‘স্টিল অ্যালাইভ’-এ সময় রায়নার তীব্র বাস্তবতা

সংগৃহীত ছবি
সময় রায়না মানেই হাসির রোল, কিন্তু এবারের চিত্রটা একদম ভিন্ন। তার সাম্প্রতিক শো ‘স্টিল অ্যালাইভ’ এ এক অন্য সময়কে দেখল বিশ্ব। কমেডির আড়ালে এখানে লুকিয়ে ছিল এক কাশ্মীরি পণ্ডিতের যন্ত্রণা, স্কুলে বর্ণবাদের শিকার হওয়ার ক্ষত এবং গত বছরের ‘ইন্ডিয়া’স গট ল্যাটেন্ট’ বিতর্কের পর মানসিক ভাঙনের গল্প।
শো-এর এক পর্যায়ে সময় তার পরিবারের কাশ্মীর ছাড়ার সেই ভয়াল স্মৃতি মনে করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে তার বাবা-মা কাশ্মীর ছাড়তে বাধ্য হন। পরে ফিরে গেলেও ১৯৯৮ সালে তাদের বাড়িতে গুলি চালানো হয়, যার ফলে রাতারাতি তারা উপত্যকা ছাড়েন। সময় বলেন, ‘আমরা কাশ্মীরিরা সব সময় ক্রসফায়ারের মধ্যেই মরি। আমার বাবা-মা যদি তখন অস্ত্র হাতে নিতেন, তবে আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। পালিয়ে আসাই ছিল আমাদের বেঁচে থাকার এবং আজ এই অবস্থানে আসার একমাত্র পথ।’
কাশ্মীর থেকে হায়দ্রাবাদে স্থানান্তরিত হওয়ার পর স্কুলের প্রথম দিনেই সময়ের ওপর হামলা হয়। তিনি জানান, গায়ের রঙ ফর্সা হওয়ায় এবং অন্য সবার চেয়ে দেখতে আলাদা হওয়ায় তাকে বছরের পর বছর বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। সময় জোর দিয়ে বলেন, ‘বর্ণবাদ শুধু কালোদের সাথেই হয় না, ফর্সাদের সাথেও হতে পারে। বর্ণবাদ মানেই হলো যে আপনার মতো নয়, তাকে ছোট করা।’ এই কথাগুলো বলতে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
২০২৫ সালের সেই বিতর্কিত ঘটনার পর তার শো-এর প্যানেল মেম্বার এবং তাদের পরিবারের ওপর যেভাবে হামলা ও হুমকি এসেছে, তা নিয়ে চরম অপরাধবোধে ভুগছিলেন সময়। তিনি জানান, পুলিশের সামনে ক্লাবের মালিকের বয়স্ক বাবা-মায়ের আকুতি দেখে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। তার মতে, ইন্টারনেটে তারা যা করেন তা কেবল একটি চরিত্র মাত্র, কিন্তু মানুষ সেটিকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।
সময় রায়না এই শো-র মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে তিনি শুধু একজন কমেডিয়ান নন, বরং একজন সারভাইভার। তার এই পারফরম্যান্স কেবল বিনোদন নয়, বরং সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা ঘৃণা এবং অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ।




