পিটের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ‘লড়াইয়ের মানসিকতা’ হারিয়ে ফেলেন জোলি

সংগৃহীত ছবি
হলিউডের ইতিহাসে ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিচ্ছেদকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং মানসিক খেসারত দেওয়া ডিভোর্স কেস হিসেবে ধরা হয়। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াই ২০২৬ সালে এসেও সম্পত্তির অধিকার এবং সন্তানদের কাস্টডি নিয়ে ডেস্কে ঝুলছে।
এই দীর্ঘ ১০ বছরের ট্রমা যে ‘লারা ক্রফ্ট’ খ্যাত জোলির ভেতরের ইস্পাতকঠিন মানসিকতাকে একসময় ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল, ভ্যারাইটির এক ইন্টারভিউতে তা স্পষ্ট। তবে এবার আর লুকিয়ে থাকা নয়, ৪৯ বছর বয়সী এই অস্কারজয়ী তারকা ঘোষণা দিয়েছেন, তার ভেতরের বাঘিনী আবার জেগে ওঠেছে।
জোলি-পিট দম্পতির ছয় সন্তানের (ম্যাডক্স, প্যাক্স, জহারা, শাইলো, নক্স এবং ভিভিয়েন) মধ্যে প্রায় সবাই এখন ১৮ বছর পার করে প্রাপ্তবয়স্ক। সাম্প্রতিক সময়ে শাইলো এবং জাহারার নিজেদের নাম থেকে ‘পিট’ পদবি বাদ দিয়ে আইনিভাবে শুধু ‘জোলি’ রাখার সিদ্ধান্ত বিশ্ব জুড়ে হেডলাইন হয়েছিল।
এই সাক্ষাৎকারে জোলি স্পষ্ট করলেন যে মায়ের একাকিত্ব ও ট্রমা সবচেয়ে ভালো বুঝেছে তার সন্তানরাই। এত বছর ঘরবন্দি এবং সন্তানদের দেখভালে ব্যস্ত থাকার পর, এখন জেইড বা ভিভিয়েনের মতো সন্তানরাই জোলিকে বলছেন, ‘মা, এবার তোমার বিশ্বজয়ের এবং নিজের স্বাধীন জীবন বাঁচার সময় এসেছে।’
পরিচালক অ্যালিস উইনোকুরের ‘কুতুর’ সিনেমাটি জোলির জন্য কোনো সাধারণ প্রজেক্ট নয়, এটি তার এক ধরণের থেরাপি। ছবির মূল চরিত্র ‘ম্যাক্সিন’ একজন সিঙ্গেল মাদার, যে একদিকে ডিভোর্সের মামলা লড়ছে, ফ্রেঞ্চ ফ্যাশন হাউজের কোটি টাকার চাপ সামলাচ্ছে এবং একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
বাস্তব জীবনেও জোলি একজন সফল পরিচালক এবং একজন সিঙ্গেল মাদার। ফলে এই চরিত্রে জোলির অভিনয় ডিরেক্টরের মতে, মেথড অ্যাক্টিংয়ের চেয়েও বেশি জোলির নিজের জীবনের যন্ত্রণার এক লাইভ ডকুমেন্টারি।
জোলির এই বক্তব্যটি বিশ্ব জুড়ে সিঙ্গেল মাদারদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। হলিউডের গ্ল্যামার, মিডিয়া ট্রায়াল এবং ব্র্যাড পিটের সঙ্গে ডোমিন ডি মিরাভ নিয়ে চলা কাদা-ছোড়াছুড়ির মধ্যেও তিনি সন্তানদের যেভাবে মানুষ করেছেন, তার ফল তিনি পাচ্ছেন।
জোলির কথায়, ‘সন্তানরা মায়ের অন্ধকার দিকগুলোও সবচেয়ে কাছ থেকে দেখে। তারপরেও তারা যখন মাকে শ্রদ্ধা করে, তখন জীবনের আর কোনো স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না।’
‘ম্যালেফিসেন্ট’ বা ‘ইটারনালস’-এর মতো কমার্শিয়াল সিনেমার পর, জোলি এখন অনেক বেশি রিয়েলিস্টিক এবং গভীর মনস্তাত্ত্বিক ফরাসি-ইংরেজি চলচ্চিত্রে মন দিচ্ছেন। ‘কুতুর’ সিনেমার মাধ্যমে জোলি কান বা ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের রেড কার্পেটে তার সেই চেনা ওল্ড-হলিউড গ্ল্যামার এবং অপ্রতিরোধ্য ‘ফাইটিং স্পিরিট’ নিয়ে ফিরবেন, এই প্রত্যাশায় এখন দিন গুনছেন তার কোটি কোটি ভক্ত।





