মনরোর জীবনের শেষ সময়ের আবেদনময়ী ছবি প্রকাশ্যে

মেরিলিন মনরো
রূপালী পর্দার ম্যাজিক, ঠোঁটের কোণে মায়াবী হাসি আর চঞ্চল চাহনি। হলিউডের ‘স্বর্ণযুগ’ এর সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ছিলেন মেরিলিন মনরো। দেখতে দেখতে কেটে গেল দীর্ঘ সময়; ২০২৬ সালের ১ জুন এই চিরসবুজ সুন্দরীর জন্মের ১০০ বছর পূর্ণ হলো। আর তার এই জন্মশতবার্ষিকীতে লন্ডনের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারিতে আয়োজন করা হয়েছে এক বিশেষ প্রদর্শনীর। সেখানেই স্থান পেয়েছে ১৯৬২ সালের জুলাই মাসে, অর্থাৎ মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সান্তা মনিকা সমুদ্র সৈকতে তোলা মনরোর জীবনের শেষ কিছু বিরল ও অন্তরঙ্গ ছবি।
১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ৩৬ বছর বয়সী মনরোর মৃতদেহ। আজীবন বিষণ্ণতা, একাকীত্ব আর ঘুমের ওষুধের আসক্তিতে ভোগা এই অভিনেত্রীর শেষ দিনগুলো কেমন ছিল? আলোকচিত্রী জর্জ ব্যারিসের তোলা এই শেষ ছবিগুলো যেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরিলিনের গল্প বলে। সমুদ্রের নুড়ি-বালিতে গড়াগড়ি খাওয়া, গায়ে জড়িয়ে থাকা সবুজ তোয়ালে কিংবা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আলতো করে ছুঁড়ে দেওয়া একটি ফ্লাইং কিস— প্রতিটি ছবিতে মনরোকে দেখা গেছে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে থাকতে।
প্রদর্শনীর কিউরেটর রোজ ব্রডলি জানান, এই ছবিগুলো মনরোর জীবনের এক নির্মম বৈপরীত্যকে তুলে ধরে। একদিকে পেশাগত জীবনে তাকে টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তৃতীয় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কষ্ট ছিল, অন্যদিকে ক্যামেরার সামনে তিনি ছিলেন একদম সাবলীল ও দুশ্চিন্তামুক্ত।
আলোকচিত্রী জর্জ ব্যারিস মনরোর এই প্রাণবন্ত রূপ দেখে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে, তিনি মনরোর আত্মহত্যার খবর কোনোদিনই বিশ্বাস করতে পারেননি। মনরোর মৃত্যুর পর কসমোপলিটান পত্রিকা এই ছবিগুলো প্রকাশ না করলেও, পরবর্তীতে ব্রিটিশ ম্যাগাজিনগুলোতে এটি প্রকাশিত হয় এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এই প্রদর্শনীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো মনরোর নিজস্ব এডিটিং স্টাইল। তখনকার দিনে সিনেমার পরিচালকদের ওপর মনরোর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তাই আলোকচিত্রীদের সাথে বসে নিজের ছবির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতেন তিনি। হেয়ারপিন বা চুলের কাঁটা দিয়ে স্ক্র্যাচ করে বা কেটে দিয়ে তিনি নিজের অপছন্দের ছবিগুলো বাতিল করতেন, আর পছন্দের ছবির ওপর লিখতেন ‘গুড’। তার এই কেটে দেওয়া ছবিগুলোই এখন প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ, যা মনরোর ভেতরের এক অদ্ভুত মানসিক দ্বন্দ্বকে ফুটিয়ে তোলে।
জীবনের শেষ ফটোশুটে মনরো নিজেই বলেছিলেন ‘এটাই আমি, মুখের দাগ-ফ্রিকলসহ একদম আসল আমি।’ শত বছর পেরিয়েও সেই আসল মেরিলিন মনরো আজও একইভাবে রহস্য আর মুগ্ধতায় বন্দি করে রেখেছেন বিশ্ববাসীকে।
সূত্রঃ বিবিসি









