বিশ্বজুড়ে কেন এত তোলপাড় তুলছে ‘অফ ক্যাম্পাস’

সংগৃহীত ছবি
বর্তমান সময়ের সিনেমা বা ওয়েব সিরিজের বাজার যখন সস্তা থ্রিলার, অনর্থক খুনাখুনি, আর মাথা নষ্ট করা সাসপেন্সে ভরপুর, ঠিক তখনই দর্শকদের ক্লান্তি দূর করতে একদম ভিন্ন আঙ্গিকে হাজির হয়েছে হলিউডের নতুন রোমান্টিক ড্রামা সিরিজ ‘অফ ক্যাম্পাস’। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আমাজন প্রাইম’-এ মুক্তি পাওয়ার মাত্র ১২ দিনেই সিরিজটি বিশ্ব জুড়ে ৩ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভিউয়ারশিপের এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে। বিখ্যাত লেখিকা এল কেনেডির আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিরিজটি এখন বিশ্ব জুড়ে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এক নতুন ক্রেজ বা উন্মাদনার জন্ম দিয়েছে।
কেন এই সিরিজটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত মাতামাতি?
নেটিজেন এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া সমালোচকদের মতে, এই সিরিজের প্রধান ইউএসপি হলো এর কাস্টিং এবং গল্পের চরম আবেদনময় পরিবেশনা। সিরিজের মূল নায়ক গ্যারেট গ্রাহাম (বেলমন্ট ক্যামেলি) একজন সুদর্শন আইস-হকি খেলোয়াড়, যার সিক্সপ্যাক বডি আর চার্মিং লুক দেখে পর্দায় চোখ আটকে যাচ্ছে নারী দর্শকদের। আর তার বিপরীতে হানা ওয়েলস (এলা ব্রাইট) চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রীর গ্ল্যামার ও অভিনয় পুরো সিরিজে আগুন জ্বালিয়েছে। এই সিরিজে রোম্যান্স এবং শরীরী আবেদনকে এতটাই খোলামেলা ও নান্দনিকভাবে দেখানো হয়েছে যে অনেকেই এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আবেদনময়ী ও সাহসী শো বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আপাতদৃষ্টিতে এটিকে কলেজের চেনা ‘ফেক ডেটিং’ বা চুক্তির প্রেমের গল্প মনে হলেও, এর ভেতরে রয়েছে চমৎকার কিছু লাইফ লেসন। সাধারণত আজেবাজে রোমান্টিক সিরিজে নায়ক-নায়িকাকে এক করার জন্য পরিচালকেরা পাঁচ-ছয় সিজন ধরে দর্শকদের ঝুলিয়ে রাখেন। কিন্তু ‘অফ ক্যাম্পাস’ সেই সস্তা ট্রিক ব্যবহার করেনি। এখানে প্রথম থেকেই নায়ক-নায়িকার মধ্যকার কেমিস্ট্রি বা রসায়নকে একদম স্পষ্ট ও জোরালো রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয় হলো, এই সিরিজে কেবল শারীরিক আকর্ষণকে প্রধান করা হয়নি; বরং বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা একে অপরের ক্যারিয়ারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মানসিক স্বাধীনতা এবং বিশেষ করে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরস্পরের ‘সম্মতি’ বা কনসেন্টকে কতটা মূল্য দেয় তা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বিখ্যাত কলামিস্ট অ্যানা স্পার্গো-রায়ান এই সিরিজটির প্রশংসা করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘এই সিরিজটি এতটাই হট আর আবেদনময় যে ল্যাপটপে এটি দেখার সময় আমার নিজেরই লজ্জা লাগছিল যে আমি বুঝি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক দম্পতির শোবারঘরে লুকিয়ে উঁকি দিচ্ছি! কিন্তু এই তীব্র কামনার ভেতরেও গল্পটা ভীষণ মিষ্টি ও সৎ। বাস্তব জীবনের নানা দুশ্চিন্তা ভুলে কোনো রকম মেন্টাল প্রেশার ছাড়া জাস্ট দুটি সুন্দর মানুষের পিওর রোম্যান্স উপভোগ করার জন্য এর চেয়ে সেরা শো আর হতেই পারে না।
প্রথম সিজনের এই রেকর্ডব্রেকিং সাফল্যের পর ওটিটি কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে এর দ্বিতীয় সিজনের অফিসিয়াল ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। জনপ্রিয় সিরিজ ‘ব্রিজার্টন’-এর মতো এই সিরিজেরও আগামী সিজনে মূল জুটি বদলে যাবে। দ্বিতীয় সিজনে দর্শকরা দেখতে পাবেন কলেজের অন্য দুই পপুলার ক্যারেক্টার ‘অ্যালি’ এবং ‘ডিন’-এর মধ্যকার একদম নতুন ও রোমাঞ্চকর প্রেমের গল্প। প্রথম সিজনের হ্যাংওভার কাটতে না কাটতেই নতুন সিজনের এই ঘোষণায় এখন ব্যাকুল হয়ে আছেন বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি ওটিটি-প্রেমী।










