তৈরি করছি। ২০২৭ সালের শুরুতে এই অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা আছে। এটি আমার জন্য বিশেষ একটি কাজ।
আপনার একক অ্যালবামে কয়টি গান থাকবে?
পাঁচ থেকে সাতটি গান রাখার চেষ্টা করব। এগুলোতে আমার কাজের বৈচিত্র্য তুলে ধরতে চাই। আমার যেসব গান প্রকাশ হয়, সেগুলোর বেশিরভাগের সুর ও সংগীতায়োজন নিজেই করি। এ অ্যালবামের কথা, সুর, সংগীতসহ সবকিছুতেই আমার সম্পৃক্ততা থাকবে। এটি হবে পুরোদস্তুর আমার একক অ্যালবাম।
অ্যালবামের গানগুলোর বিষয়বস্তু বা সংগীতে কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকবে?
একজন শিল্পী ও সংগীতায়োজক হিসেবে বৈচিত্র্য পছন্দ করি। সফট গান যেমন করি, তেমনই বিয়ে কিংবা উৎসবের গানও করি। একটি নির্দিষ্ট ধারার ভেতর নিজেকে আটকে রাখতে চাই না। সংগীত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালো লাগে আমার। বিভিন্ন ধরনের সংগীতচর্চা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে, সেগুলো নতুন অ্যালবামে প্রয়োগের চেষ্টা করছি।
ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি গান নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করে আসছি। তবে বর্তমানে বাংলা গানই আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করছে। এখন আমার অধিকাংশ গান বাংলায় তৈরি হচ্ছে। নতুন অ্যালবামে বাংলার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। এতে ইংরেজি গান রাখার পরিকল্পনা আপাতত নেই।
অ্যালবামটির মাধ্যমে বিশেষ কোনো বার্তা দেবেন?
অনেকের ধারণা, নারী শিল্পীরা মূলত গানেই কণ্ঠ দেন। কিন্তু নারীরা গান লিখতে পারেন, সুর ও সংগীতায়োজন করতে পারেন। সংগীতের নানা ক্ষেত্রে নারীদের কাজ করার সুযোগ ও সক্ষমতা রয়েছে। আমার কাজের মাধ্যমে সেটি তুলে ধরতে চাই। ছোটবেলা থেকেেই নিজের উদ্যোগে কাজ করেছি। প্রথমে এটি ছিল প্যাশন, ধীরে ধীরে একটি পেশাগত কাঠামো তৈরি হয়েছে। আমি নিজেই গান তৈরি করি, সেখানে বিনিয়োগ করি এবং সেই কাজ থেকেই উপার্জন আসে। শুরু থেকে আমার কাজের ধরন প্রায় একই আছে, তবে পরিসর বেড়েছে। প্যাশন থেকে বড় একটি উদ্যোগ তৈরি করতে পেরেছি, এটা আমার জন্য আনন্দের।
নতুন কোনো সিনেমার গান গেয়েছেন?
মৌলিক গানের প্রতি আমার আগ্রহ বরাবরই বেশি। সবসময় এতেই বেশি মনোযোগ দিই। সিনেমার গানও করি, কিন্তু এক্ষেত্রে কিছুটা বেছে কাজ করতে চাই। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও আমার সিদ্ধান্ত একই রকম।
অথচ অভিনয়ে বেশ ভালোই দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন...
নিয়মিত অভিনয় করব, এমন পরিকল্পনা আমার কখনোই ছিল না। এখনো নেই। আমার কাছে যখন ভালো কোনো কাজ আসে; তখন পরিচালক ও কাজের মানসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করি। সবকিছু ব্যাটে-বলে মিলে গেলে তখনই আগ্রহী হই। মাঝেমধ্যে ভালো কিছু কাজ করতে চাই। সবসময় পর্দায় উপস্থিত থাকতে হবে— এমন কোনো ভাবনা আমার নেই। অভিনয়ের অনেক প্রস্তাব আসে। কিন্তু একটু সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। শুধুই ভালো কিছু করার ইচ্ছে আমার। সর্বশেষ ‘তুমি আমি শুধু’ ওয়েব ফিল্ম নিয়ে বেশ সাড়া পেয়েছিলাম। ভবিষ্যতে তেমন সম্ভাবনাময় কোনো কাজের ডাক পেলে যুক্ত হতে পারি। তবে শুধু নিয়মিত পর্দায় থাকার জন্য কাজ করতে চাই না।
নিজের মধ্যকার পরিবর্তন কীভাবে দেখছেন?
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের ভাবনা ও কাজের ধরনে পরিবর্তন আসে। অভিনয়ের মাধ্যমে আমার নতুন কিছু আবিষ্কার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় কাজের পর নিজেকে অন্যভাবে দেখতে শুরু করি। অভিনয়ও এমন একটি মাধ্যম, যেটি উপভোগ্য। কোনো কিছু উপভোগ না করলে সাধারণত সেটি করি না। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও একই বিষয় কাজ করে। এই ভালোলাগা যত্ন করে রাখতে চাই। সবসময় অভিনয় না করে মাঝেমধ্যে কাজ করতে চাই, যেন প্রতিবার নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারি।
সংসার ও পেশাগত জীবনের সমন্বয় কীভাবে করছেন?
আমাদের সংসার খুব ভালো চলছে। আমরা দুজনই কাজ ও ঘর— দুটোর প্রতিই সমানভাবে সিরিয়াস। এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। আমাদের একসঙ্গে অনেক শো করা হয়। উপস্থাপক হিসেবে রাফসান সাবাব খুব ভালো করছে। দেশ-বিদেশে আমাদের একসঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি হয়। সব মিলিয়ে ভালোই আছি।





