ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বাতিল নয়, সাময়িক স্থগিত

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে আয়োজনের ভেন্যু কর্তৃপক্ষ অনুমতি প্রত্যাহার করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। পরবর্তী আপডেট দ্রুত জানানো হবে বলে আজ শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি বলছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভেন্যু-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২৯ মে ২০২৬ স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহবুব শ্যামল এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর প্রোগ্রামটি পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতি শিগগিরই পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হবে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রোগ্রামটি পেছানোর জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দ্রুত এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি সংগঠন হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির যাত্রা শুরু হয়। এই সংগঠনটি মূলত শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে সচেতন নাগরিকদের একটি মিলনস্থল। আমরা নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিখ্যাত ও শিক্ষণীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়ে থাকি। ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’ নামক নিয়মিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আমরা আমাদের নবম আয়োজন হিসেবে বর্তমান সময়ের দর্শকপ্রিয় একটি সিনেমা, তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর প্রদর্শনের তারিখ ছিল ৩০ মে ২০২৬, বিকাল ৩টা; অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী একদল আধুনিক মানসিকতার সচেতন নাগরিকের সংগঠন। এই সংগঠনের লক্ষ্য বই, শিল্প ও সাহিত্যের বিশাল জগৎকে সবার মধ্যে উন্মুক্ত করে আমাদের আরও মানবিক ও শান্তিপূর্ণ করে তোলা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি মনে করে, একটি ভালো সিনেমা একজন মানুষের জীবনবোধকে বদলে দেয় এবং একজনের জগৎকে ভিন্ন মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শেখায়, যা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
এই লক্ষ্যেই ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’ শিরোনামে আটবার সিনেমা প্রদর্শন করা হয়েছে বলে জানায় তারা। যেখানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন।
এবারের কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি সুনির্দিষ্ট অংশ বিনা উসকানিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রোগ্রামের বিরুদ্ধে না জেনে ভুল এবং ক্ষেত্রবিশেষে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছেন। পাশাপাশি কিছু অপরিচিত ফেক আইডির মাধ্যমে আয়োজনটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ফিল্ম সোসাইটি।
তাদের ভাষ্য, আমরা সবাইকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এসব অপপ্রচারের পুরোটাই ভুল বোঝাবুঝি, আর কিছু ক্ষেত্রে মিথ্যা প্রচার। সিনেমা দেখা ও প্রচার বাংলাদেশের আইনে সম্পূর্ণ বৈধ কর্মকাণ্ড।
ফিল্ম সোসাইটি মনে করে, ধর্ম মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত আবেগ ও অনুভূতির বিষয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি সব ধর্মীয় আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বরং মিথ্যা প্রচারে সংগঠিত হয়ে অন্যের ওপর আঘাত করার চেষ্টা মানুষের ধর্মীয় আবেগের প্রতি অবমাননা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সচেতনভাবে ভুল বোঝাবুঝির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং অনলাইনে কারও ফাঁদে পা দিয়ে কোনো সংঘাতে না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় ফিল্ম সোসাইটি।






