শতবর্ষে হলিউডের ‘মুভি গডফাদার’ জিন শ্যালিতের বিদায়

জিন শ্যালিত
হলিউড সিনেমা বা তারকাদের নিয়ে সমালোচনা তো অনেকেই করেন, কিন্তু সমালোচনার মাঝেও যে এক অদ্ভুত মেধা, শব্দের মারপ্যাঁচ আর নিখাদ আনন্দ লুকিয়ে রাখা যায় তা বিশ্ববাসীকে শিখিয়েছিলেন তিনি। চশমার মোটা ফ্রেম, গলার সেই সিগনেচার পোলকা-ডট বো-টাই আর মুখের চওড়া হাসির ওপর ঘন গোঁফ, কেবল চেহারাতেই নয়, নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় যিনি দশকের পর দশক মাতিয়ে রেখেছিলেন আমেরিকার টেলিভিশন পর্দা সেই কিংবদন্তি চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক জিন শ্যালিত পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
১০০ বছরের এক বর্ণিল ও পূর্ণাঙ্গ জীবন শেষে তার এই বিদায় বিনোদন সাংবাদিকতার জগতে একটি যুগের অবসান ঘটাল।
১৯৭০ থেকে ২০১০— দীর্ঘ ৪০ বছর এনবিসি নেটওয়ার্কের বিখ্যাত ‘দ্য টুডে শো’-এর প্রাণ ছিলেন জিন শ্যালিত। তার ‘ক্রিটিকস কর্নার’ দেখার জন্য সকাল সকাল টিভির সামনে বসে থাকত লাখো পরিবার। তার রিভিউ কোনো জটিল তত্ত্বের মারপ্যাঁচ ছিল না; বরং তা ছিল স্যাটায়ার, হিউমার আর সিনেমার আসল রস চিপে বের করার এক দারুণ কৌশল। কোনো সিনেমা ভালো লাগলে যেমন প্রশংসায় ভাসাতেন, তেমনই খারাপ লাগলে নিজের চতুর শব্দের বাণে জর্জরিত করতেও ছাড়তেন না।
স্টিভেন স্পিলবার্গ থেকে শুরু করে স্টার ওয়ার্স-এর হ্যারিসন ফোর্ড কিংবা ক্যারি ফিশার— হলিউডের হেন কোনো বড় নাম নেই যিনি জিনের চশমা পরা তীক্ষ্ণ চোখের মুখোমুখি হননি। সমসাময়িক সাংবাদিকরা জানান, জিনের প্রশ্ন করার ধরণ ছিল এতই আপন ও সাবলীল যে, কড়া কড়া হলিউড তারকারাও ক্যামেরার সামনে অনায়াসে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপন কথা বা আবেগ প্রকাশ করে ফেলতেন।
টিভি পর্দায় আসার আগে ‘লুক ম্যাগাজিন’-এর প্রধান সমালোচক হিসেবে কলম ধরেছিলেন জিন। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক টাইমস বা টিভি গাইডের মতো নামী পত্রিকায় তার লেখা কলামগুলো ছিল চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। ২০০২ সালে হলিউডের সেরা সব রসিকতা নিয়ে তার লেখা সংকলন ‘গ্রেট হলিউড উইট’ বেশ সাড়া ফেলেছিল। অবসরের পর আলসেমি বা দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ‘প্রোক্রাস্টিনেশন ইজ আ ফুল টাইম জব’ নামের একটি বই লেখার ইচ্ছে থাকলেও, তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
চলতি বছরের শুরুর দিকেই যখন এই জাদুকরী মানুষটি জীবনের ১০০ বছর পূর্ণ করেছিলেন, তখন পুরো হলিউড তাকে ভালোবাসায় সিক্ত করেছিল। আজ তার চলে যাওয়াতে হলিউডের সিনেমার রঙিন পর্দা যেন কিছুটা হলেও তার উজ্জ্বলতা হারাল। বিদায়, শব্দের জাদুকর!





