জেন্ডায়াকে বিয়ে করে ফেলেছেন টম হল্যান্ড!

টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়া
হলিউডের ভেতরের খবর বা সিনেমার স্ক্রিপ্ট স্পয়লার দেওয়ার জন্য টম হল্যান্ডের বেশ দুর্নাম রয়েছে। মার্ভেলের কোনো প্রজেক্টের সিক্রেট তিনি ধরে রাখতে পারেন না এটি এক ইউনিভার্সাল ট্রুথ। তবে এবার তিনি যে স্পয়লারটি দিলেন, তা কোনো সিনেমার প্লট নয়, বরং তার নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত জীবনের সত্য! গত চার মাস ধরে চলা তীব্র লুকোচুরির অবসান ঘটিয়ে ২৯ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ তারকা অবশেষে স্বীকার করে নিলেন যে জেন্ডায়াই এখন তার অফিশিয়াল ‘মিসেস হল্যান্ড’।
মার্চ মাসে যখন নেটদুনিয়ায় ইতালির লেক কোমোতে টম ও জেন্ডায়ার বিয়ের কিছু হাই-ডেফিনিশন এআই-জেনারেটেড ছবি ভাইরাল হয়, তখন জেন্ডায়া জিমি কিমেলের শো-তে এসে হেসে বলেছিলেন, ‘এগুলো সব ফেক, আমার আত্মীয়রাই আমাকে গালমন্দ করছে যে আমরা কেন তাদের নেমন্তন্ন করলাম না!’ কিন্তু এস্কয়ার ম্যাগাজিনের জুলাই/আগস্ট সংস্করণের কভার স্টোরির জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক যখন টমকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ঠাকুমার মতো অন্য আত্মীয়দেরও কি বোঝাতে হয়েছিল যে ছবিগুলো নকল?’ টম একটু হেসে উত্তর দেন, ‘না, বোঝাতে হয়নি। কারণ (আসল বিয়েতে) তারা সবাই সেখানেই উপস্থিত ছিল।’
যখন সাংবাদিক অবাক হয়ে বলেন, ‘তার মানে বিয়েটা সত্যি হয়ে গেছে?’ টম অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘ব্যাস, এই বিষয়ে আপনি এটুকুই জানতে পারবেন।’
২০২৫-এর গোল্ডেন গ্লোবসে জেন্ডায়ার হিরের আংটি এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বেভারলি হিলসে তাঁর বাম হাতের অনামিকায় সোনার ব্যান্ড দেখার পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল। মার্চ মাসে জেন্ডায়ার আইকনিক স্টাইলিস্ট ল রচ অস্কারের রেড কার্পেটে দাঁড়িয়ে সরাসরি মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘তোমরা অনেক দেরি করে ফেলেছ, বিয়েটা অলরেডি হয়ে গেছে এবং এটা ১০০% সত্যি।’ টমের এই এস্কয়ারের ইন্টারভিউ প্রমাণ করল যে ল রচ কোনো ফাজিলমি করেননি, বরং একদম সত্যি খবরটাই শেয়ার করেছিলেন।
বিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত ডিটেইলস শেয়ার না করলেও, জেন্ডায়াকে নিজের জীবনের ‘বেডরক’ বা শক্ত ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন টম হল্যান্ড। তিনি আবেগঘন হয়ে বলেছেন, ‘আমাদের এই শো-বিজনেস ইন্ডাস্ট্রি প্রচণ্ড মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। সেখানে এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া যে আপনার জীবনটাকে আপনার মতোই বোঝে, তা এক পরম বিলাসিতা। জেন্ডায়ার সাথে থাকার সময় আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ এবং ও আমার সেরা বন্ধু।’
২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া এই দুই তারকা ২০১৬ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’ সেটে প্রথম বন্ধু হিসেবে পথ চলা শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ এক দশকের সেই নিখাদ বন্ধুত্ব ও প্রেম অবশেষে ২০২৬ সালে এসে ছাদনাতলায় পূর্ণতা পেল। রূপালী পর্দার পিটার ও এমজে-র এই বাস্তব জীবনের হ্যাপি এন্ডিংয়ে এখন মেতে রয়েছে গোটা বিশ্ব।





