এক বছর পরও অপ্রতিরোধ্য ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’

সংগৃহীত ছবি
মুক্তির পর থেকেই ওটিটি এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে একচেটিয়া রাজত্ব করে চলেছে ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’। অ্যানিমেশনের চমৎকার ভিজ্যুয়াল, কোরিয়ান লোকগাথা এবং কে-পপ সংস্কৃতির এক নিখুঁত ফিউশন ঘটিয়ে সিনেমাটি কেবল অস্কারই জেতেনি, বরং নেটফ্লিক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অরিজিনাল ফিল্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করল। ৫২ সপ্তাহ ধরে গ্লোবাল চার্টে টিকে থাকা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বিশেষ করে যেখানে দ্য রকের ‘রেড নোটিশ’-এর মতো বিগ-বাজেট ছবি মাত্র ১৪ সপ্তাহেই চার্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল।
এই সিনেমার সাফল্যের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো এর সাউন্ডট্র্যাক। সিনেমার মূল থিম সং ‘গোল্ডেন’ বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষস্থান দখল করেছিল। ২০২৩ বা ২০২৪ সালের কোনো কে-পপ গান যা করতে পারেনি, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এসে অ্যানিমেটেড এই ট্রিলজি তা করে দেখিয়েছে। পর্দার পেছনে রুমি, জোয়ি ও মিয়ার গানে কণ্ঠ দেওয়া ইজে, অড্রে নুনা এবং রেই আমি ২০২৬ সালের আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে রাজত্ব করেছেন, যা কোনো অ্যানিমেটেড ব্যান্ডের ক্ষেত্রে এক বিরলতম ঘটনা।
সিনেমার ভেতরের কাল্পনিক ব্যান্ড ‘হান্ট্রিক্স’ যেভাবে স্টেডিয়ামে পারফর্ম করার পাশাপাশি মরণপণ লড়াইয়ে দানব শিকার করে, ঠিক সেই অভিজ্ঞতা রিয়েল লাইফে দিতে নেটফ্লিক্স এবার মাঠে নামছে। ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী যে লাইভ কনসার্ট ট্যুর হতে যাচ্ছে, তা মূলত হবে অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং থ্রিডি হোলোগ্রাম প্রযুক্তির এক বিশাল প্রদর্শনী, যেখানে পর্দার পেছনের কণ্ঠশিল্পীরা লাইভ পারফর্ম করবেন।
পরিচালক ম্যাগি ক্যাং তার নিজের কোরিয়ান ঐতিহ্য, জোসেন আমলের লোকগাথা এবং কোরিয়ান শামান সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে এই গল্প সাজিয়েছিলেন। ৯৮তম অস্কারের মঞ্চে সেরা অ্যানিমেটেড ছবির পুরস্কার জেতার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এর ভিউ জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে, যা বর্তমানে ৬২.৮ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
কে-পপ কালচার এবং আন্তর্জাতিক সিনেমার এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন প্রমাণ করে যে, কনটেন্ট যদি ইউনিক এবং বিনোদনমূলক হয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে ভাষার প্রাচীর ভেঙে বছরের পর বছর মানুষের মনে রাজত্ব করতে পারে।





