চেষ্টা করি চরিত্রের প্রেমে পড়তে

অভিনেতা খায়রুল বাসার
নাটক, ওটিটি ও সিনেমায় অভিনয় গুণে আলাদা অবস্থান গড়ে নিয়েছেন খায়রুল বাসার। সম্প্রতি ‘বনলতা সেন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকা নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
‘বনলতা সেন’ মুক্তির পর প্রবীণ অভিনেতারা আপনার প্রশংসা করেছেন। এগুলো নিশ্চয়ই অনেক বড় প্রাপ্তি?
অবশ্যই বড় প্রাপ্তি। আবুল হায়াত আংকেল সেদিন সিনেমাটি দেখে খুব প্রশংসা করলেন। যাকে ছোটবেলা থেকে দেখে বেড়ে উঠেছি, তার কাছ থেকে এমন ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া সত্যিই আমার জন্য আশীর্বাদের মতো। সিনেমা দেখার পর কাছে ডেকে তিনি বারবার ভালো লাগার কথা বলেছেন। বিভিন্ন দৃশ্য নিয়ে কথা বলছিলেন। আমার এখন একটাই চেষ্টা থাকবে— তার যে ভালো লাগা, যে মুগ্ধতার কথা তিনি বলেছেন, সেই আস্থার মর্যাদা যেন রাখতে পারি। সামনে আরও ভালো কাজ করতে পারি, যেন তিনি কখনো মনে না করেন, তার প্রশংসাটা ভুল ছিল। এ ছাড়া আজিজুল হাকিম ভাই, আফসানা মিমি আপুসহ অনেকেই প্রশংসা করে কল দিয়েছেন, টেক্সট দিয়েছেন।
‘বনলতা সেন’ কী ধরনের অভিজ্ঞতা দিল আপনাকে?
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সিনেমাটি মানুষকে ভাবিয়েছে। পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাইয়ের প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি শুধু একটি সিনেমা বানাননি, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন, ভাবনা তৈরি করেছেন এবং দর্শকের মনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে দিতে পেরেছেন। দর্শক যখন প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরোনোর সময় কিছু প্রশ্ন নিয়ে বাড়ি ফেরেন, তখন সিনেমা তার কাজটা করতে পেরেছে বলে মনে হয় আমার।
‘বনলতা সেন’-এর পর নিশ্চয়ই দর্শকের মধ্যে আপনাকে নিয়মিত সিনেমায় দেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে?
আমার চিন্তাভাবনা এখনো আগের মতোই আছে। আমি অভিনয় করতে চাই। ভালো গল্পে থাকতে চাই। আমার ইচ্ছা, দেশের ভালো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার। এমন গল্পে কাজ করতে চাই, যেটা মানুষকে ছুঁয়ে যাবে। সেটা সিনেমা, ওটিটি কিংবা নাটক হতে পারে। আমার কাছে মাধ্যম বড় বিষয় নয়। আমার কাজ হলো গল্প ও চরিত্রকে যথাযথভাবে তুলে ধরা। আমার কাছে সবকিছুর শুরুই গল্প। যখন কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, প্রথমেই পুরো গল্পটা পড়ি। গল্পটা পড়ে যদি মনে হয় আমাকে ভাবাচ্ছে, আমাকে স্পর্শ করছে; কিংবা চরিত্রটার ভেতরে নতুন কিছু খুঁজে পাচ্ছি— তখনই কাজটা করার সিদ্ধান্ত নিই। চেষ্টা করি চরিত্রের প্রেমে পড়তে।
‘সেরা অভিনেতা’ টার্মটার মানে কী আপনার কাছে?
সত্যি বলতে, আমার মধ্যে কখনো এ প্রবণতা কাজ করেনি যে, আমাকে সেরা অভিনেতা হতেই হবে। আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ভালো গল্প। ভালো গল্প পেলে সবচেয়ে বেশি খুশি হই। অভিনয় আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে, মানুষ আমাকে কতটা ভালোবাসবে— এসব আমার হাতে নেই। এটি নির্ভর করে পরিচালক, গল্প ও সহশিল্পীসহ পুরো টিমের ওপর। একজন অভিনেতা একা কখনো একটা ভালো সিনেমা বা নাটক বানাতে পারে না। যখন দর্শক কোনো সিনেমা দেখে বেরিয়ে বলে, ‘এটা অসাধারণ হয়েছে’; তখন সেটা একজন মানুষের কৃতিত্ব নয়। এটা পুরো টিমের সাফল্য।
আপনার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল কাজ ‘এটা আমাদেরই গল্প’।
আমার মনে হয়েছে, এ ধরনের গল্পের খুব প্রয়োজন ছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক আবেগের গল্প খুব একটা পাইনি। দর্শক নিজেদের পরিবারের সঙ্গে গল্পটার মিল খুঁজে পেয়েছে। এখানেই সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখি। আমরা এখন সবাই খুব ব্যস্ত হয়ে গেছি। বাবা অফিসে থাকেন, মা সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকেন, সন্তানরা স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ব্যস্ত। সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করার সময়টাও যেন কমে গেছে। এমন সময় যদি একটা নাটক পুরো পরিবারকে একসঙ্গে বসিয়ে দেয়, তাহলে তার গুরুত্ব অনেক। অভিনেতা হিসেবে আমার একটা প্রশ্ন সবসময় ছিল— ছোটরা কি আমাদের চেনে? আমরা ছোটবেলায় নাটকের তারকাদের চিনতাম। তাদের নাটক দেখার জন্য অপেক্ষা করতাম। এ নাটকটির পর দেখলাম ছোট বাচ্চারাও আমাদের চেনে, আমাদের চরিত্র নিয়ে কথা বলে, তখন সত্যিই অন্য রকম আনন্দ লাগে। এজন্য পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।
আপনি তো আর্জেন্টিনার সমর্থক। ব্রাজিল সমর্থকদের খোঁচা দেন?
(হাসি) না, কাউকে খোঁচা দিতে চাই না। তবে একটা ইচ্ছা ছিল, কোনো এক ম্যাচে আর্জেন্টিনা যদি সাত গোল দিত, তাহলে হয়তো অনেকেই একটু চুপ হয়ে যেত! যদিও আর্জেন্টিনা খুব ভদ্র একটা দল। অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রতিপক্ষকে অপমান করার চেষ্টা করে না।




